০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

পাকিস্তানি সৌন্দর্যের বাঁধাধরা মানদণ্ডে আমি মানি না: কুবরা খান

পাকিস্তানি সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতে নারীর সৌন্দর্য নিয়ে তৈরি করা নির্দিষ্ট ধারণা নিয়ে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী কুবরা খান। তার মতে, সমাজ ও বিনোদন অঙ্গন নারীর সৌন্দর্যের এমন একটি ছোট ছাঁচ তৈরি করেছে, যেখানে সবাইকে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। আর সেই ছাঁচে নিজেকেও মানানসই মনে করেন না তিনি।

বর্তমানে কুবরা খান অভিনীত ‘ডক্টর বাহু’ নাটকটি দর্শকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। নাটকটি শেষ পর্বের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার অভিনয় ও চরিত্র নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনাও বাড়ছে। তবে এসব বিষয়ে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাতে চান না এই অভিনেত্রী।

সৌন্দর্যের নির্দিষ্ট ছাঁচ নিয়ে আপত্তি

এক সাক্ষাৎকারে কুবরা খান বলেন, পাকিস্তানি সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনে সুন্দরী নারীর একটি নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করা হয়েছে। সেই ধারণায় একজন নারীকে ফর্সা, অত্যন্ত চিকন, লম্বা এবং লম্বা চুলের অধিকারী হতে হবে—এমন প্রত্যাশা করা হয়।

তার ভাষ্য, এই নির্দিষ্ট ছাঁচ এতটাই সংকীর্ণ যে অনেক নারীই সেখানে নিজেদের খুঁজে পান না। কুবরা বলেন, তিনিও সেই ছাঁচের সঙ্গে মানানসই নন। আর এই কারণে কাউকে কম সুন্দর বা কম যোগ্য মনে করা উচিত নয়।

Kubra Khan has found a new appreciation for the 'small things' in life  after testing positive for Covid-19 - Celebrity - Images

নিজের সৌন্দর্য নিয়ে চাপের অভিজ্ঞতা

কুবরা জানান, তাকেও একসময় এই নির্দিষ্ট সৌন্দর্যের মানদণ্ড দিয়ে বিচার করা হয়েছে। বিষয়টি তার ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি সেই মানসিক চাপ থেকে বেরিয়ে এসেছেন।

এখন নিজের চেহারা বা শরীর নিয়ে অন্যের কাছে ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না তিনি। মানুষের তৈরি করা সৌন্দর্যের মানদণ্ডকে নিজের আত্মবিশ্বাসের মাপকাঠি বানাতেও রাজি নন এই অভিনেত্রী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনায় নীরব

নিজের অভিনীত নাটক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা হলেও সাধারণত সেসবের জবাব দেন না কুবরা। তার মতে, প্রত্যেক মানুষের নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। সেই মত সঠিক কি না, সেটি সব সময় গুরুত্বপূর্ণ নয়।

‘ডক্টর বাহু’ নাটকে অভিনীত চরিত্রের আচরণ নিয়েও দর্শকদের কেউ কেউ সমালোচনা করছেন। এমনকি চরিত্রের কর্মকাণ্ডের জন্য কুবরাকেও ব্যক্তিগতভাবে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি হাসতে হাসতে বোঝান, চরিত্রের কাজের দায় অভিনেত্রীর নয়।

সমালোচনা কষ্ট দেয়, তবে ভেঙে পড়েন না

কুবরা স্বীকার করেছেন, অভিনয়ে তাকে বেছে নেওয়া নিয়ে কিছু আলোচনা তাকে কষ্ট দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো মন্তব্যের জবাব না দিলেই যে তিনি সেসব কথায় প্রভাবিত হন না, বিষয়টি এমন নয়।

Talk about Palestine, raise your voice sans fear: Kubra Khan | Daily  National Courier

তার মতে, সমালোচনার নামে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করার অধিকার কারও নেই। নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও সেই স্বাধীনতার আড়ালে কাউকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

সমর্থনের নামেও ক্ষতিকর আলোচনা নয়

কুবরা আরও বলেন, অনেক সময় ভক্তরা তাকে সমর্থন করতে গিয়ে এমন কিছু আলোচনা সামনে আনেন, যা শেষ পর্যন্ত তার জন্য আরও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে তার ওজন বা শরীর নিয়ে আলোচনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া প্রবণতা তিনি সমর্থন করেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুব বেশি সক্রিয় না থাকায় সব আলোচনা তার নজরেও আসে না। তবে কোনো বিষয় ব্যাপকভাবে আলোচনায় এলে তখন তিনি সেটি লক্ষ্য করেন। সময়ের সঙ্গে এসব বিষয়ে নিজেকে অনেক বেশি শক্ত করে তুলেছেন বলেও জানান কুবরা।

তার বক্তব্যে স্পষ্ট, মানুষের মতামতকে সম্মান করলেও ব্যক্তিগত অপমান বা আক্রমণকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। নিজের পরিচয় ও সৌন্দর্যকে অন্যের তৈরি করা ছাঁচে বিচার না করে নিজের মতো করে গ্রহণ করাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানি বিনোদন অঙ্গনে নারীর সৌন্দর্য নিয়ে প্রচলিত ধারণা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা—দুই বিষয়েই কুবরা খানের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

পাকিস্তানি সৌন্দর্যের বাঁধাধরা মানদণ্ডে আমি মানি না: কুবরা খান

১২:১১:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তানি সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতে নারীর সৌন্দর্য নিয়ে তৈরি করা নির্দিষ্ট ধারণা নিয়ে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী কুবরা খান। তার মতে, সমাজ ও বিনোদন অঙ্গন নারীর সৌন্দর্যের এমন একটি ছোট ছাঁচ তৈরি করেছে, যেখানে সবাইকে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। আর সেই ছাঁচে নিজেকেও মানানসই মনে করেন না তিনি।

বর্তমানে কুবরা খান অভিনীত ‘ডক্টর বাহু’ নাটকটি দর্শকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। নাটকটি শেষ পর্বের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার অভিনয় ও চরিত্র নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনাও বাড়ছে। তবে এসব বিষয়ে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাতে চান না এই অভিনেত্রী।

সৌন্দর্যের নির্দিষ্ট ছাঁচ নিয়ে আপত্তি

এক সাক্ষাৎকারে কুবরা খান বলেন, পাকিস্তানি সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনে সুন্দরী নারীর একটি নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করা হয়েছে। সেই ধারণায় একজন নারীকে ফর্সা, অত্যন্ত চিকন, লম্বা এবং লম্বা চুলের অধিকারী হতে হবে—এমন প্রত্যাশা করা হয়।

তার ভাষ্য, এই নির্দিষ্ট ছাঁচ এতটাই সংকীর্ণ যে অনেক নারীই সেখানে নিজেদের খুঁজে পান না। কুবরা বলেন, তিনিও সেই ছাঁচের সঙ্গে মানানসই নন। আর এই কারণে কাউকে কম সুন্দর বা কম যোগ্য মনে করা উচিত নয়।

Kubra Khan has found a new appreciation for the 'small things' in life  after testing positive for Covid-19 - Celebrity - Images

নিজের সৌন্দর্য নিয়ে চাপের অভিজ্ঞতা

কুবরা জানান, তাকেও একসময় এই নির্দিষ্ট সৌন্দর্যের মানদণ্ড দিয়ে বিচার করা হয়েছে। বিষয়টি তার ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি সেই মানসিক চাপ থেকে বেরিয়ে এসেছেন।

এখন নিজের চেহারা বা শরীর নিয়ে অন্যের কাছে ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না তিনি। মানুষের তৈরি করা সৌন্দর্যের মানদণ্ডকে নিজের আত্মবিশ্বাসের মাপকাঠি বানাতেও রাজি নন এই অভিনেত্রী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনায় নীরব

নিজের অভিনীত নাটক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা হলেও সাধারণত সেসবের জবাব দেন না কুবরা। তার মতে, প্রত্যেক মানুষের নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। সেই মত সঠিক কি না, সেটি সব সময় গুরুত্বপূর্ণ নয়।

‘ডক্টর বাহু’ নাটকে অভিনীত চরিত্রের আচরণ নিয়েও দর্শকদের কেউ কেউ সমালোচনা করছেন। এমনকি চরিত্রের কর্মকাণ্ডের জন্য কুবরাকেও ব্যক্তিগতভাবে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি হাসতে হাসতে বোঝান, চরিত্রের কাজের দায় অভিনেত্রীর নয়।

সমালোচনা কষ্ট দেয়, তবে ভেঙে পড়েন না

কুবরা স্বীকার করেছেন, অভিনয়ে তাকে বেছে নেওয়া নিয়ে কিছু আলোচনা তাকে কষ্ট দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো মন্তব্যের জবাব না দিলেই যে তিনি সেসব কথায় প্রভাবিত হন না, বিষয়টি এমন নয়।

Talk about Palestine, raise your voice sans fear: Kubra Khan | Daily  National Courier

তার মতে, সমালোচনার নামে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করার অধিকার কারও নেই। নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও সেই স্বাধীনতার আড়ালে কাউকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

সমর্থনের নামেও ক্ষতিকর আলোচনা নয়

কুবরা আরও বলেন, অনেক সময় ভক্তরা তাকে সমর্থন করতে গিয়ে এমন কিছু আলোচনা সামনে আনেন, যা শেষ পর্যন্ত তার জন্য আরও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে তার ওজন বা শরীর নিয়ে আলোচনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া প্রবণতা তিনি সমর্থন করেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুব বেশি সক্রিয় না থাকায় সব আলোচনা তার নজরেও আসে না। তবে কোনো বিষয় ব্যাপকভাবে আলোচনায় এলে তখন তিনি সেটি লক্ষ্য করেন। সময়ের সঙ্গে এসব বিষয়ে নিজেকে অনেক বেশি শক্ত করে তুলেছেন বলেও জানান কুবরা।

তার বক্তব্যে স্পষ্ট, মানুষের মতামতকে সম্মান করলেও ব্যক্তিগত অপমান বা আক্রমণকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। নিজের পরিচয় ও সৌন্দর্যকে অন্যের তৈরি করা ছাঁচে বিচার না করে নিজের মতো করে গ্রহণ করাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানি বিনোদন অঙ্গনে নারীর সৌন্দর্য নিয়ে প্রচলিত ধারণা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা—দুই বিষয়েই কুবরা খানের বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।