০৬:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি থামাল যুক্তরাষ্ট্র, কারণ ইরান যুদ্ধ?

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে সামরিক প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার কারণে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত দেওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাইপের জন্য পরিকল্পিত প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রচুক্তি।

জাপানের টোকিও ও তাইওয়ান থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করেছিলেন। নতুন যে প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা চলছে, সেটি তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই অনুমোদন আটকে গেছে বলে ধারণা তৈরি হয়েছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব

কংগ্রেসে শুনানির সময় হাং কাও বলেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ ও অস্ত্র মজুত নিশ্চিত করতেই এই বিরতি নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই সামরিক অভিযানের নাম “এপিক ফিউরি” বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে চায়। এরপর প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে বিদেশি সামরিক বিক্রি আবারও চালু হবে।

যদিও বর্তমানে ইরান যুদ্ধ সরাসরি সংঘাতে নেই এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেহরান সন্তোষজনক সমঝোতায় না এলে আবারও হামলা শুরু হতে পারে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের পর বাড়ল আলোচনা

তাইওয়ানকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পর। সেখানে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু গুরুত্ব পায় এবং শি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভুলভাবে বিষয়টি পরিচালনা করলে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বেইজিং সফর শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তাইওয়ান নিয়ে তিনি এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেননি। নতুন অস্ত্রচুক্তি অনুমোদন করবেন কি না, সেটিও তিনি বিবেচনা করছেন।

US Temporarily Halts $14 Billion Arms Sale to Taiwan | Ratopati | No.1  Nepali News Portal

তাইওয়ানের প্রতিক্রিয়া

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও শুক্রবার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অস্ত্রচুক্তি পরিবর্তন বা স্থগিত নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য তারা পায়নি। তার মতে, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তাইওয়ানের বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেট সংসদে নির্বিঘ্নে পাস করা।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের নেতৃত্বে তাইওয়ান সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ সেই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অস্ত্র সরবরাহে পুরোনো জট

তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহে আগেও দীর্ঘসূত্রতা ছিল। গত বছরের শেষ দিকে দেশটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ বকেয়া ছিল ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। মূলত প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সীমিত উৎপাদন সক্ষমতার কারণেই এই জট তৈরি হয়েছিল।

তবে হাং কাওয়ের বক্তব্য ভবিষ্যৎ অস্ত্রচুক্তির ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক স্টিভ ইয়েটস বিষয়টিকে “অস্বাভাবিক” বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, নৌবাহিনীর সচিব সাধারণত এমন তথ্য প্রকাশের দায়িত্বে থাকেন না এবং দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি সম্পর্কও খুব সীমিত।

এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন শুক্রবার আবারও বলেন, তাইওয়ান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে বেইজিং এবং এ অবস্থান তাদের দীর্ঘদিনের ও দৃঢ় নীতি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি থামাল যুক্তরাষ্ট্র, কারণ ইরান যুদ্ধ?

০৬:০১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে সামরিক প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার কারণে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত দেওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাইপের জন্য পরিকল্পিত প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রচুক্তি।

জাপানের টোকিও ও তাইওয়ান থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করেছিলেন। নতুন যে প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা চলছে, সেটি তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই অনুমোদন আটকে গেছে বলে ধারণা তৈরি হয়েছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব

কংগ্রেসে শুনানির সময় হাং কাও বলেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ ও অস্ত্র মজুত নিশ্চিত করতেই এই বিরতি নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই সামরিক অভিযানের নাম “এপিক ফিউরি” বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে চায়। এরপর প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে বিদেশি সামরিক বিক্রি আবারও চালু হবে।

যদিও বর্তমানে ইরান যুদ্ধ সরাসরি সংঘাতে নেই এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তেহরান সন্তোষজনক সমঝোতায় না এলে আবারও হামলা শুরু হতে পারে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের পর বাড়ল আলোচনা

তাইওয়ানকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পর। সেখানে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু গুরুত্ব পায় এবং শি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভুলভাবে বিষয়টি পরিচালনা করলে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বেইজিং সফর শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তাইওয়ান নিয়ে তিনি এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেননি। নতুন অস্ত্রচুক্তি অনুমোদন করবেন কি না, সেটিও তিনি বিবেচনা করছেন।

US Temporarily Halts $14 Billion Arms Sale to Taiwan | Ratopati | No.1  Nepali News Portal

তাইওয়ানের প্রতিক্রিয়া

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও শুক্রবার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অস্ত্রচুক্তি পরিবর্তন বা স্থগিত নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য তারা পায়নি। তার মতে, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তাইওয়ানের বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেট সংসদে নির্বিঘ্নে পাস করা।

বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের নেতৃত্বে তাইওয়ান সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ সেই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অস্ত্র সরবরাহে পুরোনো জট

তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহে আগেও দীর্ঘসূত্রতা ছিল। গত বছরের শেষ দিকে দেশটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ বকেয়া ছিল ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। মূলত প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের সীমিত উৎপাদন সক্ষমতার কারণেই এই জট তৈরি হয়েছিল।

তবে হাং কাওয়ের বক্তব্য ভবিষ্যৎ অস্ত্রচুক্তির ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক স্টিভ ইয়েটস বিষয়টিকে “অস্বাভাবিক” বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, নৌবাহিনীর সচিব সাধারণত এমন তথ্য প্রকাশের দায়িত্বে থাকেন না এবং দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্রচুক্তির সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি সম্পর্কও খুব সীমিত।

এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন শুক্রবার আবারও বলেন, তাইওয়ান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করে বেইজিং এবং এ অবস্থান তাদের দীর্ঘদিনের ও দৃঢ় নীতি।