০১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হস্তক্ষেপে ঘুরে দাঁড়াল ইয়েন, আরও পদক্ষেপের ইঙ্গিত সিন্ধু পানি চুক্তি: ছয় দশক পর বদলে যাওয়া বাস্তবতায় নতুন হিসাবের সময় ভাঁজযোগ্য আইফোনের উৎপাদন দিনে মাত্র কয়েকশ, বাজারে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা ট্রাম্পের নতুন দাবি: ইউক্রেনকে দেওয়া শত শত বিলিয়ন ডলার ইউরোপের কাছ থেকে ফেরত চান রাশিয়ার নাশকতায় ইউরোপে বাড়ছে সংঘাতের ঝুঁকি, চাপে ন্যাটো ছয় মাসের যুদ্ধে আরও আত্মবিশ্বাসী ইরান, বাড়তে পারে সংঘাত

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৩৬)

  • Sarakhon Report
  • ০৩:৫৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 121

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

বিধাতাকে অভিশাপ দাও, অপরিচিতকে প্রেম বিলাও! কিন্তু, আমাকে শান্তিতে থাকতে দাও! আমাকে জ্বালিও না! কারণ আমিও মানুষ, আমারও মৃত্যু অনিবার্য।”

দুঃখের বিষয়, এ রকম হয়েছে এবং এ রকম হবেও। অন্য রকম হ’তে পারে নি, হ’তে পারে না। কারণ, মানুষ ক্লান্ত, শ্রান্ত, পংগু, পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন। তারা সবাই একাকিত্বের কঠিন নিগড়ে আবদ্ধ। তাই তাদের সত্তা বিশুষ্ক, মৃত। লিও নিকোইয়েভিচ যদি ধর্মতন্ত্রের সংগে সন্ধি ক’রে বসতেন, তাতেও আমি বিন্দুমাত্র বিস্মিত হতাম না। তার মধ্যেও তাঁর নিজস্ব একটা যুক্তি থাকতো।

\সকল মানুষই তুচ্ছ, নগণ্য, এমন কি আর্চবিশপরা-ও। বাস্তবিক পক্ষে, ঠিকমতো বলতে গেলে, সেটা সন্ধি হোতো না; আর তাঁর পক্ষে ব্যক্তি- গতভাবে ব্যাপারটা যুক্তিযুক্তও হোতোঃ “আমাকে যারা ঘৃণা করে, আমি তাদের ক্ষমা করি।” এটা একটা খৃস্টান-সুলভ কাজ হোতো এবং এর পেছনে গোপন থাকতো একটি চকিত বিদ্রূপের মৃদু মন্দ হাসি। এবং সেই হাসির অর্থ হোতো এই যে এমনি ভাবেই জ্ঞানী ব্যক্তিরা নির্বোধদের ওপর প্রতিশোধ নিয়ে থাকেন।

আমি যা লিখছি, আমি যা বলতে চেয়েছিলাম তা নয়; আমি যথাযথভাবে তা প্রকাশ করতে পারছি না। আমার আত্মার মধ্যে যেন একটা কুকুর কেবলই কেঁদে ককিয়ে উঠছে, যেন কোনো আসন্ন দুর্ভাগ্যের অশুভ সংকেত আমি শুনতে পাচ্ছি। হ্যাঁ, খবরের কাগজগুলো এইমাত্র এসে পৌঁচেছে; ব্যাপারটা স্পষ্ট হ’য়ে গেছে; তোমরা দেশে একটি “রূপকথা বানাতে” চেষ্টা করছ। একটি বার কেবল ভেবে দ্যাখো তো, ঠিক এই মুহূর্তে দেশের পক্ষে এই ব্যাপারটি কী ভয়াবহ ক্ষতিকরই না হবে! মোহ-মুক্ত মানুষের দল আজ মাথা নত করেছে।

অধিকাংশের সত্তা আজ শূন্য, আর দেশের সেরা যাঁরা, তাঁদের আত্মা বেদনায় আজ আর্ত। ক্ষত-বিক্ষত উপবাসক্লিষ্ট তাঁরা। তাই তাঁরা আঁকড়ে ধরতে চান কোনো কল্পিত কাহিনীকে। তাঁরা চান বেদনার উপশম, তাঁরা চান যন্ত্রনার প্রশমন। আজ তাঁরা যা চান, তাই তাঁরা কল্পনার সৃষ্টি করবেন, যদিও তা তাঁদের কোনো প্রয়োজনেই আসে না। তাঁরা চান কোনো সাধু- সন্তের জীবন। তিনি সাধু, তিনি মহান, কারণ, তিনি মানুষ, বেদনা-মত্ত সুন্দর, অভিরাম একটি মানুষ; সমস্ত মানুষের সেরা মানুষ। আমি বোধ হয় নিজের কথারই বিরুদ্ধতা করছি; যাক, তাতে কিছু আসে যায় না।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৩৬)

০৩:৫৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

বিধাতাকে অভিশাপ দাও, অপরিচিতকে প্রেম বিলাও! কিন্তু, আমাকে শান্তিতে থাকতে দাও! আমাকে জ্বালিও না! কারণ আমিও মানুষ, আমারও মৃত্যু অনিবার্য।”

দুঃখের বিষয়, এ রকম হয়েছে এবং এ রকম হবেও। অন্য রকম হ’তে পারে নি, হ’তে পারে না। কারণ, মানুষ ক্লান্ত, শ্রান্ত, পংগু, পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন। তারা সবাই একাকিত্বের কঠিন নিগড়ে আবদ্ধ। তাই তাদের সত্তা বিশুষ্ক, মৃত। লিও নিকোইয়েভিচ যদি ধর্মতন্ত্রের সংগে সন্ধি ক’রে বসতেন, তাতেও আমি বিন্দুমাত্র বিস্মিত হতাম না। তার মধ্যেও তাঁর নিজস্ব একটা যুক্তি থাকতো।

\সকল মানুষই তুচ্ছ, নগণ্য, এমন কি আর্চবিশপরা-ও। বাস্তবিক পক্ষে, ঠিকমতো বলতে গেলে, সেটা সন্ধি হোতো না; আর তাঁর পক্ষে ব্যক্তি- গতভাবে ব্যাপারটা যুক্তিযুক্তও হোতোঃ “আমাকে যারা ঘৃণা করে, আমি তাদের ক্ষমা করি।” এটা একটা খৃস্টান-সুলভ কাজ হোতো এবং এর পেছনে গোপন থাকতো একটি চকিত বিদ্রূপের মৃদু মন্দ হাসি। এবং সেই হাসির অর্থ হোতো এই যে এমনি ভাবেই জ্ঞানী ব্যক্তিরা নির্বোধদের ওপর প্রতিশোধ নিয়ে থাকেন।

আমি যা লিখছি, আমি যা বলতে চেয়েছিলাম তা নয়; আমি যথাযথভাবে তা প্রকাশ করতে পারছি না। আমার আত্মার মধ্যে যেন একটা কুকুর কেবলই কেঁদে ককিয়ে উঠছে, যেন কোনো আসন্ন দুর্ভাগ্যের অশুভ সংকেত আমি শুনতে পাচ্ছি। হ্যাঁ, খবরের কাগজগুলো এইমাত্র এসে পৌঁচেছে; ব্যাপারটা স্পষ্ট হ’য়ে গেছে; তোমরা দেশে একটি “রূপকথা বানাতে” চেষ্টা করছ। একটি বার কেবল ভেবে দ্যাখো তো, ঠিক এই মুহূর্তে দেশের পক্ষে এই ব্যাপারটি কী ভয়াবহ ক্ষতিকরই না হবে! মোহ-মুক্ত মানুষের দল আজ মাথা নত করেছে।

অধিকাংশের সত্তা আজ শূন্য, আর দেশের সেরা যাঁরা, তাঁদের আত্মা বেদনায় আজ আর্ত। ক্ষত-বিক্ষত উপবাসক্লিষ্ট তাঁরা। তাই তাঁরা আঁকড়ে ধরতে চান কোনো কল্পিত কাহিনীকে। তাঁরা চান বেদনার উপশম, তাঁরা চান যন্ত্রনার প্রশমন। আজ তাঁরা যা চান, তাই তাঁরা কল্পনার সৃষ্টি করবেন, যদিও তা তাঁদের কোনো প্রয়োজনেই আসে না। তাঁরা চান কোনো সাধু- সন্তের জীবন। তিনি সাধু, তিনি মহান, কারণ, তিনি মানুষ, বেদনা-মত্ত সুন্দর, অভিরাম একটি মানুষ; সমস্ত মানুষের সেরা মানুষ। আমি বোধ হয় নিজের কথারই বিরুদ্ধতা করছি; যাক, তাতে কিছু আসে যায় না।