চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের উদ্ধার করা ১০ বাংলাদেশিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার রাতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের পর তাদের হস্তান্তর করা হয়।
রাত ১০টার দিকে ফরিদপুর সীমান্তে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠক শেষে বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিজিবি তাদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেয়।
উদ্ধার ১০ জনকে হস্তান্তর
৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পদ্মায় নৌকাডুবির পর ভারতীয় সীমান্তের খন্দুয়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ১০ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে তারা বিষয়টি বিজিবিকে অবহিত করেন।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—রুসেল (২৬), ইব্রাহিম (৫০), সওদাগর (৪০), ইব্রাহিম (৬০), সাখিনা (৪৫), নিলুফা (৩৫), তানিয়া (২২), তার ২০ দিনের শিশুসন্তান, সানাউল্লাহ (৯) ও আল আমিন (৯)। তারা সবাই সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জহুরপুর বকরিপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
যেভাবে ঘটল নৌকাডুবি
শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি বাখেরআলী ঘাট থেকে জহুরপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রা শুরুর প্রায় ২০ মিনিট পর প্রবল বাতাস ও নদীতে তীব্র স্রোতের মধ্যে নৌকাটি ডুবে যায়।
নৌকাডুবির খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এদিকে টহলরত বিএসএফ সদস্যরা ১০ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে ভারতের ভূখণ্ডে নিয়ে যান। পরে বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবিকে উদ্ধার অভিযানের বিষয়টি জানানো হয়।
একজন সাঁতরে ফিরলেও নিখোঁজ একজন
নৌকায় থাকা আরও দুই যাত্রীর মধ্যে ২৫ বছর বয়সী ওয়াসিম সাঁতরে বাংলাদেশি ভূখণ্ডে ফিরে আসতে সক্ষম হন। তবে ৬০ বছর বয়সী মোস্তফা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
নৌকাডুবির পর উদ্ধার হওয়া ১০ বাংলাদেশিকে শনিবার রাতেই পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাদের স্বজনদের সঙ্গে পুনর্মিলন করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















