০৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর

ঢাকার ঐচি হাসপাতাল: দরিদ্র মানুষের জন্য চিকিৎসার অঙ্গীকারে ৩০ বছরের মানবিক গল্প

ঢাকার উত্তরের নদীতীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা একটি হাসপাতাল নিঃশব্দে বহন করে মানবিকতার এক দীর্ঘ প্রতিশ্রুতি। ‘ঐচি হাসপাতাল’ নামটি যেমন জাপানের একটি অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেয়, তেমনি এর ভেতরের প্রতিটি দিনই লেখা হচ্ছে দরিদ্র মানুষের জন্য চিকিৎসার এক অনন্য ইতিহাস।

দরিদ্রদের জন্য চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি

১৯৯৬ সালে চিকিৎসক মোয়াজ্জেম হোসেন এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি দেশের দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। সেই স্বপ্ন আজও অটুট রয়েছে। হাসপাতালটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ রোগীকে কোনো টাকা ছাড়াই চিকিৎসা দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারও করা হয়।

সম্প্রতি এক শিশুকে গুরুতর মাথায় আঘাত নিয়ে হাসপাতালে আনা হলে তার পরিবার চিকিৎসার খরচ দিতে না পারার কথা জানায়। তখন হাসপাতালের পক্ষ থেকে কোনো অর্থ ছাড়াই তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়। এমন ঘটনা এখানে প্রায়ই ঘটে।

শৈশবের অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে ওঠা স্বপ্ন

শৈশবে চিকিৎসার অভাবে শিশুদের মৃত্যুর দৃশ্য মোয়াজ্জেম হোসেনকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে দরিদ্র মানুষের জন্য একটি হাসপাতাল গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা দেয়। মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি জাপানে গিয়ে পড়াশোনা করেন এবং সেখানে একদল মানুষের সহযোগিতা লাভ করেন।

জাপানের মানুষের সহায়তায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান

জাপানের কিছু সহৃদয় মানুষের উদ্যোগে গড়ে ওঠে একটি সহযোগিতা সংগঠন, যা তহবিল সংগ্রহ করে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। দাতব্য কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে মাত্র এক বছরের মধ্যে হাসপাতালটি গড়ে তোলা সম্ভব হয়। এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই আজকের ঐচি হাসপাতালের ভিত্তি।

ছোট উদ্যোগ থেকে বড় প্রতিষ্ঠানে রূপ

শুরুতে সাধারণ চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও এখন এটি একটি বিস্তৃত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। নিজস্ব চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সেতুবন্ধন

এই হাসপাতাল শুধু চিকিৎসা নয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতারও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগেও সহায়তা করা হচ্ছে। মোয়াজ্জেম হোসেন প্রতি বছর জাপান সফর করেন এবং সেই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করে চলেছেন।

তিনি বলেন, জাপানে না গেলে তার এই স্বপ্ন কখনো পূরণ হতো না। জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি এই সম্পর্ককে ধরে রাখতে চান।

জনপ্রিয় সংবাদ

জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব

ঢাকার ঐচি হাসপাতাল: দরিদ্র মানুষের জন্য চিকিৎসার অঙ্গীকারে ৩০ বছরের মানবিক গল্প

০৯:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

ঢাকার উত্তরের নদীতীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা একটি হাসপাতাল নিঃশব্দে বহন করে মানবিকতার এক দীর্ঘ প্রতিশ্রুতি। ‘ঐচি হাসপাতাল’ নামটি যেমন জাপানের একটি অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেয়, তেমনি এর ভেতরের প্রতিটি দিনই লেখা হচ্ছে দরিদ্র মানুষের জন্য চিকিৎসার এক অনন্য ইতিহাস।

দরিদ্রদের জন্য চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি

১৯৯৬ সালে চিকিৎসক মোয়াজ্জেম হোসেন এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে তিনি দেশের দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। সেই স্বপ্ন আজও অটুট রয়েছে। হাসপাতালটির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ রোগীকে কোনো টাকা ছাড়াই চিকিৎসা দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারও করা হয়।

সম্প্রতি এক শিশুকে গুরুতর মাথায় আঘাত নিয়ে হাসপাতালে আনা হলে তার পরিবার চিকিৎসার খরচ দিতে না পারার কথা জানায়। তখন হাসপাতালের পক্ষ থেকে কোনো অর্থ ছাড়াই তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়। এমন ঘটনা এখানে প্রায়ই ঘটে।

শৈশবের অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে ওঠা স্বপ্ন

শৈশবে চিকিৎসার অভাবে শিশুদের মৃত্যুর দৃশ্য মোয়াজ্জেম হোসেনকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে দরিদ্র মানুষের জন্য একটি হাসপাতাল গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা দেয়। মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি জাপানে গিয়ে পড়াশোনা করেন এবং সেখানে একদল মানুষের সহযোগিতা লাভ করেন।

জাপানের মানুষের সহায়তায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান

জাপানের কিছু সহৃদয় মানুষের উদ্যোগে গড়ে ওঠে একটি সহযোগিতা সংগঠন, যা তহবিল সংগ্রহ করে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। দাতব্য কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে মাত্র এক বছরের মধ্যে হাসপাতালটি গড়ে তোলা সম্ভব হয়। এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই আজকের ঐচি হাসপাতালের ভিত্তি।

ছোট উদ্যোগ থেকে বড় প্রতিষ্ঠানে রূপ

শুরুতে সাধারণ চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও এখন এটি একটি বিস্তৃত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। নিজস্ব চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সেতুবন্ধন

এই হাসপাতাল শুধু চিকিৎসা নয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতারও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগেও সহায়তা করা হচ্ছে। মোয়াজ্জেম হোসেন প্রতি বছর জাপান সফর করেন এবং সেই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করে চলেছেন।

তিনি বলেন, জাপানে না গেলে তার এই স্বপ্ন কখনো পূরণ হতো না। জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি এই সম্পর্ককে ধরে রাখতে চান।