০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

নির্মাণাধীন ভবনে বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্নে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের

ঢাকার নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না—এমন নির্দেশনা দিয়ে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত।

রিয়েল এস্টেট খাতের আবেদনে আদালতের আদেশ
বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন রিহ্যাবের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন হাইকোর্ট। নির্মাণাধীন প্রকল্পে ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্নের ফলে সৃষ্ট সংকট থেকে সুরক্ষা চেয়ে সংগঠনটি আদালতের দ্বারস্থ হয়।

রিহ্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই ছয় মাসের সময়ে ওয়াসা, রাজউক এবং বিদ্যুৎ বিভাগ কোনো নির্মাণাধীন বা আংশিক সম্পন্ন ভবনের বিদ্যুৎ, পানি কিংবা অন্যান্য ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।

মানবিক দিক বিবেচনায় আদালতের অবস্থান
বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্প্রতি এই আদেশ দেন। শুনানিকালে রিহ্যাব আদালতের সামনে তুলে ধরে, ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে নির্মাণকাজ ও সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবনে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এসব যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে আদালত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে আংশিক নির্মিত ভবনে বসবাসরত পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবন এবং পানি ও বিদ্যুতের ওপর তাদের নির্ভরতার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।

ছয় মাস স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ছয় মাস কোনো ভবনের বিদ্যুৎ লাইন, পানি সংযোগ বা অন্য কোনো ইউটিলিটি সেবা বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান অবস্থা বজায় রাখতে হবে।

এই আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট ভবনের মালিক ও ডেভেলপাররা তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সংকট থেকে স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। আদালত উল্লেখ করে, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে প্রায়ই মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা আদেশ দেওয়ার সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নে স্থবিরতা ও ক্ষতির চিত্র
রিহ্যাব জানায়, গত কয়েক মাসে রাজউক, ডেসকো, ডিপিডিসহ বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার সহায়তায় এক হাজার দুই শতাধিক বিদ্যুৎ মিটার বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, যা নির্মাণাধীন ও আংশিক সম্পন্ন ভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

সংগঠনটির দাবি, ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বহু প্রকল্পে নির্মাণকাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা কাজ হারান, ফ্ল্যাট হস্তান্তর বিলম্বিত হয় এবং ডেভেলপারদের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

আবাসন খাতে সামগ্রিক নেতিবাচক প্রভাব
রিহ্যাব আরও জানায়, এই পরিস্থিতির কারণে ব্যাংক ঋণ পরিশোধে জটিলতা, গ্রাহকদের সঙ্গে চুক্তি রক্ষা করতে সমস্যা এবং বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ার মতো সংকট তৈরি হয়েছে। এর সামগ্রিক প্রভাব পড়েছে দেশের আবাসন খাতে।

এসব বাস্তবতা তুলে ধরে রিহ্যাব আদালতে আবেদন জানালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন হাইকোর্ট।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

নির্মাণাধীন ভবনে বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্নে ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের

০৬:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না—এমন নির্দেশনা দিয়ে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত।

রিয়েল এস্টেট খাতের আবেদনে আদালতের আদেশ
বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন রিহ্যাবের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন হাইকোর্ট। নির্মাণাধীন প্রকল্পে ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্নের ফলে সৃষ্ট সংকট থেকে সুরক্ষা চেয়ে সংগঠনটি আদালতের দ্বারস্থ হয়।

রিহ্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই ছয় মাসের সময়ে ওয়াসা, রাজউক এবং বিদ্যুৎ বিভাগ কোনো নির্মাণাধীন বা আংশিক সম্পন্ন ভবনের বিদ্যুৎ, পানি কিংবা অন্যান্য ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।

মানবিক দিক বিবেচনায় আদালতের অবস্থান
বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্প্রতি এই আদেশ দেন। শুনানিকালে রিহ্যাব আদালতের সামনে তুলে ধরে, ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে নির্মাণকাজ ও সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবনে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এসব যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে আদালত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে আংশিক নির্মিত ভবনে বসবাসরত পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবন এবং পানি ও বিদ্যুতের ওপর তাদের নির্ভরতার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।

ছয় মাস স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ছয় মাস কোনো ভবনের বিদ্যুৎ লাইন, পানি সংযোগ বা অন্য কোনো ইউটিলিটি সেবা বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান অবস্থা বজায় রাখতে হবে।

এই আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট ভবনের মালিক ও ডেভেলপাররা তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সংকট থেকে স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। আদালত উল্লেখ করে, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে প্রায়ই মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা আদেশ দেওয়ার সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নে স্থবিরতা ও ক্ষতির চিত্র
রিহ্যাব জানায়, গত কয়েক মাসে রাজউক, ডেসকো, ডিপিডিসহ বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার সহায়তায় এক হাজার দুই শতাধিক বিদ্যুৎ মিটার বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, যা নির্মাণাধীন ও আংশিক সম্পন্ন ভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

সংগঠনটির দাবি, ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বহু প্রকল্পে নির্মাণকাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা কাজ হারান, ফ্ল্যাট হস্তান্তর বিলম্বিত হয় এবং ডেভেলপারদের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

আবাসন খাতে সামগ্রিক নেতিবাচক প্রভাব
রিহ্যাব আরও জানায়, এই পরিস্থিতির কারণে ব্যাংক ঋণ পরিশোধে জটিলতা, গ্রাহকদের সঙ্গে চুক্তি রক্ষা করতে সমস্যা এবং বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ার মতো সংকট তৈরি হয়েছে। এর সামগ্রিক প্রভাব পড়েছে দেশের আবাসন খাতে।

এসব বাস্তবতা তুলে ধরে রিহ্যাব আদালতে আবেদন জানালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেন হাইকোর্ট।