০৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা যুদ্ধ থামছে না কেন? অপরাধ যখন ধর্মের পরিচয় পায় ঝলমলে শিল্পে আত্মভালোবাসার বার্তা দিচ্ছেন সারা শাকিল শতায়ু বাবা-মায়ের সন্তানদের আয়ু ও সুস্বাস্থ্যের সম্ভাবনা বেশি শিক্ষিত, দক্ষ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণদেরই ফাঁদে ফেলছে মানবপাচারকারীরা পাকিস্তান-রাশিয়া সম্পর্ক: অবহেলিত হলেও কেন বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ, সুযোগ নিয়ে থাকছে প্রশ্ন গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য, জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে হচ্ছে না

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে ১.২ বিলিয়ন মানুষ: দ্রুত উন্নয়ন ও অভিযোজন প্রয়োজন

  • Sarakhon Report
  • ০৬:৫০:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৪
  • 142

সারাক্ষণ ডেস্ক

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১.২ বিলিয়ন মানুষ তীব্র ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাপপ্রবাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং খরার মতো বিভিন্ন জলবায়ু বিপর্যয়ে তাদের জীবনপ্রবাহ বিপর্যস্ত হতে পারে। তবে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের একটি নতুন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে দ্রুত ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এই ঝুঁকির পরিমাণ হ্রাস করতে পারে।

প্রতিবেদনটি, “রাইজিং টু দ্য চ্যালেঞ্জ: সাকসেস স্টোরিজ অ্যান্ড স্ট্রাটেজিস ফর অ্যাচিভিং ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স”, বলছে যে জনগণ ও সম্প্রদায়কে সুরক্ষিত রাখতে দ্রুত উন্নয়ন, উন্নত মানের উন্নয়ন এবং নির্দিষ্ট অভিযোজনমূলক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্থিতিশীলতা গড়ে তোলার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। জিডিপি প্রতি ব্যক্তির আয়ে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি আনুমানিক ১০ কোটি ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সংখ্যা হ্রাস করতে পারে। তাই আয় বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ, তবে এর পাশাপাশি জলবায়ু সংবেদনশীল নীতিমালার প্রয়োগও অপরিহার্য।

প্রতিবেদনটি প্রতিটি দেশের ভিন্ন পরিস্থিতির ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরে। উন্নত দেশগুলোকে তাদের বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নত করতে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যেখানে নিম্ন-আয়ের দেশগুলোর জন্য অবকাঠামো নির্মাণ শুরু থেকেই টেকসই করতে হবে।

জলবায়ু অভিযোজন উদ্যোগ

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন সব দেশকেই প্রভাবিত করবে, তবে এটি দরিদ্র দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। তাই আমরা খাদ্য ও কৃষি, পানি, জীববৈচিত্র্য, অবকাঠামো, সামাজিক সুরক্ষা, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং জীবিকার ক্ষেত্রে দ্বিগুণ উদ্যোগ নিচ্ছি।”

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ জলবায়ু অভিযোজনের অংশ হিসেবে সম্প্রদায়গুলোকে জলবায়ু বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা, প্রাথমিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, বীমা সুবিধা বৃদ্ধি এবং দ্রুত সংকট মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সহায়তা করছে। প্রথমবারের মতো, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ একটি নতুন কর্পোরেট স্কোরকার্ডের মাধ্যমে জলবায়ু উদ্যোগের অগ্রগতি পরিমাপ করছে, যা দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং একটি বাসযোগ্য পৃথিবীতে সমৃদ্ধি বৃদ্ধির তাদের মিশনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

অভিযোজন ও রেজিলিয়েন্সের সফল উদাহরণ

প্রতিবেদনে উল্লেখিত ইতিবাচক উদাহরণগুলো—যা জনসাধারণ এবং ব্যক্তিগত খাতে ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে—জীবন বাঁচাতে এবং সম্প্রদায়গুলোকে উন্নত করতে সাহায্য করছে।

  • ভারত: আহমেদাবাদের তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় তাপ কর্ম পরিকল্পনা, যা প্রাথমিক সতর্কতা, স্বাস্থ্য কর্মীদের সক্রিয়করণ এবং সচেতনতা প্রচারণার মাধ্যমে দুই বছরে ২,০০০ তাপজনিত মৃত্যু প্রতিরোধ করেছে।
  • নাইজার: খরার সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা প্রদান করে খাদ্য নিরাপত্তা ৮ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে এবং জীবনযাত্রার মান ১৮ শতাংশ উন্নত করেছে।

  • বাংলাদেশ: কৃষকদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ব্যবহারে সহায়তা করে খারাপ আবহাওয়ার কারণে ফসল ক্ষতি ৭৫ শতাংশ কমিয়েছে।
  • ব্রাজিল থেকে আলবেনিয়া: প্রাইভেট কোম্পানিগুলো জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনা করে প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানে বিনিয়োগ করছে, যা বিদ্যুৎ সেবা টেকসই রাখছে।

এই উদাহরণগুলো দেখায় যে, সঠিক নীতিমালা এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে জলবায়ু অভিযোজন কৌশল কার্যকর হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় জনসাধারণকে সঠিক তথ্য জানিয়ে সম্পৃক্ত করা হলে এটি আরও সফল এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে ১.২ বিলিয়ন মানুষ: দ্রুত উন্নয়ন ও অভিযোজন প্রয়োজন

০৬:৫০:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৪

সারাক্ষণ ডেস্ক

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১.২ বিলিয়ন মানুষ তীব্র ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তাপপ্রবাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং খরার মতো বিভিন্ন জলবায়ু বিপর্যয়ে তাদের জীবনপ্রবাহ বিপর্যস্ত হতে পারে। তবে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের একটি নতুন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে দ্রুত ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এই ঝুঁকির পরিমাণ হ্রাস করতে পারে।

প্রতিবেদনটি, “রাইজিং টু দ্য চ্যালেঞ্জ: সাকসেস স্টোরিজ অ্যান্ড স্ট্রাটেজিস ফর অ্যাচিভিং ক্লাইমেট অ্যাডাপটেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স”, বলছে যে জনগণ ও সম্প্রদায়কে সুরক্ষিত রাখতে দ্রুত উন্নয়ন, উন্নত মানের উন্নয়ন এবং নির্দিষ্ট অভিযোজনমূলক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্থিতিশীলতা গড়ে তোলার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। জিডিপি প্রতি ব্যক্তির আয়ে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি আনুমানিক ১০ কোটি ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সংখ্যা হ্রাস করতে পারে। তাই আয় বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ, তবে এর পাশাপাশি জলবায়ু সংবেদনশীল নীতিমালার প্রয়োগও অপরিহার্য।

প্রতিবেদনটি প্রতিটি দেশের ভিন্ন পরিস্থিতির ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরে। উন্নত দেশগুলোকে তাদের বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নত করতে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যেখানে নিম্ন-আয়ের দেশগুলোর জন্য অবকাঠামো নির্মাণ শুরু থেকেই টেকসই করতে হবে।

জলবায়ু অভিযোজন উদ্যোগ

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবার্গ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন সব দেশকেই প্রভাবিত করবে, তবে এটি দরিদ্র দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। তাই আমরা খাদ্য ও কৃষি, পানি, জীববৈচিত্র্য, অবকাঠামো, সামাজিক সুরক্ষা, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং জীবিকার ক্ষেত্রে দ্বিগুণ উদ্যোগ নিচ্ছি।”

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ জলবায়ু অভিযোজনের অংশ হিসেবে সম্প্রদায়গুলোকে জলবায়ু বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা, প্রাথমিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, বীমা সুবিধা বৃদ্ধি এবং দ্রুত সংকট মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সহায়তা করছে। প্রথমবারের মতো, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ একটি নতুন কর্পোরেট স্কোরকার্ডের মাধ্যমে জলবায়ু উদ্যোগের অগ্রগতি পরিমাপ করছে, যা দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং একটি বাসযোগ্য পৃথিবীতে সমৃদ্ধি বৃদ্ধির তাদের মিশনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

অভিযোজন ও রেজিলিয়েন্সের সফল উদাহরণ

প্রতিবেদনে উল্লেখিত ইতিবাচক উদাহরণগুলো—যা জনসাধারণ এবং ব্যক্তিগত খাতে ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে—জীবন বাঁচাতে এবং সম্প্রদায়গুলোকে উন্নত করতে সাহায্য করছে।

  • ভারত: আহমেদাবাদের তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় তাপ কর্ম পরিকল্পনা, যা প্রাথমিক সতর্কতা, স্বাস্থ্য কর্মীদের সক্রিয়করণ এবং সচেতনতা প্রচারণার মাধ্যমে দুই বছরে ২,০০০ তাপজনিত মৃত্যু প্রতিরোধ করেছে।
  • নাইজার: খরার সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা প্রদান করে খাদ্য নিরাপত্তা ৮ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে এবং জীবনযাত্রার মান ১৮ শতাংশ উন্নত করেছে।

  • বাংলাদেশ: কৃষকদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ব্যবহারে সহায়তা করে খারাপ আবহাওয়ার কারণে ফসল ক্ষতি ৭৫ শতাংশ কমিয়েছে।
  • ব্রাজিল থেকে আলবেনিয়া: প্রাইভেট কোম্পানিগুলো জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনা করে প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানে বিনিয়োগ করছে, যা বিদ্যুৎ সেবা টেকসই রাখছে।

এই উদাহরণগুলো দেখায় যে, সঠিক নীতিমালা এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে জলবায়ু অভিযোজন কৌশল কার্যকর হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় জনসাধারণকে সঠিক তথ্য জানিয়ে সম্পৃক্ত করা হলে এটি আরও সফল এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।