০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

ট্রাম্পের ‘প্ল্যান সি’ কোথায়? ইরানে হামলা ও ভেঙে পড়া সমঝোতার পর নতুন অনিশ্চয়তায় ওয়াশিংটন

ইরানের ওপর ধারাবাহিক সামরিক হামলা এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রাথমিক সমঝোতা ভেঙে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এখন তাদের পরবর্তী কৌশল কী? নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সামরিক চাপ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পুরোনো নীতিতে ফিরে গেলেও, এবার তা ভিন্ন ফল দেবে—এমন বিশ্বাসের ভিত্তি এখনো স্পষ্ট করতে পারেনি ওয়াশিংটন।

সমঝোতা থেকে সংঘাতে

জুন মাসে ফ্রান্সের ভার্সাইয়ে ইরানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা ছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আবারও তেল বিক্রির সুযোগ দেবে। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার পর বিপুল তেল আয়ের মাধ্যমে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে নতুন বাস্তবতায় যুক্ত করাই ছিল সেই কৌশলের মূল ভিত্তি।

ট্রাম্প সে সময় এটিকে ইরানের জন্য ‘খুব ভালো চুক্তি’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন, ইরানি আলোচকরা এতে সন্তুষ্ট।

কিন্তু সেই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রণালিতে তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ইরানের তেল রপ্তানির ছাড় প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মাত্র দুই রাতে যুক্তরাষ্ট্র ১৭০টিরও বেশি ইরানি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। একই সঙ্গে দুই পক্ষের মধ্যে ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী ও বিস্তৃত চুক্তির জন্য যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, সেটিও অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।

আবারও নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ

বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত আবারও কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক শক্তিনির্ভর নীতিতে ফিরে গেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, যদি ইরান জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, অতীতে যে নীতি কাঙ্ক্ষিত ফল আনতে পারেনি, এবার সেটিই কীভাবে নতুন সমাধান এনে দেবে?

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক রিচার্ড এন. হাসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন এক ধরনের কৌশলগত অচলাবস্থায় রয়েছে। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি হামলা চালাবে, ইরান তত বেশি উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। অথচ এসব স্থাপনা কীভাবে কার্যকরভাবে সুরক্ষিত রাখা হবে, সে প্রশ্নেরও সুস্পষ্ট উত্তর এখনো নেই।

ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্যের সময় ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন প্রকাশ্যে আসে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শেষকৃত্যের এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলার মুখে পড়েন। তাকে আপসকামী বলে অভিযুক্ত করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও ক্ষুব্ধ জনতার চাপের মুখে নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় সেখান থেকে সরে যান।

তবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের এই অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার চেয়ে দেশটির নেতৃত্বকে একক কাঠামো হিসেবে তুলে ধরছেন। সম্প্রতি ন্যাটো সম্মেলনের সময় তিনি নতুন নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন।

পারমাণবিক কর্মসূচি ও নতুন জটিলতা

প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কিংবা নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অধীনে ইরান তার মজুতের ৯৭ শতাংশ হস্তান্তর করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন যেকোনো সমঝোতায় সেই চুক্তির তুলনায় কম অর্জন রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ

সমঝোতার অন্যতম বিতর্কিত অংশ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচলের নিয়ম।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাখ্যায়, ইরানের দায়িত্ব ছিল বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। কিন্তু তেহরান এটিকে নিজেদের উপকূলঘেঁষা নৌপথ ব্যবহারের অধিকার হিসেবে ব্যাখ্যা করে এবং ভবিষ্যতে ওই পথ ব্যবহারের জন্য অর্থ আদায়ের ইঙ্গিত দেয়।

পরে মার্কিন নৌবাহিনী ওমানের কাছাকাছি বিকল্প নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তা শুরু করলে ইরান কয়েকটি জাহাজে গুলি চালায়। এর পর থেকে লয়েডস অব লন্ডনের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই পরিস্থিতিকেই ট্রাম্প প্রশাসন প্রাথমিক সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে।

ওয়াশিংটনের অবস্থান

মার্কিন কর্মকর্তারা এখনো শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা বললেও, তারা বলছেন, ভবিষ্যতে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আশা রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকট মূলত রাজনৈতিক, তাই কেবল নিম্নপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে, সামরিক হামলা, অর্থনৈতিক চাপ এবং ব্যর্থ প্রাথমিক সমঝোতার পর ট্রাম্প প্রশাসন এমন এক অবস্থায় ফিরে এসেছে, যেখানে নতুন কোনো কার্যকর কৌশলের স্পষ্ট রূপরেখা এখনো সামনে আসেনি।

#ইরান #ট্রাম্প #যুক্তরাষ্ট্র #হরমুজ_প্রণালি #মধ্যপ্রাচ্য #নিষেধাজ্ঞা #পারমাণবিক_চুক্তি #আন্তর্জাতিক_রাজনীতি #সারাক্ষণ

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

ট্রাম্পের ‘প্ল্যান সি’ কোথায়? ইরানে হামলা ও ভেঙে পড়া সমঝোতার পর নতুন অনিশ্চয়তায় ওয়াশিংটন

১২:১৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ইরানের ওপর ধারাবাহিক সামরিক হামলা এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রাথমিক সমঝোতা ভেঙে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এখন তাদের পরবর্তী কৌশল কী? নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সামরিক চাপ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পুরোনো নীতিতে ফিরে গেলেও, এবার তা ভিন্ন ফল দেবে—এমন বিশ্বাসের ভিত্তি এখনো স্পষ্ট করতে পারেনি ওয়াশিংটন।

সমঝোতা থেকে সংঘাতে

জুন মাসে ফ্রান্সের ভার্সাইয়ে ইরানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা ছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আবারও তেল বিক্রির সুযোগ দেবে। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার পর বিপুল তেল আয়ের মাধ্যমে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে নতুন বাস্তবতায় যুক্ত করাই ছিল সেই কৌশলের মূল ভিত্তি।

ট্রাম্প সে সময় এটিকে ইরানের জন্য ‘খুব ভালো চুক্তি’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন, ইরানি আলোচকরা এতে সন্তুষ্ট।

কিন্তু সেই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রণালিতে তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ইরানের তেল রপ্তানির ছাড় প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মাত্র দুই রাতে যুক্তরাষ্ট্র ১৭০টিরও বেশি ইরানি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। একই সঙ্গে দুই পক্ষের মধ্যে ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী ও বিস্তৃত চুক্তির জন্য যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, সেটিও অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।

আবারও নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ

বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত আবারও কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক শক্তিনির্ভর নীতিতে ফিরে গেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, যদি ইরান জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, অতীতে যে নীতি কাঙ্ক্ষিত ফল আনতে পারেনি, এবার সেটিই কীভাবে নতুন সমাধান এনে দেবে?

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক রিচার্ড এন. হাসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন এক ধরনের কৌশলগত অচলাবস্থায় রয়েছে। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি হামলা চালাবে, ইরান তত বেশি উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। অথচ এসব স্থাপনা কীভাবে কার্যকরভাবে সুরক্ষিত রাখা হবে, সে প্রশ্নেরও সুস্পষ্ট উত্তর এখনো নেই।

ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্যের সময় ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন প্রকাশ্যে আসে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শেষকৃত্যের এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলার মুখে পড়েন। তাকে আপসকামী বলে অভিযুক্ত করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও ক্ষুব্ধ জনতার চাপের মুখে নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় সেখান থেকে সরে যান।

তবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের এই অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার চেয়ে দেশটির নেতৃত্বকে একক কাঠামো হিসেবে তুলে ধরছেন। সম্প্রতি ন্যাটো সম্মেলনের সময় তিনি নতুন নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন।

পারমাণবিক কর্মসূচি ও নতুন জটিলতা

প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কিংবা নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অধীনে ইরান তার মজুতের ৯৭ শতাংশ হস্তান্তর করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন যেকোনো সমঝোতায় সেই চুক্তির তুলনায় কম অর্জন রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধ

সমঝোতার অন্যতম বিতর্কিত অংশ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচলের নিয়ম।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাখ্যায়, ইরানের দায়িত্ব ছিল বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। কিন্তু তেহরান এটিকে নিজেদের উপকূলঘেঁষা নৌপথ ব্যবহারের অধিকার হিসেবে ব্যাখ্যা করে এবং ভবিষ্যতে ওই পথ ব্যবহারের জন্য অর্থ আদায়ের ইঙ্গিত দেয়।

পরে মার্কিন নৌবাহিনী ওমানের কাছাকাছি বিকল্প নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তা শুরু করলে ইরান কয়েকটি জাহাজে গুলি চালায়। এর পর থেকে লয়েডস অব লন্ডনের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই পরিস্থিতিকেই ট্রাম্প প্রশাসন প্রাথমিক সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে।

ওয়াশিংটনের অবস্থান

মার্কিন কর্মকর্তারা এখনো শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা বললেও, তারা বলছেন, ভবিষ্যতে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আশা রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকট মূলত রাজনৈতিক, তাই কেবল নিম্নপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে, সামরিক হামলা, অর্থনৈতিক চাপ এবং ব্যর্থ প্রাথমিক সমঝোতার পর ট্রাম্প প্রশাসন এমন এক অবস্থায় ফিরে এসেছে, যেখানে নতুন কোনো কার্যকর কৌশলের স্পষ্ট রূপরেখা এখনো সামনে আসেনি।

#ইরান #ট্রাম্প #যুক্তরাষ্ট্র #হরমুজ_প্রণালি #মধ্যপ্রাচ্য #নিষেধাজ্ঞা #পারমাণবিক_চুক্তি #আন্তর্জাতিক_রাজনীতি #সারাক্ষণ