০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৫৯)

  • Sarakhon Report
  • ০৪:০০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 118

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

মনে হয়, তুমি একটি অদ্ভুত প্রাণী, যেন পরিণত বয়সেই তুমি জন্মলাভ করেছিলে। তোমার অনেক চিন্তার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা শিশুসুলভ, অপরিণত। কিন্তু জীবন সম্বন্ধে তুমি অনেক জানো-যার বেশি মানুষে জানতে চাইতে পারে না। এখন, তুমি আমায় একটা গল্প বলো।”.

একটা পাইন গাছের অনাবৃত শিকড়গুলির উপর তিনি আরাম ক’রে শুয়ে পড়লেন। দেখতে লাগলেন, কর্মচঞ্চল ধাবমান পিপীলিকাদের।

উত্তর অঞ্চল থেকে আসা কোনো মানুষের চোখে লতায়-পাতায় বৃক্ষেগুল্মে সমারোহমান দৃপ্ত দক্ষিণকে অনেকটা বিসদৃশ মনে হয়।

এখানে লিও টলস্টয়কে-এমন কি তাঁর নামটাও একটা আধ্যাত্মিক শক্তি প্রকাশ করে খর্বাকৃতি মনে হোলো। মাটির গভীরে সবল সঞ্চারিত মূলগুলি থেকে বহিরাগত জটায় গ্রন্থিময় কোনো বৃদ্ধ বৃক্ষ যেন তিনি, তাই ক্রিমিয়ার উচ্ছ্বসিত স্পর্ধিত সবুজের মধ্যে তাঁকে একই সময়ে অবান্তর অথচ যথাযথ মনে হোলো। মনে হোলো, তিনি অতি প্রাচীন একটি মানুষ, তাঁর চারিদিক্রে সমস্ত কিছুর উপর পরিপূর্ণ আধিপত্য তাঁর।

তিনি এক মহাস্থপতি, যদিও বহু শতাব্দীর পর স্বরচিত প্রাসাদে ফিরে এসেছেন। এই প্রাসাদে কী আছে, তার অনেক কিছুই আজ তাঁর মনে নেই। অনেক কিছুই তাঁর কাছে নূতন। এখানে যেমনটি ঠিক থাকা দরকার, তেমনিটি-ই আছে, অথচ সম্পূর্ণ-ও যেন তেমনিটি নেই। তাই অবিলম্বে তিনি সন্ধান নিতে চান, কেন তেমনিটি নেই, কোথায় ত্রুটি, কেন ত্রুটি।

পথে ঘাটে তিনি ঘুরে বেড়ান ব্যস্ত দ্রুত পা ফেলে। তিনি যেন কোনো দক্ষ পর্যটক, দেশের সন্ধানে বেরিয়েছেন। তাঁর দুটি তীক্ষ্ণ চক্ষু প্রতিটি জিনিষকে লক্ষ্য করছে, পরিমাপ করছে, পরীক্ষা করছে, তুলনা ক’রে দেখছে। সামান্যতম উপলখণ্ড, সামান্যতম চিন্ত। সেই দৃষ্টির কাছে আত্মগোপন ক’রে থাকতে পারতো না। তিনি তাঁর চারিদিকে বিক্ষিপ্ত ক’রে যাচ্ছেন অমর চিন্তার জীবন্ত বীজগুলি।

একবার তিনি সুলারকে বলেছিলেন, “লিওভুশকা, তুমি তোমার আত্মম্ভরিতার ফলে যা ভালো নয়, এমন কিছু পড়ো না। কিন্তু যা ভালো নয়, এমন কিছুও গকি পড়েন, কারণ তিনি নিজেকে বিশ্বাস করেন না। যা ভালো নয়, এমন অনেক কিছুই আমি লিখেছি।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ৫৯)

০৪:০০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ম্যাকসিম গোর্কী

একটি চিঠি

মনে হয়, তুমি একটি অদ্ভুত প্রাণী, যেন পরিণত বয়সেই তুমি জন্মলাভ করেছিলে। তোমার অনেক চিন্তার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা শিশুসুলভ, অপরিণত। কিন্তু জীবন সম্বন্ধে তুমি অনেক জানো-যার বেশি মানুষে জানতে চাইতে পারে না। এখন, তুমি আমায় একটা গল্প বলো।”.

একটা পাইন গাছের অনাবৃত শিকড়গুলির উপর তিনি আরাম ক’রে শুয়ে পড়লেন। দেখতে লাগলেন, কর্মচঞ্চল ধাবমান পিপীলিকাদের।

উত্তর অঞ্চল থেকে আসা কোনো মানুষের চোখে লতায়-পাতায় বৃক্ষেগুল্মে সমারোহমান দৃপ্ত দক্ষিণকে অনেকটা বিসদৃশ মনে হয়।

এখানে লিও টলস্টয়কে-এমন কি তাঁর নামটাও একটা আধ্যাত্মিক শক্তি প্রকাশ করে খর্বাকৃতি মনে হোলো। মাটির গভীরে সবল সঞ্চারিত মূলগুলি থেকে বহিরাগত জটায় গ্রন্থিময় কোনো বৃদ্ধ বৃক্ষ যেন তিনি, তাই ক্রিমিয়ার উচ্ছ্বসিত স্পর্ধিত সবুজের মধ্যে তাঁকে একই সময়ে অবান্তর অথচ যথাযথ মনে হোলো। মনে হোলো, তিনি অতি প্রাচীন একটি মানুষ, তাঁর চারিদিক্রে সমস্ত কিছুর উপর পরিপূর্ণ আধিপত্য তাঁর।

তিনি এক মহাস্থপতি, যদিও বহু শতাব্দীর পর স্বরচিত প্রাসাদে ফিরে এসেছেন। এই প্রাসাদে কী আছে, তার অনেক কিছুই আজ তাঁর মনে নেই। অনেক কিছুই তাঁর কাছে নূতন। এখানে যেমনটি ঠিক থাকা দরকার, তেমনিটি-ই আছে, অথচ সম্পূর্ণ-ও যেন তেমনিটি নেই। তাই অবিলম্বে তিনি সন্ধান নিতে চান, কেন তেমনিটি নেই, কোথায় ত্রুটি, কেন ত্রুটি।

পথে ঘাটে তিনি ঘুরে বেড়ান ব্যস্ত দ্রুত পা ফেলে। তিনি যেন কোনো দক্ষ পর্যটক, দেশের সন্ধানে বেরিয়েছেন। তাঁর দুটি তীক্ষ্ণ চক্ষু প্রতিটি জিনিষকে লক্ষ্য করছে, পরিমাপ করছে, পরীক্ষা করছে, তুলনা ক’রে দেখছে। সামান্যতম উপলখণ্ড, সামান্যতম চিন্ত। সেই দৃষ্টির কাছে আত্মগোপন ক’রে থাকতে পারতো না। তিনি তাঁর চারিদিকে বিক্ষিপ্ত ক’রে যাচ্ছেন অমর চিন্তার জীবন্ত বীজগুলি।

একবার তিনি সুলারকে বলেছিলেন, “লিওভুশকা, তুমি তোমার আত্মম্ভরিতার ফলে যা ভালো নয়, এমন কিছু পড়ো না। কিন্তু যা ভালো নয়, এমন কিছুও গকি পড়েন, কারণ তিনি নিজেকে বিশ্বাস করেন না। যা ভালো নয়, এমন অনেক কিছুই আমি লিখেছি।