শনিবার সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা উঠে এসেছে তৃতীয় স্থানে। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর বায়ুমান সূচকের স্কোর ছিল ১২৯। এই স্কোর অনুযায়ী ঢাকার বাতাস সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
তালিকার শীর্ষে ছিল মালয়েশিয়ার কুচিং, স্কোর ১৯১। দ্বিতীয় স্থানে ছিল ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, স্কোর ১৬৭। বায়ুমান সূচকের মানদণ্ড অনুযায়ী ৫০ থেকে ১০০ স্কোরকে ধরা হয় মাঝারি মানের বাতাস হিসেবে, যা সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য। তবে অতিমাত্রায় সংবেদনশীল ব্যক্তিরা এ সময়ও সামান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন এবং তাদের দীর্ঘ সময় বাইরে ভারী কাজ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

১০১ থেকে ১৫০ স্কোর মানে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে বলা হয় অস্বাস্থ্যকর। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত। ৩০১ এর বেশি স্কোরকে ধরা হয় দুর্যোগপূর্ণ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। বায়ুমান সূচক দৈনিক বায়ুর গুণমান জানাতে এবং দূষণের সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাব বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশে এই সূচক হিসাব করা হয় পাঁচটি প্রধান দূষক ধরে। এগুলো হলো বস্তুকণা পিএম টেন ও পিএম টু পয়েন্ট ফাইভ, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড এবং ওজোন। ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণ নিয়ে সংকটে আছে। সাধারণত শীতে বাতাসের মান খারাপ হয় এবং বর্ষা এলে কিছুটা উন্নতি ঘটে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণে বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে বড় অংশই স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ, ফুসফুস ক্যানসার ও তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণজনিত।
সেপ্টেম্বরের বৃষ্টিভেজা সকালেও স্কোর ১২৯ পর্যন্ত ওঠা নিজেই একটি ইঙ্গিত। বর্ষা শেষ হয়ে শীত নামলে এই সংখ্যাটি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, ঢাকার বাসিন্দারা তা গত কয়েক বছরেই দেখে ফেলেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















