০৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

নতুন মার্কিন শুল্ক ব্যবস্থায় পোশাক রপ্তানিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

নতুন মার্কিন শুল্ক ব্যবস্থায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য তৈরি হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কাঠামোয় বাংলাদেশকে তুলনামূলক কম ১০ শতাংশ শুল্ক স্তরে রাখা হয়েছে। ফলে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো বড় পোশাক রপ্তানিকারক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ২ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুবিধা পাচ্ছে।

নতুন এই ব্যবস্থা ২৪ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কম শুল্কে বাড়তে পারে রপ্তানির সুযোগ

নতুন শুল্ক কাঠামোয় ৬০টি অর্থনীতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশসহ ১৭টি অর্থনীতিকে ১০ শতাংশের নিম্ন শুল্ক স্তরে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ ৩৫টি দেশকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে শুল্কের আওতায় রাখা হয়েছে।

এর অর্থ হলো, একই ধরনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তৈরি পোশাকের মতো তীব্র প্রতিযোগিতামূলক খাতে এই ব্যবধান ছোট মনে হলেও বড় অর্ডারের ক্ষেত্রে তা রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ সুবিধার আওতায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বস্ত্র আমদানির জন্য দুই ধরনের তিন বছর মেয়াদি শুল্কহার কোটা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর একটি সাধারণ বস্ত্রপণ্যের জন্য এবং অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি পণ্যের জন্য।

এই কোটা চালু হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি বস্ত্র ও পোশাক পণ্য শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ছাড়াও কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া এই বিশেষ সুবিধার সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। তবে ভিয়েতনাম, চীন ও ভারতসহ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ এই সুবিধার বাইরে রয়েছে।

তবে এই বিশেষ শুল্কহার কোটা এখনো কার্যকর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো এর কার্যকর হওয়ার তারিখ ঘোষণা করেনি। ফলে আপাতত সব চালানের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ সমতল শুল্কই প্রযোজ্য থাকছে।

মার্কিন শুল্কনীতিতে বাংলাদেশের 'তুলনামূলক সুবিধা' আরও জোরালো | The  Financial Express

বাংলাদেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

শুধু শুল্ক সুবিধা পেলেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে না। বরং এই সুবিধাকে কাজে লাগাতে উৎপাদন খরচ কমানো, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং পণ্যের বৈচিত্র্য আনার দিকে নজর দিতে হবে।

বাংলাদেশের পোশাক খাতকে একই সঙ্গে বেশি মূল্য সংযোজনের পণ্য উৎপাদন, নতুন নকশা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কারণ বৈশ্বিক পোশাক বাজারে প্রতিযোগিতা দিন দিন আরও কঠিন হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কম শুল্কের সুবিধাকে দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে রূপ দিতে হলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে শুধু কম দামের পণ্য সরবরাহের ওপর নির্ভর না করে মান, বৈচিত্র্য ও মূল্য সংযোজনের দিকে এগোতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নতুন সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার। তাই নতুন শুল্ক ব্যবস্থায় পাওয়া এই সুবিধা বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে।

বিশেষ করে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের তুলনায় শুল্ক ব্যবধান এবং সম্ভাব্য শুল্কহার কোটার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে।

তবে এই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যাবে, তা নির্ভর করবে দেশের পোশাক শিল্প কত দ্রুত উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে, নতুন পণ্য তৈরি করতে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে তার ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

নতুন মার্কিন শুল্ক ব্যবস্থায় পোশাক রপ্তানিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

০৭:৩৬:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

নতুন মার্কিন শুল্ক ব্যবস্থায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য তৈরি হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কাঠামোয় বাংলাদেশকে তুলনামূলক কম ১০ শতাংশ শুল্ক স্তরে রাখা হয়েছে। ফলে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো বড় পোশাক রপ্তানিকারক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ২ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট সুবিধা পাচ্ছে।

নতুন এই ব্যবস্থা ২৪ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কম শুল্কে বাড়তে পারে রপ্তানির সুযোগ

নতুন শুল্ক কাঠামোয় ৬০টি অর্থনীতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশসহ ১৭টি অর্থনীতিকে ১০ শতাংশের নিম্ন শুল্ক স্তরে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ ৩৫টি দেশকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে শুল্কের আওতায় রাখা হয়েছে।

এর অর্থ হলো, একই ধরনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তৈরি পোশাকের মতো তীব্র প্রতিযোগিতামূলক খাতে এই ব্যবধান ছোট মনে হলেও বড় অর্ডারের ক্ষেত্রে তা রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ সুবিধার আওতায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বস্ত্র আমদানির জন্য দুই ধরনের তিন বছর মেয়াদি শুল্কহার কোটা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর একটি সাধারণ বস্ত্রপণ্যের জন্য এবং অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি পণ্যের জন্য।

এই কোটা চালু হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি বস্ত্র ও পোশাক পণ্য শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ছাড়াও কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া এই বিশেষ সুবিধার সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। তবে ভিয়েতনাম, চীন ও ভারতসহ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ এই সুবিধার বাইরে রয়েছে।

তবে এই বিশেষ শুল্কহার কোটা এখনো কার্যকর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো এর কার্যকর হওয়ার তারিখ ঘোষণা করেনি। ফলে আপাতত সব চালানের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ সমতল শুল্কই প্রযোজ্য থাকছে।

মার্কিন শুল্কনীতিতে বাংলাদেশের 'তুলনামূলক সুবিধা' আরও জোরালো | The  Financial Express

বাংলাদেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

শুধু শুল্ক সুবিধা পেলেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে না। বরং এই সুবিধাকে কাজে লাগাতে উৎপাদন খরচ কমানো, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং পণ্যের বৈচিত্র্য আনার দিকে নজর দিতে হবে।

বাংলাদেশের পোশাক খাতকে একই সঙ্গে বেশি মূল্য সংযোজনের পণ্য উৎপাদন, নতুন নকশা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কারণ বৈশ্বিক পোশাক বাজারে প্রতিযোগিতা দিন দিন আরও কঠিন হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কম শুল্কের সুবিধাকে দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে রূপ দিতে হলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে শুধু কম দামের পণ্য সরবরাহের ওপর নির্ভর না করে মান, বৈচিত্র্য ও মূল্য সংযোজনের দিকে এগোতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নতুন সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার। তাই নতুন শুল্ক ব্যবস্থায় পাওয়া এই সুবিধা বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে।

বিশেষ করে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের তুলনায় শুল্ক ব্যবধান এবং সম্ভাব্য শুল্কহার কোটার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে।

তবে এই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো যাবে, তা নির্ভর করবে দেশের পোশাক শিল্প কত দ্রুত উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে, নতুন পণ্য তৈরি করতে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করতে পারে তার ওপর।