১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকায় আটা ও সুগন্ধি চালের দাম চড়া, বোতলের সয়াবিন উধাও

ঢাকার কাঁচাবাজারে আটা, ময়দা ও সুগন্ধি চালের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট এখনো কাটেনি। এই দুইয়ের চাপে বিপাকে পড়েছে বেকারি, বিরিয়ানির দোকান ও মধ্যবিত্ত পরিবার। শুক্রবার শান্তিনগর, রামপুরা, বাড্ডা ও শাহজাদপুরের বাজার ঘুরে দাম বাড়ার এই চিত্র পাওয়া গেছে।
খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ টাকা। ময়দার দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা অর্ধেক করার পরও এই চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। ভালো মানের খোলা সুগন্ধি চাল এখন ২০০ টাকা কেজি, আগের সপ্তাহে ছিল ১৮০ টাকা। প্যাকেটজাত সুগন্ধি চাল বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়। ক্রেতারা বলছেন, এক মাস আগেও একই চাল মিলত ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়।
সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর এক সপ্তাহ পরও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। বেশির ভাগ দোকানে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন নেই। বাধ্য হয়ে অনেকে কিনছেন তুলনামূলক দামি রাইস ব্রান বা সূর্যমুখী তেল। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তেল কোম্পানি ও ডিলারদের কাছে বারবার চেয়েও সাড়া মিলছে না, উল্টো লিটারপ্রতি কমিশন কমানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কয়েকটি কোম্পানি অন্য পণ্যের অর্ডার না নিলে সয়াবিন দিচ্ছে না।
Flour, aromatic rice prices spike as edible oil crisis persists in Dhaka
বেকারি ও বিরিয়ানি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই ধারা চললে দাম আরও বাড়াতে হবে। বাড্ডার মা বিরিয়ানির ব্যবস্থাপক আনোয়ার জানান, আগে চিকেন পোলাও প্যাকেটপ্রতি ১২০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন নিতে হচ্ছে ১৫০ টাকা। তার মতে, নতুন দামও বেশিদিন ধরে রাখা কঠিন হবে। রামপুরার আদিব লাইভ বেকারির মালিক আদিব রহমান জানান, বেকারি সমিতি সব ময়দাজাত পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়াতে বলেছে। দাম না বাড়ালে মুনাফা থাকে না, বাড়ালে ক্রেতা চলে যায়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। জুলাইয়ের তুলনায় সার্বিক হার কিছুটা কমেছে। রামপুরার ক্রেতা আফসানার প্রশ্ন, বড় করপোরেট কোম্পানিগুলো কেন বাজারে তেল দিচ্ছে না। পরিসংখ্যানে যে স্বস্তির ইঙ্গিত, বাজারের ব্যাগে সেটি এখনো ঢোকেনি।
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় আটা ও সুগন্ধি চালের দাম চড়া, বোতলের সয়াবিন উধাও

১১:০৪:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকার কাঁচাবাজারে আটা, ময়দা ও সুগন্ধি চালের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট এখনো কাটেনি। এই দুইয়ের চাপে বিপাকে পড়েছে বেকারি, বিরিয়ানির দোকান ও মধ্যবিত্ত পরিবার। শুক্রবার শান্তিনগর, রামপুরা, বাড্ডা ও শাহজাদপুরের বাজার ঘুরে দাম বাড়ার এই চিত্র পাওয়া গেছে।
খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ টাকা। ময়দার দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা অর্ধেক করার পরও এই চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। ভালো মানের খোলা সুগন্ধি চাল এখন ২০০ টাকা কেজি, আগের সপ্তাহে ছিল ১৮০ টাকা। প্যাকেটজাত সুগন্ধি চাল বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়। ক্রেতারা বলছেন, এক মাস আগেও একই চাল মিলত ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়।
সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর এক সপ্তাহ পরও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। বেশির ভাগ দোকানে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন নেই। বাধ্য হয়ে অনেকে কিনছেন তুলনামূলক দামি রাইস ব্রান বা সূর্যমুখী তেল। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তেল কোম্পানি ও ডিলারদের কাছে বারবার চেয়েও সাড়া মিলছে না, উল্টো লিটারপ্রতি কমিশন কমানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কয়েকটি কোম্পানি অন্য পণ্যের অর্ডার না নিলে সয়াবিন দিচ্ছে না।
Flour, aromatic rice prices spike as edible oil crisis persists in Dhaka
বেকারি ও বিরিয়ানি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই ধারা চললে দাম আরও বাড়াতে হবে। বাড্ডার মা বিরিয়ানির ব্যবস্থাপক আনোয়ার জানান, আগে চিকেন পোলাও প্যাকেটপ্রতি ১২০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন নিতে হচ্ছে ১৫০ টাকা। তার মতে, নতুন দামও বেশিদিন ধরে রাখা কঠিন হবে। রামপুরার আদিব লাইভ বেকারির মালিক আদিব রহমান জানান, বেকারি সমিতি সব ময়দাজাত পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়াতে বলেছে। দাম না বাড়ালে মুনাফা থাকে না, বাড়ালে ক্রেতা চলে যায়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। জুলাইয়ের তুলনায় সার্বিক হার কিছুটা কমেছে। রামপুরার ক্রেতা আফসানার প্রশ্ন, বড় করপোরেট কোম্পানিগুলো কেন বাজারে তেল দিচ্ছে না। পরিসংখ্যানে যে স্বস্তির ইঙ্গিত, বাজারের ব্যাগে সেটি এখনো ঢোকেনি।