০৬:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

জ্বালানি দামের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতি চাপে, ঋণের বোঝায় সীমায় পৌঁছাচ্ছে সরকারগুলো

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি দামের তীব্র ঊর্ধ্বগতি এমন এক সময়ে আঘাত হেনেছে, যখন দেশগুলো আগে থেকেই বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত। ফলে সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমাতে সরকারগুলো বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও, এতে তাদের আর্থিক সক্ষমতা আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

ঋণের চাপে সংকুচিত রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা

বিশ্ব অর্থনীতি ইতোমধ্যেই শত ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সরকারি ঋণের ভার নিয়ে এই সংকটে প্রবেশ করেছে। অতীতে মহামারি বা আগের জ্বালানি সংকটের সময় যেভাবে সরকারগুলো বড় পরিসরে খরচ বাড়াতে পেরেছিল, এখন সেই সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে। সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় নতুন ঋণ নেওয়াও আগের চেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখন যেকোনো নীতি সিদ্ধান্তে কঠিন সমঝোতার প্রয়োজন হবে। একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।

Energy-Price Shock Hits a World Already Buried in Debt - WSJ

বিশ্বজুড়ে ত্রাণমূলক পদক্ষেপ

বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে জনগণকে স্বস্তি দিতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কোথাও জ্বালানি কর কমানো হয়েছে, কোথাও সরাসরি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। আবার কিছু দেশ জ্বালানির দামে সীমা নির্ধারণ করেছে।

এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে যেগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির উপর নির্ভরশীল, তারা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। ইউরোপেও কর আরোপ বা নগদ সহায়তার মতো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ সরকারগুলোর বাজেটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

মূল্যনিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি

অনেক দেশ জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরাসরি মূল্যসীমা নির্ধারণ করেছে। এতে স্বল্পমেয়াদে জনগণ কিছুটা স্বস্তি পেলেও, দীর্ঘমেয়াদে সরকারের ওপর বড় আর্থিক বোঝা তৈরি হচ্ছে। ইতিহাস বলছে, এমন নীতিতে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।

কিছু দেশে ইতোমধ্যে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। সীমিত দামে জ্বালানি পাওয়ার কারণে প্রতিবেশী দেশ থেকে মানুষ এসে জ্বালানি নিচ্ছে, ফলে সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে।

Winter is coming, along with higher energy prices

উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঝুঁকি বেশি

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংকটের সবচেয়ে বড় আঘাত পড়বে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। কারণ তাদের ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা কম এবং অর্থনৈতিক ধাক্কা সহ্য করার ক্ষমতাও সীমিত।

কিছু দেশে ইতোমধ্যে জ্বালানির ভর্তুকি তুলে নেওয়া হয়েছে বা দাম বাড়ানো হয়েছে, কারণ সরকারগুলো আর সেই ব্যয় বহন করতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ দ্রুত বাড়ছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও বড় চাপ তৈরি হবে। সরকারগুলোকে তখন আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

Debt-burdened Europe has fewer options to buffer energy shock | Reuters

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

জ্বালানি দামের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতি চাপে, ঋণের বোঝায় সীমায় পৌঁছাচ্ছে সরকারগুলো

১১:৩৫:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি দামের তীব্র ঊর্ধ্বগতি এমন এক সময়ে আঘাত হেনেছে, যখন দেশগুলো আগে থেকেই বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত। ফলে সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমাতে সরকারগুলো বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও, এতে তাদের আর্থিক সক্ষমতা আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

ঋণের চাপে সংকুচিত রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা

বিশ্ব অর্থনীতি ইতোমধ্যেই শত ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সরকারি ঋণের ভার নিয়ে এই সংকটে প্রবেশ করেছে। অতীতে মহামারি বা আগের জ্বালানি সংকটের সময় যেভাবে সরকারগুলো বড় পরিসরে খরচ বাড়াতে পেরেছিল, এখন সেই সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে। সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় নতুন ঋণ নেওয়াও আগের চেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখন যেকোনো নীতি সিদ্ধান্তে কঠিন সমঝোতার প্রয়োজন হবে। একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।

Energy-Price Shock Hits a World Already Buried in Debt - WSJ

বিশ্বজুড়ে ত্রাণমূলক পদক্ষেপ

বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে জনগণকে স্বস্তি দিতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কোথাও জ্বালানি কর কমানো হয়েছে, কোথাও সরাসরি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। আবার কিছু দেশ জ্বালানির দামে সীমা নির্ধারণ করেছে।

এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে যেগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির উপর নির্ভরশীল, তারা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। ইউরোপেও কর আরোপ বা নগদ সহায়তার মতো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ সরকারগুলোর বাজেটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

মূল্যনিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি

অনেক দেশ জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরাসরি মূল্যসীমা নির্ধারণ করেছে। এতে স্বল্পমেয়াদে জনগণ কিছুটা স্বস্তি পেলেও, দীর্ঘমেয়াদে সরকারের ওপর বড় আর্থিক বোঝা তৈরি হচ্ছে। ইতিহাস বলছে, এমন নীতিতে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।

কিছু দেশে ইতোমধ্যে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। সীমিত দামে জ্বালানি পাওয়ার কারণে প্রতিবেশী দেশ থেকে মানুষ এসে জ্বালানি নিচ্ছে, ফলে সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে।

Winter is coming, along with higher energy prices

উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঝুঁকি বেশি

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংকটের সবচেয়ে বড় আঘাত পড়বে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। কারণ তাদের ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা কম এবং অর্থনৈতিক ধাক্কা সহ্য করার ক্ষমতাও সীমিত।

কিছু দেশে ইতোমধ্যে জ্বালানির ভর্তুকি তুলে নেওয়া হয়েছে বা দাম বাড়ানো হয়েছে, কারণ সরকারগুলো আর সেই ব্যয় বহন করতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ দ্রুত বাড়ছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও বড় চাপ তৈরি হবে। সরকারগুলোকে তখন আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

Debt-burdened Europe has fewer options to buffer energy shock | Reuters