০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

পাকিস্তানের বিশ্বস্বীকৃতি: ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বড় ব্যর্থতা—জয়রাম রমেশের তীব্র আক্রমণ

ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল বিরোধী শিবির। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের কূটনৈতিক অবস্থানকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ।

পাকিস্তানের ভূমিকায় নতুন বিতর্ক

পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা সামনে আসতেই এই বিতর্ক শুরু হয়েছে। রমেশের দাবি, একসময় আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা থাকা পাকিস্তান আবার বিশ্বমঞ্চে গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পাচ্ছে, যা ভারতের কূটনৈতিক ব্যর্থতারই প্রতিফলন।

কঠোর ভাষায় সমালোচনা

রমেশ সামাজিক মাধ্যমে বলেন, পাকিস্তানে গণতন্ত্র কার্যত প্রহসনে পরিণত হয়েছে, অর্থনীতি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিদেশি নির্ভরতায় টিকে আছে এবং দেশটি বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। তারপরও তাদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ফিরে আসা ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের দুর্বলতাকেই তুলে ধরছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Global acceptance of Pakistan a failure of Indian foreign policy: Jairam  Ramesh - The Hindu

২০০৮-এর পর থেকে পরিবর্তন

রমেশ স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর পাকিস্তান আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একসময় পাকিস্তানকে ‘দালাল’ বলেছিলেন—এই প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রমেশ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বড় ধরনের ব্যর্থতার প্রমাণ।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন

রমেশ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাকে ‘ভালো বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সেই ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ভূমিকাও পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থানকে প্রভাবিত করেছে। হিউস্টনের ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান বা আহমেদাবাদের ‘নমস্তে ট্রাম্প’ আয়োজনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দেখানো হলেও বাস্তবে তার কোনও কূটনৈতিক সুবিধা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

কৃষি চুক্তি নিয়েও অভিযোগ

রমেশ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে দেশের কৃষকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাঁর ভাষায়, মার্কিন কৃষি স্বার্থকে অতিরিক্ত সুবিধা দিয়ে সরকার কোনও কূটনৈতিক লাভ তুলতে পারেনি।

ব্যক্তিনির্ভর নীতির সমালোচনা

পররাষ্ট্রনীতি অতিরিক্তভাবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন রমেশ। তাঁর দাবি, এই নীতির ভাঙন এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবং সরকারের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

পাকিস্তানের বিশ্বস্বীকৃতি: ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বড় ব্যর্থতা—জয়রাম রমেশের তীব্র আক্রমণ

০৮:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল বিরোধী শিবির। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের কূটনৈতিক অবস্থানকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ।

পাকিস্তানের ভূমিকায় নতুন বিতর্ক

পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা সামনে আসতেই এই বিতর্ক শুরু হয়েছে। রমেশের দাবি, একসময় আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা থাকা পাকিস্তান আবার বিশ্বমঞ্চে গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পাচ্ছে, যা ভারতের কূটনৈতিক ব্যর্থতারই প্রতিফলন।

কঠোর ভাষায় সমালোচনা

রমেশ সামাজিক মাধ্যমে বলেন, পাকিস্তানে গণতন্ত্র কার্যত প্রহসনে পরিণত হয়েছে, অর্থনীতি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিদেশি নির্ভরতায় টিকে আছে এবং দেশটি বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। তারপরও তাদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ফিরে আসা ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের দুর্বলতাকেই তুলে ধরছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Global acceptance of Pakistan a failure of Indian foreign policy: Jairam  Ramesh - The Hindu

২০০৮-এর পর থেকে পরিবর্তন

রমেশ স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর পাকিস্তান আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একসময় পাকিস্তানকে ‘দালাল’ বলেছিলেন—এই প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রমেশ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বড় ধরনের ব্যর্থতার প্রমাণ।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন

রমেশ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাকে ‘ভালো বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সেই ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ভূমিকাও পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থানকে প্রভাবিত করেছে। হিউস্টনের ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান বা আহমেদাবাদের ‘নমস্তে ট্রাম্প’ আয়োজনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দেখানো হলেও বাস্তবে তার কোনও কূটনৈতিক সুবিধা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

কৃষি চুক্তি নিয়েও অভিযোগ

রমেশ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে দেশের কৃষকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাঁর ভাষায়, মার্কিন কৃষি স্বার্থকে অতিরিক্ত সুবিধা দিয়ে সরকার কোনও কূটনৈতিক লাভ তুলতে পারেনি।

ব্যক্তিনির্ভর নীতির সমালোচনা

পররাষ্ট্রনীতি অতিরিক্তভাবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন রমেশ। তাঁর দাবি, এই নীতির ভাঙন এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবং সরকারের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ছে।