০৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

নেত্রকোনায় বোরো ধান তলিয়ে বিপর্যয়, বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে কৃষকের চোখের সামনে স্বপ্ন ভাঙছে

টানা বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার হাওর, সমতল ও পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক বোরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে হাজার হাজার কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে নদ-নদীর পানি বেড়ে নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঘরবাড়ি, ঘটছে প্রাণহানিও। সারাক্ষণ রিপোর্ট

বৃষ্টি আর ঢলে পরিস্থিতি ভয়াবহ

এপ্রিলের শুরু থেকেই বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হলেও হঠাৎ ভারি বর্ষণে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। একদিনে ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। পানি উন্নয়ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভোগাই-কংস নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে উপদাখালি নদীর পানিও বিপদসীমা ছাড়িয়েছে।

সোমেশ্বরী, মগড়া ও ধনু নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচে থাকলেও দ্রুত বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।

পাহাড়ি ঢলে ভাসছে নেত্রকোণার হাওর: তলিয়ে গেছে ১০ হাজার হেক্টর পাকা ধান

ফসলের ক্ষতি, কৃষকের হতাশা

জেলায় এ বছর প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৯ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে কৃষকের বছরের পরিশ্রম এক মুহূর্তে হারিয়ে যাচ্ছে।

অনেক কৃষক বলছেন, কাটা ধান শুকাতে পারছেন না, আবার বিক্রিও করতে পারছেন না। কেউ কেউ চোখের সামনে নিজের জমির ফসল ডুবে যেতে দেখে হতাশ হয়ে পড়ছেন।

বৃষ্টির কারণে ধান কাটার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হতো, এখন তা এক হাজার হেক্টরের নিচে নেমে এসেছে। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত শ্রমিকের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

ঘরবাড়ি ক্ষতি ও প্রাণহানি

টানা বৃষ্টিতে জেলার ১০টি উপজেলার শত শত ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু পরিবার সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

নেত্রকোনায় অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ফসল, বিপৎসীমার ওপরে নদীর পানি

একই সঙ্গে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এপ্রিলজুড়ে কয়েকজনের মৃত্যু এবং আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও শোকাবহ করে তুলেছে।

ত্রাণ ও প্রস্তুতি

জেলার হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রশাসন ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করেছে। নৌযানসহ উদ্ধার দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় খাদ্য, নগদ অর্থ ও ঘর নির্মাণ সামগ্রী চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানানো হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধান কাটাসহ বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্মিলিত উদ্যোগে এই সংকট কাটিয়ে ওঠার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

নেত্রকোনার এই পরিস্থিতি শুধু একটি জেলার সংকট নয়, এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের জীবনের সঙ্গে জড়িত বড় এক সতর্ক সংকেত হয়ে উঠছে।

অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

নেত্রকোনায় বোরো ধান তলিয়ে বিপর্যয়, বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে কৃষকের চোখের সামনে স্বপ্ন ভাঙছে

১১:২১:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

টানা বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার হাওর, সমতল ও পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক বোরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে হাজার হাজার কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে নদ-নদীর পানি বেড়ে নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঘরবাড়ি, ঘটছে প্রাণহানিও। সারাক্ষণ রিপোর্ট

বৃষ্টি আর ঢলে পরিস্থিতি ভয়াবহ

এপ্রিলের শুরু থেকেই বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হলেও হঠাৎ ভারি বর্ষণে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। একদিনে ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। পানি উন্নয়ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভোগাই-কংস নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে উপদাখালি নদীর পানিও বিপদসীমা ছাড়িয়েছে।

সোমেশ্বরী, মগড়া ও ধনু নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচে থাকলেও দ্রুত বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।

পাহাড়ি ঢলে ভাসছে নেত্রকোণার হাওর: তলিয়ে গেছে ১০ হাজার হেক্টর পাকা ধান

ফসলের ক্ষতি, কৃষকের হতাশা

জেলায় এ বছর প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৯ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে কৃষকের বছরের পরিশ্রম এক মুহূর্তে হারিয়ে যাচ্ছে।

অনেক কৃষক বলছেন, কাটা ধান শুকাতে পারছেন না, আবার বিক্রিও করতে পারছেন না। কেউ কেউ চোখের সামনে নিজের জমির ফসল ডুবে যেতে দেখে হতাশ হয়ে পড়ছেন।

বৃষ্টির কারণে ধান কাটার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হতো, এখন তা এক হাজার হেক্টরের নিচে নেমে এসেছে। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত শ্রমিকের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

ঘরবাড়ি ক্ষতি ও প্রাণহানি

টানা বৃষ্টিতে জেলার ১০টি উপজেলার শত শত ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু পরিবার সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

নেত্রকোনায় অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ফসল, বিপৎসীমার ওপরে নদীর পানি

একই সঙ্গে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এপ্রিলজুড়ে কয়েকজনের মৃত্যু এবং আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও শোকাবহ করে তুলেছে।

ত্রাণ ও প্রস্তুতি

জেলার হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রশাসন ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করেছে। নৌযানসহ উদ্ধার দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় খাদ্য, নগদ অর্থ ও ঘর নির্মাণ সামগ্রী চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানানো হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধান কাটাসহ বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্মিলিত উদ্যোগে এই সংকট কাটিয়ে ওঠার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

নেত্রকোনার এই পরিস্থিতি শুধু একটি জেলার সংকট নয়, এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের জীবনের সঙ্গে জড়িত বড় এক সতর্ক সংকেত হয়ে উঠছে।

অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধান