০৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

নেটফ্লিক্সের ‘ব্রিজারটন’-এর পেছনের বাস্তব ইতিহাস: কেন রিজেন্সি যুগে ফ্যাশন ছিল সবকিছু

বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ও ঐতিহাসিক উপন্যাসের কারণে রিজেন্সি যুগের পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে মানুষের আগ্রহ নতুন করে বেড়েছে। উনিশ শতকের শুরুর এই সময়ের ফ্যাশন শুধু সৌন্দর্যের প্রকাশ ছিল না, বরং সামাজিক অবস্থান, রুচি ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনেরও প্রতীক হয়ে উঠেছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৭৯৫ থেকে ১৮৩৭ সালের মধ্যে ইউরোপের পোশাকশৈলীতে এক বড় পরিবর্তন ঘটে, যা আজও ফ্যাশন জগতে প্রভাব ফেলছে।

নতুন যুগের নতুন পোশাক

রিজেন্সি যুগের আগে ইউরোপে বড় আকারের স্কার্ট, ভারী অলংকার ও জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক ছিল ফ্যাশনের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু নতুন শতাব্দীতে এসে সেই প্রবণতা বদলে যায়। নারীদের পোশাক হয়ে ওঠে হালকা, মার্জিত ও তুলনামূলকভাবে সরল।

এই সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে উচ্চ কোমরবিশিষ্ট ‘এম্পায়ার’ ধাঁচের পোশাক। পোশাকের কাপড় বুকের নিচে গিঁট দিয়ে নিচের দিকে ঢেউ খেলানোভাবে নেমে আসত, যা দেহকে লম্বা ও সুশ্রী দেখাত। এই নকশা প্রাচীন গ্রিস ও রোমের পোশাক থেকেও অনুপ্রাণিত ছিল।

রঙ ও কাপড়ের বদলে যাওয়া ধারা

রিজেন্সি যুগে গাঢ় লাল, সোনালি বা বেগুনি রঙের পরিবর্তে জনপ্রিয়তা পায় সাদা, হালকা নীল, গোলাপি, সবুজ ও বেগুনি রঙের কোমল ছায়া। সে সময় রঙ তৈরির খরচ বেশি হওয়ায় অধিকাংশ পোশাকের রঙও ছিল অপেক্ষাকৃত ম্লান ও সংযত।

কাপড়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসে। তুলা ও উলের পাশাপাশি রেশম ও মসলিনের মতো হালকা কাপড় ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ে। এতে পোশাকে এক ধরনের কোমল ও পরিশীলিত সৌন্দর্য ফুটে উঠত।

নারীদের ফ্যাশনে নতুন আকর্ষণ

যদিও পোশাক আগের তুলনায় সরল হয়েছিল, তবু অলংকরণের অভাব ছিল না। সূচিকর্ম, ফিতা, লেইস ও বিভিন্ন নকশা পোশাকে বিশেষ মাত্রা যোগ করত। ইউরোপের অভিজাত নারীরা সমসাময়িক ফ্যাশন আইকনদের অনুসরণ করতেন এবং তাদের পোশাকের ধরণ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠত।

১৮১০ সালের পর থেকে পোশাকের নকশা আরও জটিল ও অলংকৃত হতে শুরু করে। উচ্চ কোমরের ধারা বজায় থাকলেও পোশাকে লেইস, ভাঁজ ও নানা ধরনের সাজসজ্জা যুক্ত হয়।

Timeline of fashion in Bridgerton era : r/BridgertonNetflix

দিন ও রাতের পোশাকে পার্থক্য

সমাজের উচ্চবিত্ত নারীরা দিনের বিভিন্ন কাজের জন্য আলাদা পোশাক ব্যবহার করতেন। দিনের পোশাক ছিল অপেক্ষাকৃত সাধারণ ও ব্যবহারিক। অন্যদিকে নৃত্যানুষ্ঠান, ভোজসভা কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত পোশাক ছিল অনেক বেশি জমকালো।

রাতের পোশাকে রেশম ও সাটিনের মতো ভারী ও দামি কাপড় ব্যবহার করা হতো। তবে নাচের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পোশাক খুব বেশি ভারী বা দীর্ঘ করা হতো না।

পুরুষদের পোশাকে বিপ্লব

রিজেন্সি যুগ শুধু নারীদের ফ্যাশন নয়, পুরুষদের পোশাকেও বড় পরিবর্তন আনে। ফরাসি বিপ্লবের পর পুরুষদের পোশাক থেকে ধীরে ধীরে উজ্জ্বল রঙ, জটিল নকশা ও অতিরিক্ত অলংকার হারিয়ে যায়। তার বদলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে গাঢ় রঙের কোট, সাদা শার্ট ও সাদামাটা নকশা।

এই পরিবর্তনের অন্যতম মুখ ছিলেন জর্জ ব্রায়ান ‘বিউ’ ব্রামেল। তাঁর প্রভাবেই আধুনিক স্যুটের পূর্বসূরি হিসেবে পরিচিত পোশাকশৈলীর জন্ম হয়। গাঢ় কোট, সাদা শার্ট, লম্বা প্যান্ট ও গলায় বাঁধা কাপড় তখনকার অভিজাত পুরুষদের পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।

এক যুগের অবসান

রিজেন্সি যুগের শেষ দিকে পুরুষ ও নারীর পোশাক আবারও বড় আকার ধারণ করতে শুরু করে। নারীদের স্কার্ট আরও প্রশস্ত হয় এবং পুরুষদের কোট ও প্যান্টের কাটেও পরিবর্তন আসে। পরে ভিক্টোরীয় যুগ শুরু হলে রিজেন্সি যুগের সরল অথচ মার্জিত ফ্যাশন ধীরে ধীরে ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়।

তবু দুই শতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও রিজেন্সি যুগের পোশাক ও ফ্যাশন আজও মানুষের কল্পনা ও সংস্কৃতিতে বিশেষ স্থান ধরে রেখেছে।

রিজেন্সি যুগের ফ্যাশনের ইতিহাস, এম্পায়ার পোশাক এবং ইউরোপীয় পোশাকশৈলীর বিবর্তনের গল্প আজও ইতিহাসপ্রেমীদের আকৃষ্ট করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

নেটফ্লিক্সের ‘ব্রিজারটন’-এর পেছনের বাস্তব ইতিহাস: কেন রিজেন্সি যুগে ফ্যাশন ছিল সবকিছু

০৬:৩৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বর্তমান সময়ে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ও ঐতিহাসিক উপন্যাসের কারণে রিজেন্সি যুগের পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে মানুষের আগ্রহ নতুন করে বেড়েছে। উনিশ শতকের শুরুর এই সময়ের ফ্যাশন শুধু সৌন্দর্যের প্রকাশ ছিল না, বরং সামাজিক অবস্থান, রুচি ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনেরও প্রতীক হয়ে উঠেছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৭৯৫ থেকে ১৮৩৭ সালের মধ্যে ইউরোপের পোশাকশৈলীতে এক বড় পরিবর্তন ঘটে, যা আজও ফ্যাশন জগতে প্রভাব ফেলছে।

নতুন যুগের নতুন পোশাক

রিজেন্সি যুগের আগে ইউরোপে বড় আকারের স্কার্ট, ভারী অলংকার ও জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক ছিল ফ্যাশনের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু নতুন শতাব্দীতে এসে সেই প্রবণতা বদলে যায়। নারীদের পোশাক হয়ে ওঠে হালকা, মার্জিত ও তুলনামূলকভাবে সরল।

এই সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে উচ্চ কোমরবিশিষ্ট ‘এম্পায়ার’ ধাঁচের পোশাক। পোশাকের কাপড় বুকের নিচে গিঁট দিয়ে নিচের দিকে ঢেউ খেলানোভাবে নেমে আসত, যা দেহকে লম্বা ও সুশ্রী দেখাত। এই নকশা প্রাচীন গ্রিস ও রোমের পোশাক থেকেও অনুপ্রাণিত ছিল।

রঙ ও কাপড়ের বদলে যাওয়া ধারা

রিজেন্সি যুগে গাঢ় লাল, সোনালি বা বেগুনি রঙের পরিবর্তে জনপ্রিয়তা পায় সাদা, হালকা নীল, গোলাপি, সবুজ ও বেগুনি রঙের কোমল ছায়া। সে সময় রঙ তৈরির খরচ বেশি হওয়ায় অধিকাংশ পোশাকের রঙও ছিল অপেক্ষাকৃত ম্লান ও সংযত।

কাপড়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসে। তুলা ও উলের পাশাপাশি রেশম ও মসলিনের মতো হালকা কাপড় ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ে। এতে পোশাকে এক ধরনের কোমল ও পরিশীলিত সৌন্দর্য ফুটে উঠত।

নারীদের ফ্যাশনে নতুন আকর্ষণ

যদিও পোশাক আগের তুলনায় সরল হয়েছিল, তবু অলংকরণের অভাব ছিল না। সূচিকর্ম, ফিতা, লেইস ও বিভিন্ন নকশা পোশাকে বিশেষ মাত্রা যোগ করত। ইউরোপের অভিজাত নারীরা সমসাময়িক ফ্যাশন আইকনদের অনুসরণ করতেন এবং তাদের পোশাকের ধরণ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠত।

১৮১০ সালের পর থেকে পোশাকের নকশা আরও জটিল ও অলংকৃত হতে শুরু করে। উচ্চ কোমরের ধারা বজায় থাকলেও পোশাকে লেইস, ভাঁজ ও নানা ধরনের সাজসজ্জা যুক্ত হয়।

Timeline of fashion in Bridgerton era : r/BridgertonNetflix

দিন ও রাতের পোশাকে পার্থক্য

সমাজের উচ্চবিত্ত নারীরা দিনের বিভিন্ন কাজের জন্য আলাদা পোশাক ব্যবহার করতেন। দিনের পোশাক ছিল অপেক্ষাকৃত সাধারণ ও ব্যবহারিক। অন্যদিকে নৃত্যানুষ্ঠান, ভোজসভা কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত পোশাক ছিল অনেক বেশি জমকালো।

রাতের পোশাকে রেশম ও সাটিনের মতো ভারী ও দামি কাপড় ব্যবহার করা হতো। তবে নাচের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পোশাক খুব বেশি ভারী বা দীর্ঘ করা হতো না।

পুরুষদের পোশাকে বিপ্লব

রিজেন্সি যুগ শুধু নারীদের ফ্যাশন নয়, পুরুষদের পোশাকেও বড় পরিবর্তন আনে। ফরাসি বিপ্লবের পর পুরুষদের পোশাক থেকে ধীরে ধীরে উজ্জ্বল রঙ, জটিল নকশা ও অতিরিক্ত অলংকার হারিয়ে যায়। তার বদলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে গাঢ় রঙের কোট, সাদা শার্ট ও সাদামাটা নকশা।

এই পরিবর্তনের অন্যতম মুখ ছিলেন জর্জ ব্রায়ান ‘বিউ’ ব্রামেল। তাঁর প্রভাবেই আধুনিক স্যুটের পূর্বসূরি হিসেবে পরিচিত পোশাকশৈলীর জন্ম হয়। গাঢ় কোট, সাদা শার্ট, লম্বা প্যান্ট ও গলায় বাঁধা কাপড় তখনকার অভিজাত পুরুষদের পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।

এক যুগের অবসান

রিজেন্সি যুগের শেষ দিকে পুরুষ ও নারীর পোশাক আবারও বড় আকার ধারণ করতে শুরু করে। নারীদের স্কার্ট আরও প্রশস্ত হয় এবং পুরুষদের কোট ও প্যান্টের কাটেও পরিবর্তন আসে। পরে ভিক্টোরীয় যুগ শুরু হলে রিজেন্সি যুগের সরল অথচ মার্জিত ফ্যাশন ধীরে ধীরে ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়।

তবু দুই শতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও রিজেন্সি যুগের পোশাক ও ফ্যাশন আজও মানুষের কল্পনা ও সংস্কৃতিতে বিশেষ স্থান ধরে রেখেছে।

রিজেন্সি যুগের ফ্যাশনের ইতিহাস, এম্পায়ার পোশাক এবং ইউরোপীয় পোশাকশৈলীর বিবর্তনের গল্প আজও ইতিহাসপ্রেমীদের আকৃষ্ট করে।