০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

নতুন চ্যালেঞ্জ: মার্কিন ‘সুপার হারকিউলিস’-কে ছাড়িয়ে যেতে চীনের ওয়াই-৩০

চীন তাদের নতুন প্রজন্মের মাঝারি সক্ষমতার সামরিক পরিবহন বিমান ওয়াই-৩০ নিয়ে বড় ধরনের দাবি তুলেছে। দেশটির এক সামরিক সাময়িকীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সি-১৩০জে ‘সুপার হারকিউলিস’-কে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছাড়িয়ে যেতে পারে।

প্রথম উড্ডয়ন ও নির্মাণ

চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ প্রযুক্তির এই বিমানটি ওয়াই-৩০ বা ওয়াই-১৫ নামেও পরিচিত। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করে। বিমানটি তৈরি করেছে শানসি এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন, যা চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান নির্মাতা সংস্থা এভিয়েশান ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অব চায়নার অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এগিয়ে থাকার দাবি

চীনের বেইহাং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘এরোস্পেস নলেজ’ সাময়িকীতে বলা হয়েছে, এই নতুন ‘মিডিয়াম-লিফট ট্রান্সপোর্টার’—যাকে চীনা ভাষায় ‘সিন ঝং ইউন’ বলা হয়—মার্কিন সি-১৩০জে বিমানের তুলনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এগিয়ে।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, ইঞ্জিন শক্তি, বহনক্ষমতা, কাঠামোগত নকশা ও উপকরণ, আধুনিক অ্যাভিওনিক্স এবং ফ্লাইট কন্ট্রোল সফটওয়্যারের মতো দিকগুলোতে ওয়াই-৩০ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত।

মার্কিন সি-১৩০জে: অভিজ্ঞতার শক্তি

সি-১৩০জে ‘সুপার হারকিউলিস’ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম সেরা কৌশলগত পরিবহন বিমান হিসেবে পরিচিত। এর উৎপত্তি ১৯৫০-এর দশকে শুরু হলেও ১৯৯০-এর দশকে উন্নত সংস্করণ হিসেবে সি-১৩০জে তৈরি হয়।

সম্প্রতি ইরানে ভূপাতিত এক পাইলটকে উদ্ধারের মার্কিন অভিযানে এই বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা এর বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের কার্যকারিতা প্রমাণ করে।

তুলনায় কোথায় এগিয়ে, কোথায় পিছিয়ে

যদিও চীনের দাবি অনুযায়ী ওয়াই-৩০ অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে, তবুও সি-১৩০জে এখনো কিছু ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে এর কার্যক্ষমতার পরিসর বা অপারেশনাল রেঞ্জ কিছুটা বেশি। এছাড়া বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হওয়ায় এই বিমানের বিভিন্ন বিশেষায়িত সংস্করণও তৈরি হয়েছে, যা একে আরও বহুমুখী করে তুলেছে।

সামরিক প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াই-৩০-এর উন্নয়ন চীনের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং কৌশলগত ক্ষমতা বাড়ানোর এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

নতুন চ্যালেঞ্জ: মার্কিন ‘সুপার হারকিউলিস’-কে ছাড়িয়ে যেতে চীনের ওয়াই-৩০

০৮:০৯:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

চীন তাদের নতুন প্রজন্মের মাঝারি সক্ষমতার সামরিক পরিবহন বিমান ওয়াই-৩০ নিয়ে বড় ধরনের দাবি তুলেছে। দেশটির এক সামরিক সাময়িকীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সি-১৩০জে ‘সুপার হারকিউলিস’-কে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছাড়িয়ে যেতে পারে।

প্রথম উড্ডয়ন ও নির্মাণ

চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ প্রযুক্তির এই বিমানটি ওয়াই-৩০ বা ওয়াই-১৫ নামেও পরিচিত। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এটি প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করে। বিমানটি তৈরি করেছে শানসি এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন, যা চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান নির্মাতা সংস্থা এভিয়েশান ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অব চায়নার অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এগিয়ে থাকার দাবি

চীনের বেইহাং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত ‘এরোস্পেস নলেজ’ সাময়িকীতে বলা হয়েছে, এই নতুন ‘মিডিয়াম-লিফট ট্রান্সপোর্টার’—যাকে চীনা ভাষায় ‘সিন ঝং ইউন’ বলা হয়—মার্কিন সি-১৩০জে বিমানের তুলনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এগিয়ে।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, ইঞ্জিন শক্তি, বহনক্ষমতা, কাঠামোগত নকশা ও উপকরণ, আধুনিক অ্যাভিওনিক্স এবং ফ্লাইট কন্ট্রোল সফটওয়্যারের মতো দিকগুলোতে ওয়াই-৩০ উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত।

মার্কিন সি-১৩০জে: অভিজ্ঞতার শক্তি

সি-১৩০জে ‘সুপার হারকিউলিস’ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম সেরা কৌশলগত পরিবহন বিমান হিসেবে পরিচিত। এর উৎপত্তি ১৯৫০-এর দশকে শুরু হলেও ১৯৯০-এর দশকে উন্নত সংস্করণ হিসেবে সি-১৩০জে তৈরি হয়।

সম্প্রতি ইরানে ভূপাতিত এক পাইলটকে উদ্ধারের মার্কিন অভিযানে এই বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা এর বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের কার্যকারিতা প্রমাণ করে।

তুলনায় কোথায় এগিয়ে, কোথায় পিছিয়ে

যদিও চীনের দাবি অনুযায়ী ওয়াই-৩০ অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে, তবুও সি-১৩০জে এখনো কিছু ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে এর কার্যক্ষমতার পরিসর বা অপারেশনাল রেঞ্জ কিছুটা বেশি। এছাড়া বহু বছর ধরে ব্যবহৃত হওয়ায় এই বিমানের বিভিন্ন বিশেষায়িত সংস্করণও তৈরি হয়েছে, যা একে আরও বহুমুখী করে তুলেছে।

সামরিক প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াই-৩০-এর উন্নয়ন চীনের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং কৌশলগত ক্ষমতা বাড়ানোর এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।