০৯:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর

ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশল কি ফারাজের জন্যও কার্যকর হবে?

বিশ্বজুড়ে জনতাবাদী রাজনীতির একটি পরিচিত কৌশল হলো ব্যক্তিগত সংকটকে রাজনৈতিক নিপীড়নের গল্পে রূপ দেওয়া। কোনো অভিযোগ, তদন্ত বা আইনি চাপে পড়লেই সেটিকে কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে নয়, বরং সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতাকাঠামোর ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অসাধারণ রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিয়েছিল। কিন্তু একই পদ্ধতি অন্য দেশের রাজনীতিতেও সমানভাবে কার্যকর হবে—এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সবসময় মেলে না।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ নিজের আর্থিক বিষয় নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তাতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাষার স্পষ্ট প্রতিধ্বনি শোনা যায়। তিনি দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের শক্তিগুলো ন্যায্য প্রতিযোগিতায় জিততে না পেরে এখন অন্য পথ বেছে নিয়েছে। তাঁর ভাষ্যে, তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই আসলে পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই; তিনি হারলে হারবে সেই জনগণ, যারা প্রচলিত দুই দলের বাইরে নতুন রাজনৈতিক বিকল্প খুঁজছে।

এই ধরনের বক্তব্যের মূল দর্শন খুবই সরল। নেতা নিজেকে কেবল একজন রাজনীতিক হিসেবে উপস্থাপন করেন না; বরং জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের ভাগ্যকে ভোটারের ভাগ্যের সঙ্গে একীভূত করেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও ব্যক্তিগত থাকে না, বরং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রামের অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে এই কৌশল কার্যকর হওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা ছিল। প্রথমত, দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার রাজনীতির প্রতি জনগণের অসন্তোষ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে অনেক ভোটার প্রচলিত রাজনৈতিক মানদণ্ডের বাইরে গিয়ে একজন বিদ্রোহী প্রার্থীকে সুযোগ দিতে প্রস্তুত ছিলেন। তাঁদের কাছে ট্রাম্পের বিতর্কিত আচরণের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অভিজাতদের প্রতি ক্ষোভ।

দ্বিতীয়ত, সংবাদমাধ্যম, বিচারব্যবস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। যখন নাগরিকদের একটি বড় অংশ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে এসব প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক পক্ষপাত থেকে মুক্ত নয়, তখন কোনো অভিযুক্ত নেতার জন্য নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার হিসেবে তুলে ধরা অনেক সহজ হয়ে যায়।

Britain's Nigel Farage Quits Parliament Amid Probe Into Finances but Vows  Return - WSJ

ট্রাম্পের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আচরণ। ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন তদন্ত—এসবের অনেক অংশ শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। এতে বহু ভোটারের মনে ধারণা জন্মায় যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের নির্বাচন এবং ক্যাপিটল হামলার পরও যখন একের পর এক মামলা চলতে থাকে, তখন অনেকের কাছে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের সীমারেখা আরও অস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শুধু ট্রাম্প নন, বিশ্বের আরও অনেক জনতাবাদী নেতা একই কৌশল ব্যবহার করেছেন। ফ্রান্সে মারিন ল্য পেনও নিজের বিরুদ্ধে আদালতের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে নয়, বরং লাখো ভোটারের কণ্ঠরোধ হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। অতীতেও ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত নেতারা নিজেদের সমর্থকদের কাছে এই ধরনের রাজনৈতিক ভাষা ব্যবহার করে সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন।

তবে এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সামনে আসে। রাজনৈতিক ভাষা ধার করা যত সহজ, রাজনৈতিক বাস্তবতা ধার করা তত সহজ নয়।

ট্রাম্পের সাফল্যের পেছনে ছিল এমন একটি দ্বিদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে ভোটারদের সামনে কার্যত দুটি বিকল্প ছিল। একই সঙ্গে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুর্বলতা এবং একাধিক কৌশলগত ভুল তাঁকে রাজনৈতিকভাবে পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটন এবং পরে জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিসের বিরুদ্ধে অসন্তুষ্ট ভোটারদের জন্য ট্রাম্প বিকল্প হয়ে উঠতে পেরেছিলেন।

যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি ভিন্ন। সেখানে বহুদলীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা, ভিন্ন নির্বাচনী কাঠামো এবং ক্ষমতার ভিন্ন ভারসাম্য কাজ করে। ফলে একই ধরনের রাজনৈতিক নাটকীয়তা ভোটারদের কাছে একই প্রভাব ফেলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং অতিরিক্ত নাটকীয় আত্মরক্ষামূলক অবস্থান অনেক সময় উল্টো প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করতে পারে।

রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবিশ্বাস, সংবাদমাধ্যম নিয়ে সন্দেহ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা—এসব আজ আটলান্টিকের দুই পাশেই বিদ্যমান। কিন্তু কেবল এই উপাদানগুলো থাকলেই ট্রাম্পের কৌশল সফল হবে না। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রতিপক্ষের শক্তি, নির্বাচনী কাঠামো এবং ভোটারদের বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ—এসবও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণেই ট্রাম্পের ব্যবহৃত রাজনৈতিক রণকৌশল হুবহু অনুসরণ করলেই অন্য কোনো নেতা একই ফল পাবেন, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। একই কৌশল ভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চে ভিন্ন ফল দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে যে ভাষা বিজয়ের হাতিয়ার হয়েছে, যুক্তরাজ্যে সেটি হয়তো প্রত্যাশিত সমর্থনের বদলে রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব

ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশল কি ফারাজের জন্যও কার্যকর হবে?

০৬:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বজুড়ে জনতাবাদী রাজনীতির একটি পরিচিত কৌশল হলো ব্যক্তিগত সংকটকে রাজনৈতিক নিপীড়নের গল্পে রূপ দেওয়া। কোনো অভিযোগ, তদন্ত বা আইনি চাপে পড়লেই সেটিকে কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে নয়, বরং সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতাকাঠামোর ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অসাধারণ রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিয়েছিল। কিন্তু একই পদ্ধতি অন্য দেশের রাজনীতিতেও সমানভাবে কার্যকর হবে—এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সবসময় মেলে না।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ নিজের আর্থিক বিষয় নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তাতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাষার স্পষ্ট প্রতিধ্বনি শোনা যায়। তিনি দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের শক্তিগুলো ন্যায্য প্রতিযোগিতায় জিততে না পেরে এখন অন্য পথ বেছে নিয়েছে। তাঁর ভাষ্যে, তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই আসলে পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই; তিনি হারলে হারবে সেই জনগণ, যারা প্রচলিত দুই দলের বাইরে নতুন রাজনৈতিক বিকল্প খুঁজছে।

এই ধরনের বক্তব্যের মূল দর্শন খুবই সরল। নেতা নিজেকে কেবল একজন রাজনীতিক হিসেবে উপস্থাপন করেন না; বরং জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের ভাগ্যকে ভোটারের ভাগ্যের সঙ্গে একীভূত করেন। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোও ব্যক্তিগত থাকে না, বরং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রামের অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে এই কৌশল কার্যকর হওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা ছিল। প্রথমত, দীর্ঘদিন ধরে মূলধারার রাজনীতির প্রতি জনগণের অসন্তোষ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে অনেক ভোটার প্রচলিত রাজনৈতিক মানদণ্ডের বাইরে গিয়ে একজন বিদ্রোহী প্রার্থীকে সুযোগ দিতে প্রস্তুত ছিলেন। তাঁদের কাছে ট্রাম্পের বিতর্কিত আচরণের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অভিজাতদের প্রতি ক্ষোভ।

দ্বিতীয়ত, সংবাদমাধ্যম, বিচারব্যবস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। যখন নাগরিকদের একটি বড় অংশ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে এসব প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক পক্ষপাত থেকে মুক্ত নয়, তখন কোনো অভিযুক্ত নেতার জন্য নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার হিসেবে তুলে ধরা অনেক সহজ হয়ে যায়।

Britain's Nigel Farage Quits Parliament Amid Probe Into Finances but Vows  Return - WSJ

ট্রাম্পের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের আচরণ। ২০১৬ সালের নির্বাচনের পর রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন তদন্ত—এসবের অনেক অংশ শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। এতে বহু ভোটারের মনে ধারণা জন্মায় যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের নির্বাচন এবং ক্যাপিটল হামলার পরও যখন একের পর এক মামলা চলতে থাকে, তখন অনেকের কাছে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের সীমারেখা আরও অস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শুধু ট্রাম্প নন, বিশ্বের আরও অনেক জনতাবাদী নেতা একই কৌশল ব্যবহার করেছেন। ফ্রান্সে মারিন ল্য পেনও নিজের বিরুদ্ধে আদালতের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে নয়, বরং লাখো ভোটারের কণ্ঠরোধ হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। অতীতেও ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত নেতারা নিজেদের সমর্থকদের কাছে এই ধরনের রাজনৈতিক ভাষা ব্যবহার করে সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন।

তবে এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সামনে আসে। রাজনৈতিক ভাষা ধার করা যত সহজ, রাজনৈতিক বাস্তবতা ধার করা তত সহজ নয়।

ট্রাম্পের সাফল্যের পেছনে ছিল এমন একটি দ্বিদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে ভোটারদের সামনে কার্যত দুটি বিকল্প ছিল। একই সঙ্গে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুর্বলতা এবং একাধিক কৌশলগত ভুল তাঁকে রাজনৈতিকভাবে পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটন এবং পরে জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিসের বিরুদ্ধে অসন্তুষ্ট ভোটারদের জন্য ট্রাম্প বিকল্প হয়ে উঠতে পেরেছিলেন।

যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি ভিন্ন। সেখানে বহুদলীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা, ভিন্ন নির্বাচনী কাঠামো এবং ক্ষমতার ভিন্ন ভারসাম্য কাজ করে। ফলে একই ধরনের রাজনৈতিক নাটকীয়তা ভোটারদের কাছে একই প্রভাব ফেলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং অতিরিক্ত নাটকীয় আত্মরক্ষামূলক অবস্থান অনেক সময় উল্টো প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করতে পারে।

রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবিশ্বাস, সংবাদমাধ্যম নিয়ে সন্দেহ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা—এসব আজ আটলান্টিকের দুই পাশেই বিদ্যমান। কিন্তু কেবল এই উপাদানগুলো থাকলেই ট্রাম্পের কৌশল সফল হবে না। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রতিপক্ষের শক্তি, নির্বাচনী কাঠামো এবং ভোটারদের বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ—এসবও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণেই ট্রাম্পের ব্যবহৃত রাজনৈতিক রণকৌশল হুবহু অনুসরণ করলেই অন্য কোনো নেতা একই ফল পাবেন, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। একই কৌশল ভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চে ভিন্ন ফল দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে যে ভাষা বিজয়ের হাতিয়ার হয়েছে, যুক্তরাজ্যে সেটি হয়তো প্রত্যাশিত সমর্থনের বদলে রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলবে।