পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের মাসতুং জেলায় চলমান ‘অপারেশন আল-আজম’-এ আরও তিনজন সশস্ত্র জঙ্গি নিহত হওয়ার পর মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে জঙ্গিদের একাধিক আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
এই অভিযান শুরু হয় গত বুধবার কোয়েটা থেকে করাচিগামী একটি যাত্রীবাহী কোচে হামলার পর। ওই হামলায় তিনজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। ঘটনার পর মাসতুং জেলার খাড কোচা এলাকায় অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি করে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান শুরু করে।
অভিযানে বাড়ছে নিহতের সংখ্যা
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অভিযানে আরও তিনজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ছয়জন এবং শুক্রবার চারজন নিহত হয়। সব মিলিয়ে ‘অপারেশন আল-আজম’-এ এখন পর্যন্ত ১৩ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।
অভিযান চলাকালে জঙ্গিদের ব্যবহৃত একাধিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং তাৎক্ষণিক বিস্ফোরক (আইইডি) তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, অভিযানে আরও কয়েকজন জঙ্গি আহত হয়েছে।
সরকারের অবস্থান
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের প্রশংসা করে বলেছেন, বেলুচিস্তান থেকে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণভাবে ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর পেশাদারিত্বেরও প্রশংসা করেন।
এর আগে চলতি সপ্তাহে মাসতুংয়ে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে দুই নারী আত্মঘাতী হামলাকারী এবং কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর) জানিয়েছিল, আগের অভিযানে দুই আত্মঘাতী হামলাকারী ও তাদের এক সহযোগীকে আটক করা হয়। একই সময়ে সুরাব জেলায় পৃথক অভিযানে সাতজন জঙ্গি নিহত হয়।
রাজনৈতিক সমাধানের ওপরও জোর
বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মির জিয়াউল্লাহ ল্যাঙ্গোভে বলেছেন, নিরাপত্তা অভিযান গুরুত্বপূর্ণ হলেও রাজনৈতিক সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানও সমান জরুরি। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিযোগ ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলার জন্য সংসদই সবচেয়ে উপযুক্ত মঞ্চ।
বেলুচিস্তানে জোরদার নিরাপত্তা অভিযান
চলতি মাসের শুরুতে ধারাবাহিক বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পর পুরো বেলুচিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৫ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত ‘অপারেশন শাবান’-এ ৯১ জন জঙ্গি নিহত হয়। একই সময়ে প্রদেশজুড়ে বিভিন্ন অভিযানে মোট ১২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বেলুচিস্তানে অপারেশন আল-আজমে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩। যাত্রীবাহী কোচে হামলার পর শুরু হওয়া অভিযানে জঙ্গি আস্তানা ধ্বংস ও অস্ত্র উদ্ধার করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















