০৯:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর

ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু বছর ধরে চলা আইনি বিতর্কের অবসান হলো এবং দেশটির আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

ছয়-তিন ভোটের ব্যবধানে দেওয়া এই রায়ে আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে তিনজন বিচারপতি এর বিরোধিতা করেন এবং আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আশ্রয় ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, নির্যাতন, সহিংসতা বা রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার বিদেশি নাগরিকরা দেশটিতে এসে আশ্রয়ের আবেদন করতে পারেন। তবে এই মামলার মূল প্রশ্ন ছিল, একজন ব্যক্তি ঠিক কখন যুক্তরাষ্ট্রে “পৌঁছেছেন” বলে গণ্য হবেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, কোনো ব্যক্তি যদি বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রবেশ করতে না পারেন, তাহলে তিনি আশ্রয় আবেদন করার অধিকারও পাবেন না। সুপ্রিম কোর্ট সেই ব্যাখ্যাকেই সমর্থন করেছে।

এর ফলে সীমান্তে অবস্থানরত বহু মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ না দিয়েই ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। প্রশাসনের মতে, এতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে এবং অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে।

ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতিদের উদ্বেগ

রায়ের বিরোধিতা করা বিচারপতিরা সতর্ক করেছেন যে এই সিদ্ধান্তের ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের সুরক্ষার জন্য বিদ্যমান বহু আইনি ব্যবস্থা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

তাদের মতে, সীমান্তের প্রবেশপথে উপস্থিত কোনো ব্যক্তি যদি নির্যাতন বা প্রাণনাশের ঝুঁকি থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় চান, তাহলে তাকে আবেদন করার সুযোগ না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া মানবিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে।

বিরোধী মতামতে বলা হয়, কেবল একটি শব্দের সংকীর্ণ ব্যাখ্যার ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের আশ্রয় নীতিকে বদলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা আরও সংকুচিত হতে পারে।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর রায়

এই মামলা প্রথম শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে। সে সময় সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়ার নীতি ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে অনেক অভিবাসী সীমান্তসংলগ্ন অস্থায়ী শিবিরে আটকে পড়েন এবং মানবিক সংকটে পড়েন।

পরবর্তীতে ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেই নীতি বাতিল করেন। কিন্তু ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসার পর প্রশাসন বিষয়টি আবার আদালতে নিয়ে যায় এবং নিম্ন আদালতের আগের নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে।

সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায়ের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের সেই নীতি পুনরায় কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হলো।

অভিবাসন নীতিতে নতুন অধ্যায়

বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি রাজনৈতিক নিপীড়ন, যুদ্ধ ও সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য আশ্রয়ের সুযোগ দিয়ে এসেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার প্রবণতা জোরালো হয়েছে।

সমালোচকদের আশঙ্কা, নতুন পরিস্থিতিতে অনেক আশ্রয়প্রার্থী নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ হারাতে পারেন। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।

রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ কীভাবে বদলে যায়, এখন সেটিই আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব

ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল

০৯:২২:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু বছর ধরে চলা আইনি বিতর্কের অবসান হলো এবং দেশটির আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

ছয়-তিন ভোটের ব্যবধানে দেওয়া এই রায়ে আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে তিনজন বিচারপতি এর বিরোধিতা করেন এবং আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আশ্রয় ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, নির্যাতন, সহিংসতা বা রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার বিদেশি নাগরিকরা দেশটিতে এসে আশ্রয়ের আবেদন করতে পারেন। তবে এই মামলার মূল প্রশ্ন ছিল, একজন ব্যক্তি ঠিক কখন যুক্তরাষ্ট্রে “পৌঁছেছেন” বলে গণ্য হবেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, কোনো ব্যক্তি যদি বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রবেশ করতে না পারেন, তাহলে তিনি আশ্রয় আবেদন করার অধিকারও পাবেন না। সুপ্রিম কোর্ট সেই ব্যাখ্যাকেই সমর্থন করেছে।

এর ফলে সীমান্তে অবস্থানরত বহু মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ না দিয়েই ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। প্রশাসনের মতে, এতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে এবং অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে।

ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতিদের উদ্বেগ

রায়ের বিরোধিতা করা বিচারপতিরা সতর্ক করেছেন যে এই সিদ্ধান্তের ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের সুরক্ষার জন্য বিদ্যমান বহু আইনি ব্যবস্থা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

তাদের মতে, সীমান্তের প্রবেশপথে উপস্থিত কোনো ব্যক্তি যদি নির্যাতন বা প্রাণনাশের ঝুঁকি থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় চান, তাহলে তাকে আবেদন করার সুযোগ না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া মানবিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে।

বিরোধী মতামতে বলা হয়, কেবল একটি শব্দের সংকীর্ণ ব্যাখ্যার ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের আশ্রয় নীতিকে বদলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা আরও সংকুচিত হতে পারে।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর রায়

এই মামলা প্রথম শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদকালে। সে সময় সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়ার নীতি ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে অনেক অভিবাসী সীমান্তসংলগ্ন অস্থায়ী শিবিরে আটকে পড়েন এবং মানবিক সংকটে পড়েন।

পরবর্তীতে ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেই নীতি বাতিল করেন। কিন্তু ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসার পর প্রশাসন বিষয়টি আবার আদালতে নিয়ে যায় এবং নিম্ন আদালতের আগের নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে।

সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায়ের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের সেই নীতি পুনরায় কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হলো।

অভিবাসন নীতিতে নতুন অধ্যায়

বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি রাজনৈতিক নিপীড়ন, যুদ্ধ ও সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য আশ্রয়ের সুযোগ দিয়ে এসেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার প্রবণতা জোরালো হয়েছে।

সমালোচকদের আশঙ্কা, নতুন পরিস্থিতিতে অনেক আশ্রয়প্রার্থী নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ হারাতে পারেন। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।

রায়ের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ কীভাবে বদলে যায়, এখন সেটিই আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।