০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট, চার ঘণ্টা আটকে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভয়াবহ যানজটে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে থাকার পর অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোরে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আমিরুন্নেছা লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রাণভাগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্বজনদের ভাষ্য, তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিলেন।

দাউদকান্দিতে আটকে যায় অ্যাম্বুলেন্স

আমিরুন্নেছার স্বজন তারেক আল হাসান জানান, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। রাত ৮টার দিকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন স্বজনরা।

রাত ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি দাউদকান্দি এলাকায় পৌঁছালে তীব্র যানজটে আটকে পড়ে। এরপর প্রায় চার ঘণ্টা গাড়িটি কার্যত নড়তে পারেনি। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই আমিরুন্নেছার মৃত্যু হয়।

৫০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আশিরচর থেকে কুমিল্লার চান্দিনার কুটুম্বপুর পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছিল।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আশিরচরের একটি সেতুতে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই যান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। রাত পেরিয়ে শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত যানজটের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল।

দাউদকান্দি মহাসড়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রেমদাস রায় জানান, গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছেন। পরে তিনি জানান, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে এবং মহাসড়কের সব লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।

তবে দাউদকান্দির জিংলাতলী পর্যন্ত যানজট ছিল। আগের তুলনায় যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকা মানুষের দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি।

প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগ

দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা যাত্রীদের অনেকে জানান, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নারী, শিশু ও বয়স্করা।

অনেক যাত্রীর খাবার ও পানীয় জলের সংকটও দেখা দেয়। দীর্ঘ সময়ের এই অচলাবস্থায় অসুস্থ ও জরুরি চিকিৎসাপ্রত্যাশী মানুষের দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

আমিরুন্নেছার মৃত্যু আবারও দেখিয়ে দিল, মহাসড়কে দীর্ঘস্থায়ী যানজট শুধু যাত্রাবিলম্বই ঘটায় না—জরুরি চিকিৎসার জন্য ছুটে চলা মানুষের জীবনও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট, চার ঘণ্টা আটকে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু

০৫:০৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভয়াবহ যানজটে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে থাকার পর অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোরে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আমিরুন্নেছা লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রাণভাগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্বজনদের ভাষ্য, তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিলেন।

দাউদকান্দিতে আটকে যায় অ্যাম্বুলেন্স

আমিরুন্নেছার স্বজন তারেক আল হাসান জানান, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। রাত ৮টার দিকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন স্বজনরা।

রাত ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি দাউদকান্দি এলাকায় পৌঁছালে তীব্র যানজটে আটকে পড়ে। এরপর প্রায় চার ঘণ্টা গাড়িটি কার্যত নড়তে পারেনি। ভোর সাড়ে ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই আমিরুন্নেছার মৃত্যু হয়।

৫০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আশিরচর থেকে কুমিল্লার চান্দিনার কুটুম্বপুর পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছিল।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আশিরচরের একটি সেতুতে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই যান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। রাত পেরিয়ে শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত যানজটের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল।

দাউদকান্দি মহাসড়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রেমদাস রায় জানান, গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছেন। পরে তিনি জানান, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে এবং মহাসড়কের সব লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।

তবে দাউদকান্দির জিংলাতলী পর্যন্ত যানজট ছিল। আগের তুলনায় যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকা মানুষের দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি।

প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগ

দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা যাত্রীদের অনেকে জানান, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নারী, শিশু ও বয়স্করা।

অনেক যাত্রীর খাবার ও পানীয় জলের সংকটও দেখা দেয়। দীর্ঘ সময়ের এই অচলাবস্থায় অসুস্থ ও জরুরি চিকিৎসাপ্রত্যাশী মানুষের দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

আমিরুন্নেছার মৃত্যু আবারও দেখিয়ে দিল, মহাসড়কে দীর্ঘস্থায়ী যানজট শুধু যাত্রাবিলম্বই ঘটায় না—জরুরি চিকিৎসার জন্য ছুটে চলা মানুষের জীবনও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।