০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, অর্থনীতি নিয়ে অস্বস্তিতে হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আবারও নিম্নমুখী। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, তার কাজের প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ঊনচল্লিশ শতাংশে। অর্থনীতি সামলাতে ব্যর্থতার অভিযোগই এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।

জনমত জরিপে কী উঠে এলো
রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জরিপে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে মাত্র ঊনচল্লিশ শতাংশ ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন দিয়েছেন। ডিসেম্বরের শুরুতে এই হার ছিল একচল্লিশ শতাংশ। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তার জনপ্রিয়তা নেমেছিল আটত্রিশ শতাংশে, যা চলতি বছরে ছিল সর্বনিম্নের কাছাকাছি। জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার সময় তার সমর্থন ছিল সাতচল্লিশ শতাংশ, কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সমর্থন গলে যেতে শুরু করে।

অর্থনীতি নিয়ে বাড়ছে চাপ
জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখছেন মাত্র তেত্রিশ শতাংশ মানুষ। এটি চলতি বছরে এই বিষয়ে তার সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহে ব্যাঘাত ঘটে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তে নিয়োগদাতারা নতুন কর্মী নিতে পিছিয়ে যাচ্ছেন, যা সামগ্রিকভাবে বাজারে এক ধরনের ধাক্কা তৈরি করেছে।

রিপাবলিকানদের মনোভাব বদলাচ্ছে
ট্রাম্প এখনো রিপাবলিকান ভোটারদের বড় অংশের সমর্থন ধরে রেখেছেন। জরিপ অনুযায়ী, তার সামগ্রিক কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন পঁচাশি শতাংশ রিপাবলিকান। তবে অর্থনীতি পরিচালনায় তাকে ভালো করছেন বলে মনে করেন এমন রিপাবলিকানের হার নেমে এসেছে বাহাত্তর শতাংশে, যা মাসের শুরুতে ছিল আটাত্তর শতাংশ। এই পরিবর্তন হোয়াইট হাউসের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব
গত নির্বাচনে অর্থনীতি ঠিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরেছিলেন। আগের প্রশাসনের সময় উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে নাজেহাল হয়েছিল সাধারণ মানুষ। কিন্তু ট্রাম্পের শাসনামলেও মূল্যস্ফীতি প্রায় তিন শতাংশের কাছাকাছি রয়ে গেছে, যা নীতিনির্ধারকদের কাঙ্ক্ষিত দুই শতাংশের চেয়ে বেশি। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তার প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে মাত্র সাতাশ শতাংশে, যা ডিসেম্বরের শুরুতে ছিল একত্রিশ শতাংশ।

জরিপের পদ্ধতি
অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে সারা দেশ থেকে এক হাজার ষোল জন অংশ নেন। জরিপের সম্ভাব্য ত্রুটির মাত্রা ছিল তিন শতাংশের মধ্যে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, অর্থনীতি নিয়ে অস্বস্তিতে হোয়াইট হাউস

১১:৩৮:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আবারও নিম্নমুখী। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, তার কাজের প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ঊনচল্লিশ শতাংশে। অর্থনীতি সামলাতে ব্যর্থতার অভিযোগই এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।

জনমত জরিপে কী উঠে এলো
রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জরিপে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে মাত্র ঊনচল্লিশ শতাংশ ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন দিয়েছেন। ডিসেম্বরের শুরুতে এই হার ছিল একচল্লিশ শতাংশ। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তার জনপ্রিয়তা নেমেছিল আটত্রিশ শতাংশে, যা চলতি বছরে ছিল সর্বনিম্নের কাছাকাছি। জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার সময় তার সমর্থন ছিল সাতচল্লিশ শতাংশ, কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সমর্থন গলে যেতে শুরু করে।

অর্থনীতি নিয়ে বাড়ছে চাপ
জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখছেন মাত্র তেত্রিশ শতাংশ মানুষ। এটি চলতি বছরে এই বিষয়ে তার সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহে ব্যাঘাত ঘটে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তে নিয়োগদাতারা নতুন কর্মী নিতে পিছিয়ে যাচ্ছেন, যা সামগ্রিকভাবে বাজারে এক ধরনের ধাক্কা তৈরি করেছে।

রিপাবলিকানদের মনোভাব বদলাচ্ছে
ট্রাম্প এখনো রিপাবলিকান ভোটারদের বড় অংশের সমর্থন ধরে রেখেছেন। জরিপ অনুযায়ী, তার সামগ্রিক কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন পঁচাশি শতাংশ রিপাবলিকান। তবে অর্থনীতি পরিচালনায় তাকে ভালো করছেন বলে মনে করেন এমন রিপাবলিকানের হার নেমে এসেছে বাহাত্তর শতাংশে, যা মাসের শুরুতে ছিল আটাত্তর শতাংশ। এই পরিবর্তন হোয়াইট হাউসের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব
গত নির্বাচনে অর্থনীতি ঠিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরেছিলেন। আগের প্রশাসনের সময় উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে নাজেহাল হয়েছিল সাধারণ মানুষ। কিন্তু ট্রাম্পের শাসনামলেও মূল্যস্ফীতি প্রায় তিন শতাংশের কাছাকাছি রয়ে গেছে, যা নীতিনির্ধারকদের কাঙ্ক্ষিত দুই শতাংশের চেয়ে বেশি। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তার প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে মাত্র সাতাশ শতাংশে, যা ডিসেম্বরের শুরুতে ছিল একত্রিশ শতাংশ।

জরিপের পদ্ধতি
অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে সারা দেশ থেকে এক হাজার ষোল জন অংশ নেন। জরিপের সম্ভাব্য ত্রুটির মাত্রা ছিল তিন শতাংশের মধ্যে।