চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি ২৪ ঘণ্টায় ৬ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে এতে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত পদ্মার পানি কমলেও নিচু এলাকার পাঁচটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ অংশ এখনো পানির নিচে রয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন।
পদ্মার পানি কমলেও অন্য দুই নদীতে বাড়ছে
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) চাঁপাইনবাবগঞ্জ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত পদ্মার পানি ৬ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
তবে জেলার অন্য দুই প্রধান নদী মহানন্দা ও পুনর্ভবার পানি বেড়েছে। একই সময়ে মহানন্দার পানি ৩ সেন্টিমিটার এবং পুনর্ভবার পানি ৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। মহানন্দা বিপৎসীমার ১ দশমিক ০২ মিটার এবং পুনর্ভবা ১ দশমিক ৯৮ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ফলে পদ্মার পানি কমার ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিলেও অন্যান্য নদীতে পানি বাড়তে থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতি এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

পাঁচ ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত
উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ এবং তিন নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও আলাতুলি ইউনিয়ন এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়।
এতে প্রায় ৪ হাজার ৩৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এখনো এসব এলাকার অনেক মানুষকে জলাবদ্ধতা ও বন্যার পানির মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে। কয়েক হাজার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
পরিস্থিতি উন্নতিতে আরও তিন দিন লাগতে পারে
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবিব জানিয়েছেন, বর্তমান পানি পরিস্থিতি আরও তিন দিন স্থিতিশীল থাকলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হতে পারে।
অর্থাৎ পদ্মার পানি কমার বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে বন্যার দুর্ভোগ কাটছে না। নদীগুলোর পানি কোন দিকে যায় এবং আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল থাকে, তার ওপর প্লাবিত এলাকার পরিস্থিতির উন্নতি অনেকটাই নির্ভর করছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















