০৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

ট্রাম্পের ‘পরোক্ষ’ অংশগ্রহণে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পরমাণু আলোচনা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা

জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বহুল আলোচিত পরমাণু আলোচনা ঘিরে উত্তেজনা চরমে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এই আলোচনায় সরাসরি নয়, বরং পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকবেন। তাঁর ভাষায়, এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি মনে করেন, তেহরান এবার সমঝোতার পথেই হাঁটতে চাইছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি আলোচনায় পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকবেন এবং এর ফলাফল দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

Trump says he will be involved indirectly in Iran talks | Reuters

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আলোচনার আগে থেকেই উত্তেজনা তীব্র আকার নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর মার্কিন হামলার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, সমঝোতা হলে সেই হামলার প্রয়োজন পড়ত না। তাঁর মতে, কঠোর অবস্থান নিয়ে ইরান আগেও ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং এবার তারা সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সমঝোতার শর্তে মতপার্থক্য

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবি, ইরান যেন নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে। ওয়াশিংটনের মতে, এটি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দিতে পারে। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা শূন্য মাত্রায় সমৃদ্ধকরণ মেনে নেবে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জেনেভায় আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি চায়, কিন্তু হুমকির মুখে আত্মসমর্পণ করবে না।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দুই দফা আলোচনা

ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা কয়েক মাস ধরে ইরানের কাছে জানতে চাইছে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুতের কী হয়েছে। গত বছরের হামলার পর নাতাঞ্জ, ফোর্দো ও ইসফাহান স্থাপনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন পুনরায় শুরু করতেও সংস্থাটি জোর দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যু সমাধান না হলে আলোচনায় অগ্রগতি কঠিন হয়ে পড়বে।

হরমুজ প্রণালিতে মহড়া, তেলের বাজারে শঙ্কা

উত্তেজনার মধ্যেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়। ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, বড় ধরনের হামলা হলে তারা এই প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করল ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী

পরমাণু ছাড়াও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু

ওয়াশিংটন চায়, পরমাণু কর্মসূচির পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়েও আলোচনা হোক। কিন্তু তেহরান বলছে, তারা শুধু পরমাণু কর্মসূচিতে সীমিত বিধিনিষেধ নিয়ে কথা বলবে, বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চাইবে। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার বাইরে থাকবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কূটনৈতিকভাবে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে, তবে এটি সহজ হবে না। তাঁর মতে, ইরানের সঙ্গে বাস্তবসম্মত চুক্তি করা অতীতে সব সময়ই কঠিন ছিল।

সব মিলিয়ে জেনেভার এই আলোচনা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

ট্রাম্পের ‘পরোক্ষ’ অংশগ্রহণে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পরমাণু আলোচনা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা

০৩:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বহুল আলোচিত পরমাণু আলোচনা ঘিরে উত্তেজনা চরমে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এই আলোচনায় সরাসরি নয়, বরং পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকবেন। তাঁর ভাষায়, এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি মনে করেন, তেহরান এবার সমঝোতার পথেই হাঁটতে চাইছে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি আলোচনায় পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকবেন এবং এর ফলাফল দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

Trump says he will be involved indirectly in Iran talks | Reuters

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আলোচনার আগে থেকেই উত্তেজনা তীব্র আকার নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর মার্কিন হামলার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, সমঝোতা হলে সেই হামলার প্রয়োজন পড়ত না। তাঁর মতে, কঠোর অবস্থান নিয়ে ইরান আগেও ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং এবার তারা সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সমঝোতার শর্তে মতপার্থক্য

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবি, ইরান যেন নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে। ওয়াশিংটনের মতে, এটি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দিতে পারে। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা শূন্য মাত্রায় সমৃদ্ধকরণ মেনে নেবে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জেনেভায় আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরান ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি চায়, কিন্তু হুমকির মুখে আত্মসমর্পণ করবে না।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দুই দফা আলোচনা

ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা কয়েক মাস ধরে ইরানের কাছে জানতে চাইছে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুতের কী হয়েছে। গত বছরের হামলার পর নাতাঞ্জ, ফোর্দো ও ইসফাহান স্থাপনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন পুনরায় শুরু করতেও সংস্থাটি জোর দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যু সমাধান না হলে আলোচনায় অগ্রগতি কঠিন হয়ে পড়বে।

হরমুজ প্রণালিতে মহড়া, তেলের বাজারে শঙ্কা

উত্তেজনার মধ্যেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়। ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, বড় ধরনের হামলা হলে তারা এই প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করল ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী

পরমাণু ছাড়াও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু

ওয়াশিংটন চায়, পরমাণু কর্মসূচির পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়েও আলোচনা হোক। কিন্তু তেহরান বলছে, তারা শুধু পরমাণু কর্মসূচিতে সীমিত বিধিনিষেধ নিয়ে কথা বলবে, বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চাইবে। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার বাইরে থাকবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, কূটনৈতিকভাবে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে, তবে এটি সহজ হবে না। তাঁর মতে, ইরানের সঙ্গে বাস্তবসম্মত চুক্তি করা অতীতে সব সময়ই কঠিন ছিল।

সব মিলিয়ে জেনেভার এই আলোচনা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।