০৯:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

ট্রাম্প ঢেউ থামছে: বাজারে ভাঙছে পুরনো বাজি, বিনিয়োগকারীদের কৌশলে বড় পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি এখনও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে, কিন্তু শেয়ারবাজারে তার প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এক সময় যেসব খাত ও কোম্পানিকে ‘ট্রাম্প-লাভবান’ হিসেবে ধরা হয়েছিল, এখন সেগুলোর অনেকটাই ধীরে ধীরে গতি হারাচ্ছে। ফলে বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন বাস্তবতা, যেখানে পুরনো হিসাব ভেঙে নতুন করে কৌশল সাজাতে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের।

শীর্ষ থেকে পতনের শুরু

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ বিনিয়োগগুলো সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল। কিন্তু এরপর থেকেই ধীরে ধীরে পতন শুরু হয়। বর্তমানে এই ধরনের বিনিয়োগের সম্মিলিত মূল্য সেই শিখর থেকে প্রায় ২০ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে। এই পতন কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, বরং বাজারের আস্থার পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে ভিন্ন চিত্র

তবে সব খাতে একই চিত্র দেখা যায় না। ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্প এখনও লাভবান হচ্ছে, কারণ ট্রাম্পের ন্যাটো নিয়ে কঠোর অবস্থান ইউরোপীয় দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা খাতে বেশি ব্যয় করতে উৎসাহিত করেছে। একইভাবে, ইরান-সংঘাতের প্রভাব তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি এনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর আয় বাড়িয়েছে। এই দুই খাত এখনও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

নীতির অনিশ্চয়তা ও বাজারের সংশয়

ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতিতে ধারাবাহিকতার অভাব বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শুল্কনীতি বারবার পরিবর্তনের কারণে দেশীয় উৎপাদকরা প্রত্যাশিত সুবিধা পাননি। বাজারে এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি, কারণ বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারছেন না।

Prediction markets are rife with insider betting

প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা

অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা ট্রাম্পের নীতির দিক সঠিকভাবে বুঝলেও, লাভবান হওয়ার খাত নির্ধারণে ভুল করেছেন। যেমন, অভিবাসন কঠোর করার প্রতিশ্রুতির কারণে বেসরকারি কারাগার কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সরকারের সরাসরি খরচ বেড়েছে, বেসরকারি খাত তেমন লাভ পায়নি। ফলে বাজারে হতাশা তৈরি হয়েছে।

প্রযুক্তি ও যোগাযোগমাধ্যমে ধাক্কা

ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ কিছু প্রযুক্তি ও যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের আগে দ্রুত উত্থান দেখালেও এখন তাদের মূল্য অনেকটাই কমে গেছে। এই পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় শিক্ষা—রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা সবসময় বাজারে স্থায়ী সাফল্য নিশ্চিত করে না।

বন্ড বাজারে চাপ বাড়ছে

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বন্ড বাজারে। বিনিয়োগকারীরা আগে থেকেই ধারণা করেছিলেন যে, ট্রাম্পের নীতির কারণে বাজেট ঘাটতি বাড়বে এবং সুদের হারও বাড়তে পারে। বাস্তবে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ডের ফলন বেড়েছে, যা সরকারের ঋণের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাজার এখন আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা আর শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করছেন না, বরং বাস্তব অর্থনৈতিক ফলাফলকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্পের প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়নি, তবে তার ওপর ভিত্তি করে গড়া বিনিয়োগ কৌশল এখন নতুন করে মূল্যায়নের মুখে পড়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

ট্রাম্প ঢেউ থামছে: বাজারে ভাঙছে পুরনো বাজি, বিনিয়োগকারীদের কৌশলে বড় পরিবর্তন

০৭:০৯:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি এখনও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে, কিন্তু শেয়ারবাজারে তার প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এক সময় যেসব খাত ও কোম্পানিকে ‘ট্রাম্প-লাভবান’ হিসেবে ধরা হয়েছিল, এখন সেগুলোর অনেকটাই ধীরে ধীরে গতি হারাচ্ছে। ফলে বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন বাস্তবতা, যেখানে পুরনো হিসাব ভেঙে নতুন করে কৌশল সাজাতে হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের।

শীর্ষ থেকে পতনের শুরু

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ বিনিয়োগগুলো সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল। কিন্তু এরপর থেকেই ধীরে ধীরে পতন শুরু হয়। বর্তমানে এই ধরনের বিনিয়োগের সম্মিলিত মূল্য সেই শিখর থেকে প্রায় ২০ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে। এই পতন কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, বরং বাজারের আস্থার পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে ভিন্ন চিত্র

তবে সব খাতে একই চিত্র দেখা যায় না। ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্প এখনও লাভবান হচ্ছে, কারণ ট্রাম্পের ন্যাটো নিয়ে কঠোর অবস্থান ইউরোপীয় দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা খাতে বেশি ব্যয় করতে উৎসাহিত করেছে। একইভাবে, ইরান-সংঘাতের প্রভাব তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি এনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর আয় বাড়িয়েছে। এই দুই খাত এখনও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

নীতির অনিশ্চয়তা ও বাজারের সংশয়

ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতিতে ধারাবাহিকতার অভাব বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শুল্কনীতি বারবার পরিবর্তনের কারণে দেশীয় উৎপাদকরা প্রত্যাশিত সুবিধা পাননি। বাজারে এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি, কারণ বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারছেন না।

Prediction markets are rife with insider betting

প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা

অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা ট্রাম্পের নীতির দিক সঠিকভাবে বুঝলেও, লাভবান হওয়ার খাত নির্ধারণে ভুল করেছেন। যেমন, অভিবাসন কঠোর করার প্রতিশ্রুতির কারণে বেসরকারি কারাগার কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সরকারের সরাসরি খরচ বেড়েছে, বেসরকারি খাত তেমন লাভ পায়নি। ফলে বাজারে হতাশা তৈরি হয়েছে।

প্রযুক্তি ও যোগাযোগমাধ্যমে ধাক্কা

ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ কিছু প্রযুক্তি ও যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের আগে দ্রুত উত্থান দেখালেও এখন তাদের মূল্য অনেকটাই কমে গেছে। এই পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় শিক্ষা—রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা সবসময় বাজারে স্থায়ী সাফল্য নিশ্চিত করে না।

বন্ড বাজারে চাপ বাড়ছে

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বন্ড বাজারে। বিনিয়োগকারীরা আগে থেকেই ধারণা করেছিলেন যে, ট্রাম্পের নীতির কারণে বাজেট ঘাটতি বাড়বে এবং সুদের হারও বাড়তে পারে। বাস্তবে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ডের ফলন বেড়েছে, যা সরকারের ঋণের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাজার এখন আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা আর শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করছেন না, বরং বাস্তব অর্থনৈতিক ফলাফলকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্পের প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়নি, তবে তার ওপর ভিত্তি করে গড়া বিনিয়োগ কৌশল এখন নতুন করে মূল্যায়নের মুখে পড়েছে।