০৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

ডোপামিন নিয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝি: সুখ নয়, অস্থিরতার ভেতরেই লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার শক্তি

মানুষ প্রায়ই মনে করে নিজের মনের সঙ্গে ই তার লড়াই চলছে। যা চাই তা পাই না, যা পাই তা চাই না, ভালো জিনিসে আগ্রহ হারাই আর খারাপের প্রতি টান তৈরি হয়। এই অদ্ভুত দ্বন্দ্বের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে মস্তিষ্কের এক গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক সংকেতবাহক—ডোপামিন। একে অনেক সময় সুখের রাসায়নিক বলা হলেও বাস্তবে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল।

ডোপামিন আসলে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে বাধ্য করে। আমরা যা পেয়েছি তাতে সন্তুষ্ট না থেকে নতুন কিছু খুঁজতে প্ররোচিত হই। বিবর্তনের দৃষ্টিতে এই অস্থিরতা ই টিকে থাকার শক্তি তৈরি করেছে।

মস্তিষ্কের দ্বৈত টানাপোড়েন

মস্তিষ্কের একটি অংশ বাস্তবতাকে বোঝার চেষ্টা করে এবং প্রত্যাশার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে চায়। কিন্তু যদি শুধু এই মিলই লক্ষ্য হতো, তবে মানুষ হয়তো কোনো অন্ধকার স্থিরতায় থেমে যেত। এখানে সক্রিয় হয় পুরস্কার ব্যবস্থা, যার প্রধান চালিকাশক্তি ডোপামিন। এটি আমাদের নতুন অভিজ্ঞতা, লক্ষ্য আর সাফল্যের দিকে ঠেলে দেয়।

Serenity Strull Anything we do on top of basic reflexes, such as chewing food when it is placed in our mouth, is motivated by dopamine (Credit: Serenity Strull)

ডোপামিন না থাকলে কী ঘটে

এক ধরনের রহস্যময় রোগে আক্রান্ত মানুষের পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায়, ডোপামিনের ঘাটতি হলে মানুষ প্রায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় চলে যায়। তারা জেগে থাকলেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কিছু করতে পারে না। অর্থাৎ ডোপামিন শুধু চলাফেরা নয়, অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রেরণাও তৈরি করে।

সুখের রাসায়নিক নয় কেন

ডোপামিন সরাসরি আনন্দ তৈরি করে—এই ধারণা ভুল। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি আনন্দের চেয়ে মনোযোগ, শেখা এবং সফল আচরণ পুনরাবৃত্তির সঙ্গে বেশি জড়িত। কোনো কাজ প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল দিলে ডোপামিনের স্রোত বাড়ে এবং মস্তিষ্ক সেই অভিজ্ঞতাকে শক্তভাবে মনে রাখে।

Serenity Strull Studies of rats indicate that dopamine release aligns more with the surprise than with actual reward delivery (Credit: Serenity Strull)

অপ্রত্যাশিত সাফল্যের শক্তি

ডোপামিন সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয় তখনই, যখন ফলাফল চমক সৃষ্টি করে। এই অপ্রত্যাশিত পুরস্কারই মানুষকে বারবার চেষ্টা করতে উদ্বুদ্ধ করে। জুয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তির পেছনে ও রয়েছে একই অনিশ্চয়তার টান।

অস্থিরতাই টিকে থাকার পথ

ডোপামিন পৃথিবীকে ভালো বা খারাপ হিসেবে চিহ্নিত করে না। বরং বলে—আরও বোঝার চেষ্টা করো, নতুন কিছু খুঁজে বের করো। দীর্ঘমেয়াদে এতে বিরক্ত তৈরি হলেও সেই বিরক্তিই মানুষকে নতুন আবিষ্কার, নতুন আনন্দ আর নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যায়। বিবর্তনের দৃষ্টিতে অস্থির, অনুসন্ধিৎসু প্রাণীই শেষ পর্যন্ত বেশি সফল হয়।

মনের শান্তি হয়তো সবসময় সম্ভব নয়, কিন্তু এই অস্থির অনুসন্ধানই মানুষের জীবনকে অর্থবহ করে তোলে।

Serenity Strull It may make most sense to think of dopamine as an imperative signal, telling you to "figure this out", though more research is needed to confirm this (Credit: Serenity Strull)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

ডোপামিন নিয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝি: সুখ নয়, অস্থিরতার ভেতরেই লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার শক্তি

০১:০৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মানুষ প্রায়ই মনে করে নিজের মনের সঙ্গে ই তার লড়াই চলছে। যা চাই তা পাই না, যা পাই তা চাই না, ভালো জিনিসে আগ্রহ হারাই আর খারাপের প্রতি টান তৈরি হয়। এই অদ্ভুত দ্বন্দ্বের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে মস্তিষ্কের এক গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক সংকেতবাহক—ডোপামিন। একে অনেক সময় সুখের রাসায়নিক বলা হলেও বাস্তবে বিষয়টি অনেক বেশি জটিল।

ডোপামিন আসলে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে বাধ্য করে। আমরা যা পেয়েছি তাতে সন্তুষ্ট না থেকে নতুন কিছু খুঁজতে প্ররোচিত হই। বিবর্তনের দৃষ্টিতে এই অস্থিরতা ই টিকে থাকার শক্তি তৈরি করেছে।

মস্তিষ্কের দ্বৈত টানাপোড়েন

মস্তিষ্কের একটি অংশ বাস্তবতাকে বোঝার চেষ্টা করে এবং প্রত্যাশার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে চায়। কিন্তু যদি শুধু এই মিলই লক্ষ্য হতো, তবে মানুষ হয়তো কোনো অন্ধকার স্থিরতায় থেমে যেত। এখানে সক্রিয় হয় পুরস্কার ব্যবস্থা, যার প্রধান চালিকাশক্তি ডোপামিন। এটি আমাদের নতুন অভিজ্ঞতা, লক্ষ্য আর সাফল্যের দিকে ঠেলে দেয়।

Serenity Strull Anything we do on top of basic reflexes, such as chewing food when it is placed in our mouth, is motivated by dopamine (Credit: Serenity Strull)

ডোপামিন না থাকলে কী ঘটে

এক ধরনের রহস্যময় রোগে আক্রান্ত মানুষের পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায়, ডোপামিনের ঘাটতি হলে মানুষ প্রায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় চলে যায়। তারা জেগে থাকলেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কিছু করতে পারে না। অর্থাৎ ডোপামিন শুধু চলাফেরা নয়, অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রেরণাও তৈরি করে।

সুখের রাসায়নিক নয় কেন

ডোপামিন সরাসরি আনন্দ তৈরি করে—এই ধারণা ভুল। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি আনন্দের চেয়ে মনোযোগ, শেখা এবং সফল আচরণ পুনরাবৃত্তির সঙ্গে বেশি জড়িত। কোনো কাজ প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল দিলে ডোপামিনের স্রোত বাড়ে এবং মস্তিষ্ক সেই অভিজ্ঞতাকে শক্তভাবে মনে রাখে।

Serenity Strull Studies of rats indicate that dopamine release aligns more with the surprise than with actual reward delivery (Credit: Serenity Strull)

অপ্রত্যাশিত সাফল্যের শক্তি

ডোপামিন সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয় তখনই, যখন ফলাফল চমক সৃষ্টি করে। এই অপ্রত্যাশিত পুরস্কারই মানুষকে বারবার চেষ্টা করতে উদ্বুদ্ধ করে। জুয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তির পেছনে ও রয়েছে একই অনিশ্চয়তার টান।

অস্থিরতাই টিকে থাকার পথ

ডোপামিন পৃথিবীকে ভালো বা খারাপ হিসেবে চিহ্নিত করে না। বরং বলে—আরও বোঝার চেষ্টা করো, নতুন কিছু খুঁজে বের করো। দীর্ঘমেয়াদে এতে বিরক্ত তৈরি হলেও সেই বিরক্তিই মানুষকে নতুন আবিষ্কার, নতুন আনন্দ আর নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যায়। বিবর্তনের দৃষ্টিতে অস্থির, অনুসন্ধিৎসু প্রাণীই শেষ পর্যন্ত বেশি সফল হয়।

মনের শান্তি হয়তো সবসময় সম্ভব নয়, কিন্তু এই অস্থির অনুসন্ধানই মানুষের জীবনকে অর্থবহ করে তোলে।

Serenity Strull It may make most sense to think of dopamine as an imperative signal, telling you to "figure this out", though more research is needed to confirm this (Credit: Serenity Strull)