১১:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা যুদ্ধ থামছে না কেন? অপরাধ যখন ধর্মের পরিচয় পায় ঝলমলে শিল্পে আত্মভালোবাসার বার্তা দিচ্ছেন সারা শাকিল শতায়ু বাবা-মায়ের সন্তানদের আয়ু ও সুস্বাস্থ্যের সম্ভাবনা বেশি শিক্ষিত, দক্ষ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণদেরই ফাঁদে ফেলছে মানবপাচারকারীরা পাকিস্তান-রাশিয়া সম্পর্ক: অবহেলিত হলেও কেন বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ, সুযোগ নিয়ে থাকছে প্রশ্ন গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য, জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে হচ্ছে না

জীবনকে প্রস্ফুটিত করার পাঠ খুঁজে নিলেন এক পরামর্শক

মানুষের ভালো থাকার রহস্য কি কেবল সাফল্য, সম্পদ বা পরিকল্পনার ভেতরে লুকিয়ে আছে—নাকি তা জন্ম নেয় অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা, সম্পর্ক আর আত্মিক জাগরণ থেকে? নতুন এক গ্রন্থে জীবনকে অর্থপূর্ণ, আনন্দময় ও পরিপূর্ণ করে তোলার পথ খুঁজেছেন একজন করপোরেট পরামর্শক। বাস্তব জীবনের বিচিত্র ঘটনা, এমনকি ভয়াবহ খনি ধসের মতো ট্র্যাজেডিও সেখানে হয়ে উঠেছে বেঁচে থাকার গভীর শিক্ষা।

আত্মউন্নয়ন সাহিত্যের নতুন ধারা
বর্তমান সময়কে অনেকেই আত্মউন্নয়নমূলক বইয়ের স্বর্ণযুগ বলে মনে করেন। সুখী হওয়া, নিজেকে বদলে ফেলা কিংবা দৈনন্দিন জীবনে অর্থ খুঁজে পাওয়ার নানা উপায় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বই প্রকাশিত হচ্ছে। এই ধারার মধ্যেই নতুন গ্রন্থটি পাঠকদের আহ্বান জানায় জীবনের ভেতরে অর্থ, আনন্দ ও তৃপ্তি নির্মাণের শিল্প অনুশীলন করতে। নির্দিষ্ট নিয়ম মানার পরামর্শ না দিয়ে লেখক বরং ছেড়ে দিতে বলেন নিয়ন্ত্রণের বোধ, যাতে মানুষ নিজেই আবিষ্কার করতে পারে তার ভেতরের সম্ভাবনা।

সংযোগ হারানো আধুনিক সমাজ
প্রযুক্তিনির্ভর দ্রুতগতির জীবনে মানুষ ক্রমেই একাকী হয়ে পড়ছে। লেখকের মতে, মানুষের অর্থপূর্ণ সংযোগ তৈরির ক্ষমতা হারিয়ে যায়নি; বরং আমরা সরে গেছি সেই পরিবেশ থেকে যেখানে এমন সংযোগ জন্ম নিতে পারে। তাই তিনি খুঁজেছেন ভিন্ন ভিন্ন সময় ও স্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা, যেখানে মানুষ হঠাৎ করেই অনুভব করেছে প্রাণবন্ততা, সহমর্মিতা ও সম্মিলিত শক্তি।

খনি ধসের অন্ধকারে মানবিক আলো
দক্ষিণ আমেরিকার একটি ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনায় বহু শ্রমিক দীর্ঘদিন মাটির নিচে আটকা পড়েছিলেন। উদ্ধারকারীরা যোগাযোগ স্থাপনের আগ পর্যন্ত বাইরের পৃথিবী ভেবেছিল ভেতরে হয়তো অপেক্ষা করছে উন্মাদনা ও মৃত্যুর দৃশ্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। শ্রমিকেরা শান্ত, সংযত এবং পরস্পরের খোঁজখবর নিতে ব্যস্ত। নেতৃত্বহীন সেই পরিস্থিতিতে প্রত্যেকে নিজ দায়িত্ব গ্রহণ করেন, খাদ্য ভাগ করে নেন, আতঙ্কিত সহকর্মীকে সাহস জোগান। এই পারস্পরিক সংযোগ ও বিশ্বাসই তাদের টিকিয়ে রাখে। সংকটের মাঝেও এমন মানবিক বিকাশকেই লেখক দেখেন প্রকৃত প্রস্ফুটন হিসেবে।

অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের গল্প
ইউরোপের এক নিস্তেজ পাড়ায় দুই বাসিন্দার হঠাৎ সিদ্ধান্ত—রাস্তার পাথর সরিয়ে ছোট বাগান তৈরি—ক্রমে পুরো এলাকার রূপ বদলে দেয়। ফুলে ভরে ওঠে আশপাশ, শুরু হয় খেলাধুলার জায়গা গড়া ও সমবেত কর্মকাণ্ড। পরিকল্পনাহীন এই উদ্যোগ মানুষের সুপ্ত সক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলে এবং সম্প্রদায়ের ভেতরে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। লেখকের মতে, অনেক প্রস্ফুটনই এমন স্বতঃস্ফূর্ততা থেকে জন্ম নেয়।

একাকী মানুষের জন্যও সম্ভাবনা
সব মানুষ দলবদ্ধ নন, কেউ কেউ নিঃসঙ্গ জীবনেই স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পান। তবু তাদের জন্যও রয়েছে আত্মিক বিকাশের পথ। প্রতিদিন ভোরে মনের ভাবনা লিখে ফেলার অভ্যাসের কথা উল্লেখ করে লেখক বলেন, এটি এমন এক অনুশীলন যা মানুষকে নিয়ন্ত্রণের চাপ থেকে মুক্ত করে বৃহত্তর কোনো সত্তার সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে সাহায্য করে। সেই সংযোগ ঈশ্বর, সৃজনশীল অনুপ্রেরণা কিংবা নিজের অবচেতন—যাই হোক না কেন—মানুষকে এনে দেয় উপস্থিতি, সচেতনতা ও অর্থপূর্ণ সম্পর্কের অনুভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা

জীবনকে প্রস্ফুটিত করার পাঠ খুঁজে নিলেন এক পরামর্শক

০৪:০০:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মানুষের ভালো থাকার রহস্য কি কেবল সাফল্য, সম্পদ বা পরিকল্পনার ভেতরে লুকিয়ে আছে—নাকি তা জন্ম নেয় অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা, সম্পর্ক আর আত্মিক জাগরণ থেকে? নতুন এক গ্রন্থে জীবনকে অর্থপূর্ণ, আনন্দময় ও পরিপূর্ণ করে তোলার পথ খুঁজেছেন একজন করপোরেট পরামর্শক। বাস্তব জীবনের বিচিত্র ঘটনা, এমনকি ভয়াবহ খনি ধসের মতো ট্র্যাজেডিও সেখানে হয়ে উঠেছে বেঁচে থাকার গভীর শিক্ষা।

আত্মউন্নয়ন সাহিত্যের নতুন ধারা
বর্তমান সময়কে অনেকেই আত্মউন্নয়নমূলক বইয়ের স্বর্ণযুগ বলে মনে করেন। সুখী হওয়া, নিজেকে বদলে ফেলা কিংবা দৈনন্দিন জীবনে অর্থ খুঁজে পাওয়ার নানা উপায় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বই প্রকাশিত হচ্ছে। এই ধারার মধ্যেই নতুন গ্রন্থটি পাঠকদের আহ্বান জানায় জীবনের ভেতরে অর্থ, আনন্দ ও তৃপ্তি নির্মাণের শিল্প অনুশীলন করতে। নির্দিষ্ট নিয়ম মানার পরামর্শ না দিয়ে লেখক বরং ছেড়ে দিতে বলেন নিয়ন্ত্রণের বোধ, যাতে মানুষ নিজেই আবিষ্কার করতে পারে তার ভেতরের সম্ভাবনা।

সংযোগ হারানো আধুনিক সমাজ
প্রযুক্তিনির্ভর দ্রুতগতির জীবনে মানুষ ক্রমেই একাকী হয়ে পড়ছে। লেখকের মতে, মানুষের অর্থপূর্ণ সংযোগ তৈরির ক্ষমতা হারিয়ে যায়নি; বরং আমরা সরে গেছি সেই পরিবেশ থেকে যেখানে এমন সংযোগ জন্ম নিতে পারে। তাই তিনি খুঁজেছেন ভিন্ন ভিন্ন সময় ও স্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা, যেখানে মানুষ হঠাৎ করেই অনুভব করেছে প্রাণবন্ততা, সহমর্মিতা ও সম্মিলিত শক্তি।

খনি ধসের অন্ধকারে মানবিক আলো
দক্ষিণ আমেরিকার একটি ভয়াবহ খনি দুর্ঘটনায় বহু শ্রমিক দীর্ঘদিন মাটির নিচে আটকা পড়েছিলেন। উদ্ধারকারীরা যোগাযোগ স্থাপনের আগ পর্যন্ত বাইরের পৃথিবী ভেবেছিল ভেতরে হয়তো অপেক্ষা করছে উন্মাদনা ও মৃত্যুর দৃশ্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। শ্রমিকেরা শান্ত, সংযত এবং পরস্পরের খোঁজখবর নিতে ব্যস্ত। নেতৃত্বহীন সেই পরিস্থিতিতে প্রত্যেকে নিজ দায়িত্ব গ্রহণ করেন, খাদ্য ভাগ করে নেন, আতঙ্কিত সহকর্মীকে সাহস জোগান। এই পারস্পরিক সংযোগ ও বিশ্বাসই তাদের টিকিয়ে রাখে। সংকটের মাঝেও এমন মানবিক বিকাশকেই লেখক দেখেন প্রকৃত প্রস্ফুটন হিসেবে।

অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের গল্প
ইউরোপের এক নিস্তেজ পাড়ায় দুই বাসিন্দার হঠাৎ সিদ্ধান্ত—রাস্তার পাথর সরিয়ে ছোট বাগান তৈরি—ক্রমে পুরো এলাকার রূপ বদলে দেয়। ফুলে ভরে ওঠে আশপাশ, শুরু হয় খেলাধুলার জায়গা গড়া ও সমবেত কর্মকাণ্ড। পরিকল্পনাহীন এই উদ্যোগ মানুষের সুপ্ত সক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলে এবং সম্প্রদায়ের ভেতরে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। লেখকের মতে, অনেক প্রস্ফুটনই এমন স্বতঃস্ফূর্ততা থেকে জন্ম নেয়।

একাকী মানুষের জন্যও সম্ভাবনা
সব মানুষ দলবদ্ধ নন, কেউ কেউ নিঃসঙ্গ জীবনেই স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পান। তবু তাদের জন্যও রয়েছে আত্মিক বিকাশের পথ। প্রতিদিন ভোরে মনের ভাবনা লিখে ফেলার অভ্যাসের কথা উল্লেখ করে লেখক বলেন, এটি এমন এক অনুশীলন যা মানুষকে নিয়ন্ত্রণের চাপ থেকে মুক্ত করে বৃহত্তর কোনো সত্তার সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে সাহায্য করে। সেই সংযোগ ঈশ্বর, সৃজনশীল অনুপ্রেরণা কিংবা নিজের অবচেতন—যাই হোক না কেন—মানুষকে এনে দেয় উপস্থিতি, সচেতনতা ও অর্থপূর্ণ সম্পর্কের অনুভব।