১১:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুর্নীতির অভিযোগে ইউক্রেনের প্রধান কৌঁসুলির পদত্যাগ মেক্সিকোয় অস্ট্রেলীয় দুই সার্ফার ভাই হত্যার বিচার শুরু পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য পরোক্ষ ধূমপানে বছরে প্রাণ হারাচ্ছেন প্রায় ১৭ লাখ মানুষ ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে কূটনৈতিক তৎপরতায় বিশ্বমঞ্চে প্রভাব বাড়াচ্ছেন শি জিনপিং চীনের স্কুলে ইংরেজির গুরুত্ব কমানো হবে? নতুন করে বিতর্ক তুঙ্গে ক্যানসারের চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তবে চিপ সংকটে ধীর হচ্ছে অগ্রগতি চাকরি পেতে এখন মঞ্চে উঠেও লড়তে হচ্ছে, নিয়োগে জনপ্রিয় হচ্ছে প্রতিযোগিতার নতুন কৌশল রঙিন ডোরা আর রাবারের মুরগি—যেভাবে ফ্যাশন দুনিয়া জয় করলেন পল স্মিথ জার্মানির রাজনীতিতে বড় ধাক্কা, ক্ষমতার পথে উগ্র ডানপন্থী এএফডি

চীন-আমেরিকা বৈঠক ঘিরে উদ্বেগ, বিশ্ব নেতৃত্বে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

চীন ও আমেরিকার সম্পর্ক আবারও বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠককে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও উদ্বেগ। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা, তাইওয়ান ইস্যু এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি—সবকিছুই এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক থেকে বড় কোনো সমাধান আসার সম্ভাবনা কম। বরং দুই দেশ এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে তারা একে অপরকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার ক্ষমতা রাখে। ফলে সম্পর্কের মধ্যে সহযোগিতার চেয়ে ভয় ও চাপের রাজনীতি বেশি কাজ করছে।

বাণিজ্য যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা

গত কয়েক বছরে চীন ও আমেরিকার মধ্যে শুল্ক আরোপ ও পাল্টা শুল্কের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একপর্যায়ে দুই দেশ একে অপরের পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপ করেছিল। পরে কিছুটা ছাড় দেওয়া হলেও সম্পর্ক এখনো অস্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছে।

চীন বিরল খনিজ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈশ্বিক শিল্পে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে আমেরিকা উচ্চপ্রযুক্তি পণ্য ও আর্থিক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে চীনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। এই পরিস্থিতিকে অনেকেই “পারস্পরিক দুর্বলতার ভারসাম্য” হিসেবে দেখছেন।

উত্তেজনা বাড়ছে চীন ও আমেরিকার | ডিএমপি নিউজ

তাইওয়ান ইস্যুতে বাড়ছে শঙ্কা

চীন-আমেরিকা সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি হলো তাইওয়ান। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই দ্বীপটিকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে আমেরিকা তাইওয়ানকে সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, বাণিজ্যে কিছু সুবিধার বিনিময়ে চীন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে তাইওয়ান ইস্যুতে নমনীয় অবস্থান আশা করছে। তবে এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে তাইওয়ানের গুরুত্ব বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইরান ও ইউক্রেন প্রসঙ্গেও চাপ

চলমান বৈশ্বিক সংঘাত নিয়েও দুই নেতার আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ এখনো তীব্র। চীন একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে।

China's Xi reasserts Taiwan stance in call with Trump, while U.S. president  pushes trade

তবে সমালোচকদের মতে, বিশ্ব নিরাপত্তা নিয়ে কার্যকর নেতৃত্ব দেওয়ার বদলে দুই দেশই নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগী। ফলে যুদ্ধ ও সংঘাত নিরসনে বড় কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

সহযোগিতার বদলে প্রতিযোগিতা

একসময় জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি প্রতিরোধ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো বিষয়ে চীন ও আমেরিকার মধ্যে কিছু সহযোগিতা ছিল। কিন্তু এখন সেই ক্ষেত্রগুলোও সংকুচিত হয়ে এসেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা—সবখানেই প্রতিযোগিতা ও অবিশ্বাস বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই দেশের নেতারা যদি শুধু আধিপত্যের রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে বিশ্ব এখন কার্যকর নেতৃত্বের বদলে দুই পরাশক্তির পারস্পরিক চাপ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে আটকে যাচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতির অভিযোগে ইউক্রেনের প্রধান কৌঁসুলির পদত্যাগ

চীন-আমেরিকা বৈঠক ঘিরে উদ্বেগ, বিশ্ব নেতৃত্বে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

১১:০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

চীন ও আমেরিকার সম্পর্ক আবারও বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠককে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও উদ্বেগ। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা, তাইওয়ান ইস্যু এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি—সবকিছুই এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক থেকে বড় কোনো সমাধান আসার সম্ভাবনা কম। বরং দুই দেশ এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে তারা একে অপরকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার ক্ষমতা রাখে। ফলে সম্পর্কের মধ্যে সহযোগিতার চেয়ে ভয় ও চাপের রাজনীতি বেশি কাজ করছে।

বাণিজ্য যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা

গত কয়েক বছরে চীন ও আমেরিকার মধ্যে শুল্ক আরোপ ও পাল্টা শুল্কের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একপর্যায়ে দুই দেশ একে অপরের পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপ করেছিল। পরে কিছুটা ছাড় দেওয়া হলেও সম্পর্ক এখনো অস্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছে।

চীন বিরল খনিজ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈশ্বিক শিল্পে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে আমেরিকা উচ্চপ্রযুক্তি পণ্য ও আর্থিক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে চীনের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। এই পরিস্থিতিকে অনেকেই “পারস্পরিক দুর্বলতার ভারসাম্য” হিসেবে দেখছেন।

উত্তেজনা বাড়ছে চীন ও আমেরিকার | ডিএমপি নিউজ

তাইওয়ান ইস্যুতে বাড়ছে শঙ্কা

চীন-আমেরিকা সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি হলো তাইওয়ান। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই দ্বীপটিকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে আমেরিকা তাইওয়ানকে সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, বাণিজ্যে কিছু সুবিধার বিনিময়ে চীন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে তাইওয়ান ইস্যুতে নমনীয় অবস্থান আশা করছে। তবে এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে তাইওয়ানের গুরুত্ব বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইরান ও ইউক্রেন প্রসঙ্গেও চাপ

চলমান বৈশ্বিক সংঘাত নিয়েও দুই নেতার আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ এখনো তীব্র। চীন একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে।

China's Xi reasserts Taiwan stance in call with Trump, while U.S. president  pushes trade

তবে সমালোচকদের মতে, বিশ্ব নিরাপত্তা নিয়ে কার্যকর নেতৃত্ব দেওয়ার বদলে দুই দেশই নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগী। ফলে যুদ্ধ ও সংঘাত নিরসনে বড় কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

সহযোগিতার বদলে প্রতিযোগিতা

একসময় জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি প্রতিরোধ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো বিষয়ে চীন ও আমেরিকার মধ্যে কিছু সহযোগিতা ছিল। কিন্তু এখন সেই ক্ষেত্রগুলোও সংকুচিত হয়ে এসেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা—সবখানেই প্রতিযোগিতা ও অবিশ্বাস বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই দেশের নেতারা যদি শুধু আধিপত্যের রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে বিশ্ব এখন কার্যকর নেতৃত্বের বদলে দুই পরাশক্তির পারস্পরিক চাপ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে আটকে যাচ্ছে।