ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আগে বৈঠকে তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের প্রভাব নিয়েও আলোচনা করেন। একই সময়ে পুতিন ব্রিকসকে পশ্চিমা নিয়মের বাইরে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি নতুন ও টেকসই প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্রিকস সম্মেলনের আগে মোদি-পুতিন বৈঠক
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মোদি ও পুতিন দুই দেশের ‘বিশেষ ও অগ্রাধিকারমূলক কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে সম্মত হন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই নেতা পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিয়ে নিজেদের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করেছেন। এসব সংঘাত সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলছে।
ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানসহ অন্যান্য নেতার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এমন সময়ে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নানা ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

পশ্চিমা প্রভাবের বাইরে প্রবৃদ্ধির প্ল্যাটফর্মের প্রস্তাব
ব্রিকসের একটি ব্যবসায়ী ফোরামের অনুষ্ঠানে পুতিন বলেন, পশ্চিমা প্রতিযোগীরা তাদের আগের নেতৃত্বের অবস্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তার অভিযোগ, এই প্রতিযোগিতা কখনো কখনো শিল্প ও লজিস্টিক অবকাঠামো, পাইপলাইনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় সরাসরি হামলা এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন করিডর বাধাগ্রস্ত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে।
পুতিন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা ও তথাকথিত ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এর বিপরীতে ব্রিকসকে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি ‘নতুন, টেকসই প্ল্যাটফর্ম’ তৈরি করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাশিয়ার বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ জানান, ব্রিকস ধীরে ধীরে একটি ভূরাজনৈতিক জোট থেকে আরও বাস্তবভিত্তিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের দিকে এগোচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো, অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং যৌথ অবকাঠামো গড়ে তোলাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাণিজ্য ও রুশ জ্বালানি নিয়ে ভারতের অবস্থান
ভারত বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো, রাশিয়া, ইরান ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল ও বাণিজ্যে বিঘ্নও দেশটির ওপর প্রভাব ফেলছে।
ভারত ও চীন রাশিয়ার বড় তেল ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে। ইউক্রেনে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রুশ বাজেটের জন্য এই তেল বিক্রি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ভারত বলছে, বিপুল জনসংখ্যা ও অর্থনীতির প্রয়োজন মেটাতে তাদের নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে ভারত ও রাশিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















