০১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভাঁজযোগ্য আইফোনের উৎপাদন দিনে মাত্র কয়েকশ, বাজারে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা ট্রাম্পের নতুন দাবি: ইউক্রেনকে দেওয়া শত শত বিলিয়ন ডলার ইউরোপের কাছ থেকে ফেরত চান রাশিয়ার নাশকতায় ইউরোপে বাড়ছে সংঘাতের ঝুঁকি, চাপে ন্যাটো ছয় মাসের যুদ্ধে আরও আত্মবিশ্বাসী ইরান, বাড়তে পারে সংঘাত পেন্টাগনে ফাঁস ঠেকাতে ৫০ কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা, ইরান যুদ্ধের তথ্য ঘিরে নজিরবিহীন তদন্ত যে ‘ইয়েনটাউন’ একদিন ছিল ভবিষ্যৎ, ৩০ বছর পর ৪কে-তে ফিরছে ‘Swallowtail Butterfly’ পাকিস্তানে বিদ্যুতের দাম বাড়ল ইউনিটে ২.৫৮ রুপি, গ্রাহকের ওপর বাড়তি চাপ ৪৫.৬৭ বিলিয়ন রুপি পরমাণু ‘লিজ’ ছড়িয়ে পড়ছে, বদলে যেতে পারে বৈশ্বিক নিরাপত্তার চিত্র ট্রাম্প কাতারের উপহারের বিলাসবহুল বিমানে যাচ্ছেন আয়ারল্যান্ড মালয়েশিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা, ৮ বাংলাদেশিসহ আটক ১৬

পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা এসব নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা না থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে উচ্চ খেলাপি ঋণ, দুর্বল আর্থিক অবস্থা এবং গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নোটিশে জানতে চাওয়া হয় কেন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা হবে না।

পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থা, পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং পরিচালন সক্ষমতা পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবসায়নের উদ্যোগ নেয়। প্রথম পর্যায়ে ফার্স্ট ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংসহ মোট নয়টি প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। তখন জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসিকে অবসায়নের তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে প্রিমিয়ার লিজিংকেও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বন্ধ বা অবসায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অচল অবস্থায় চলে যায়।

এনবিএফআই খাতের আলোচিত কেলেঙ্কারিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল পি কে হালদার সংশ্লিষ্ট ঋণ জালিয়াতি। অভিযোগ রয়েছে, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা দেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল তদারকি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং পরিচালনা পর্ষদের অনিয়মের কারণে দেশের কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান গভীর সংকটে পড়ে। ফলে আমানতকারীরা অর্থ ফেরত না পাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন এবং পুরো এনবিএফআই খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, অকার্যকর ও আর্থিকভাবে ধসে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবসায়নের মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঁজযোগ্য আইফোনের উৎপাদন দিনে মাত্র কয়েকশ, বাজারে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা

পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

০৬:৫৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা এসব নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা না থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে উচ্চ খেলাপি ঋণ, দুর্বল আর্থিক অবস্থা এবং গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ওই নোটিশে জানতে চাওয়া হয় কেন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা হবে না।

পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থা, পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং পরিচালন সক্ষমতা পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবসায়নের উদ্যোগ নেয়। প্রথম পর্যায়ে ফার্স্ট ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংসহ মোট নয়টি প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। তখন জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসিকে অবসায়নের তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে প্রিমিয়ার লিজিংকেও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বন্ধ বা অবসায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অচল অবস্থায় চলে যায়।

এনবিএফআই খাতের আলোচিত কেলেঙ্কারিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল পি কে হালদার সংশ্লিষ্ট ঋণ জালিয়াতি। অভিযোগ রয়েছে, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা দেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল তদারকি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং পরিচালনা পর্ষদের অনিয়মের কারণে দেশের কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান গভীর সংকটে পড়ে। ফলে আমানতকারীরা অর্থ ফেরত না পাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন এবং পুরো এনবিএফআই খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, অকার্যকর ও আর্থিকভাবে ধসে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবসায়নের মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।