০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

তাইওয়ানের ঋণকৌশলে মিত্রদের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের বিরুদ্ধে ‘ঋণের ফাঁদ’ তৈরির অভিযোগ বহুদিনের। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে পশ্চিমা গণমাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা—অনেকেই উন্নয়নশীল দেশগুলোকে চীনের দ্বিপক্ষীয় ঋণের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। তবে গ্রেনাডার এক দশক আগের ঋণবিরোধ এবং বর্তমানে সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডিনসের ঋণসংকট এই প্রচলিত বয়ানের বাইরে ভিন্ন একটি বাস্তবতা সামনে আনছে। অভিযোগ উঠেছে, তাইওয়ানও ঋণকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

গ্রেনাডার সংকট ও কূটনৈতিক পরিবর্তন

বহু বছর ধরে গ্রেনাডা গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। ২০০৪ সালে হারিকেন ইভানের আঘাতে দেশটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর পরের বছর, ২০০৫ সালে, গ্রেনাডা তাইওয়ানের পরিবর্তে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়।

Year in Review: 2005 - World Socialist Web Site

সে সময় গ্রেনাডার জনসংখ্যা ছিল মাত্র এক লাখের কিছু বেশি। একই সময়ে ২০০৫ সালে আরেকটি হারিকেনের আঘাতে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে কমছে তাইওয়ানের মিত্র

বর্তমানে বিশ্বের মাত্র ১২টি দেশ তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। এর মধ্যে চারটি দেশ ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থিত। দেশগুলো হলো হাইতি, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া এবং সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডিনস।

এই সীমিত কূটনৈতিক সমর্থনের পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর জন্য ঋণ ও আর্থিক সম্পর্ক ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠছে। গ্রেনাডার অতীত অভিজ্ঞতা এবং সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডিনসের বর্তমান পরিস্থিতি তাইওয়ানের অবশিষ্ট মিত্রদের জন্য নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে—কূটনৈতিক আনুগত্যের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক কতটা নিরাপদ এবং ঋণ কি কখনো রাজনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে?

তাইওয়ানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যত তীব্র হচ্ছে, তার অল্পসংখ্যক কূটনৈতিক মিত্রদের জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্কের এই দিকটি উপেক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

তাইওয়ানের ঋণকৌশলে মিত্রদের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা

০১:১০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের বিরুদ্ধে ‘ঋণের ফাঁদ’ তৈরির অভিযোগ বহুদিনের। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে পশ্চিমা গণমাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা—অনেকেই উন্নয়নশীল দেশগুলোকে চীনের দ্বিপক্ষীয় ঋণের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। তবে গ্রেনাডার এক দশক আগের ঋণবিরোধ এবং বর্তমানে সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডিনসের ঋণসংকট এই প্রচলিত বয়ানের বাইরে ভিন্ন একটি বাস্তবতা সামনে আনছে। অভিযোগ উঠেছে, তাইওয়ানও ঋণকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

গ্রেনাডার সংকট ও কূটনৈতিক পরিবর্তন

বহু বছর ধরে গ্রেনাডা গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। ২০০৪ সালে হারিকেন ইভানের আঘাতে দেশটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর পরের বছর, ২০০৫ সালে, গ্রেনাডা তাইওয়ানের পরিবর্তে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়।

Year in Review: 2005 - World Socialist Web Site

সে সময় গ্রেনাডার জনসংখ্যা ছিল মাত্র এক লাখের কিছু বেশি। একই সময়ে ২০০৫ সালে আরেকটি হারিকেনের আঘাতে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে কমছে তাইওয়ানের মিত্র

বর্তমানে বিশ্বের মাত্র ১২টি দেশ তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। এর মধ্যে চারটি দেশ ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থিত। দেশগুলো হলো হাইতি, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া এবং সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডিনস।

এই সীমিত কূটনৈতিক সমর্থনের পরিস্থিতিতে তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর জন্য ঋণ ও আর্থিক সম্পর্ক ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠছে। গ্রেনাডার অতীত অভিজ্ঞতা এবং সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডিনসের বর্তমান পরিস্থিতি তাইওয়ানের অবশিষ্ট মিত্রদের জন্য নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে—কূটনৈতিক আনুগত্যের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক কতটা নিরাপদ এবং ঋণ কি কখনো রাজনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে?

তাইওয়ানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যত তীব্র হচ্ছে, তার অল্পসংখ্যক কূটনৈতিক মিত্রদের জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্কের এই দিকটি উপেক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।