০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

পাকিস্তানে জ্বালানির দাম কমানো নিয়ে তেল খাতের ক্ষোভ, ১০৫ বিলিয়ন রুপি ক্ষতির আশঙ্কা

পাকিস্তানে জ্বালানির দাম এক ধাক্কায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ কমানোর সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশটির তেল খাত। শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নেওয়া এই সিদ্ধান্তে তেল শোধনাগার ও বিপণন কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত ক্ষতি প্রায় ১০৫ বিলিয়ন রুপিতে পৌঁছাতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, গত কয়েক মাসে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে বারবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ পরিবেশ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, মূল্য নির্ধারণে একবার ১৫ দিনের গড় হিসাব, আবার কখনও সাপ্তাহিক গড় কিংবা অপরিশোধিত তেলের ভিত্তিতে নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্তেও আগের নিয়ম থেকে সরে গিয়ে ভিন্ন সূত্র প্রয়োগ করা হয়েছে।

ক্ষতির বোঝা বাড়ছে

তেল খাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি, যার সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ বিলিয়ন রুপি। একটি বড় শোধনাগার কোম্পানির ক্ষতি হতে পারে প্রায় ২৫ বিলিয়ন রুপি। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ক্ষতি প্রায় ৩০ বিলিয়ন রুপিতে পৌঁছাতে পারে।

Oil industry cries out over unilateral cut in fuel prices - Newspaper -  DAWN.COM

তাদের ভাষ্য, বিদ্যমান সূত্র অনুযায়ী ডিজেলের দাম যে পরিমাণ কমার কথা ছিল, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি কমানো হয়েছে। ফলে মজুত থাকা জ্বালানির মূল্য এক ধাক্কায় কমে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ধাক্কা

তেল খাতের প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে সংরক্ষণ অবকাঠামো, সরবরাহ ব্যবস্থা ও খুচরা বিপণন নেটওয়ার্ক উন্নয়নের জন্য। কিন্তু নীতিগত অস্থিরতা এবং হঠাৎ সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নতুন বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। এমনকি দুর্বল আর্থিক অবস্থায় থাকা কিছু কোম্পানি টিকে থাকার সংকটে পড়তে পারে। খাতসংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

সরকারের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের দাবি

তেল খাতের সংগঠন সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানিয়ে দ্রুত বৈঠকের অনুরোধ করেছে। তারা বলছে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা, কৌশলগত মজুত বজায় রাখা এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্পখাত সবসময় সরকারের পাশে থেকেছে।

Oil Price Hits Two-Year High as OPEC Sees More Demand - WSJ

সংগঠনটির দাবি, আর্থিক চাপের মধ্যেও তারা বিভিন্ন সময় জাতীয় স্বার্থে মূল্য সহায়তা দিয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রেখেছে। তাই ভবিষ্যতে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম কমায় ভোক্তারা স্বস্তি পেলেও এর প্রভাব শিল্পখাতে বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। নীতিগত ধারাবাহিকতা না থাকলে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও বাজার স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদার না হলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

Oil industry cries out over unilateral cut in fuel prices - Newspaper -  DAWN.COM

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

পাকিস্তানে জ্বালানির দাম কমানো নিয়ে তেল খাতের ক্ষোভ, ১০৫ বিলিয়ন রুপি ক্ষতির আশঙ্কা

১১:৪১:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

পাকিস্তানে জ্বালানির দাম এক ধাক্কায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ কমানোর সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশটির তেল খাত। শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নেওয়া এই সিদ্ধান্তে তেল শোধনাগার ও বিপণন কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত ক্ষতি প্রায় ১০৫ বিলিয়ন রুপিতে পৌঁছাতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, গত কয়েক মাসে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে বারবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ পরিবেশ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, মূল্য নির্ধারণে একবার ১৫ দিনের গড় হিসাব, আবার কখনও সাপ্তাহিক গড় কিংবা অপরিশোধিত তেলের ভিত্তিতে নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্তেও আগের নিয়ম থেকে সরে গিয়ে ভিন্ন সূত্র প্রয়োগ করা হয়েছে।

ক্ষতির বোঝা বাড়ছে

তেল খাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি, যার সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ বিলিয়ন রুপি। একটি বড় শোধনাগার কোম্পানির ক্ষতি হতে পারে প্রায় ২৫ বিলিয়ন রুপি। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ক্ষতি প্রায় ৩০ বিলিয়ন রুপিতে পৌঁছাতে পারে।

Oil industry cries out over unilateral cut in fuel prices - Newspaper -  DAWN.COM

তাদের ভাষ্য, বিদ্যমান সূত্র অনুযায়ী ডিজেলের দাম যে পরিমাণ কমার কথা ছিল, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি কমানো হয়েছে। ফলে মজুত থাকা জ্বালানির মূল্য এক ধাক্কায় কমে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ধাক্কা

তেল খাতের প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে সংরক্ষণ অবকাঠামো, সরবরাহ ব্যবস্থা ও খুচরা বিপণন নেটওয়ার্ক উন্নয়নের জন্য। কিন্তু নীতিগত অস্থিরতা এবং হঠাৎ সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নতুন বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। এমনকি দুর্বল আর্থিক অবস্থায় থাকা কিছু কোম্পানি টিকে থাকার সংকটে পড়তে পারে। খাতসংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

সরকারের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের দাবি

তেল খাতের সংগঠন সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানিয়ে দ্রুত বৈঠকের অনুরোধ করেছে। তারা বলছে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা, কৌশলগত মজুত বজায় রাখা এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্পখাত সবসময় সরকারের পাশে থেকেছে।

Oil Price Hits Two-Year High as OPEC Sees More Demand - WSJ

সংগঠনটির দাবি, আর্থিক চাপের মধ্যেও তারা বিভিন্ন সময় জাতীয় স্বার্থে মূল্য সহায়তা দিয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রেখেছে। তাই ভবিষ্যতে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম কমায় ভোক্তারা স্বস্তি পেলেও এর প্রভাব শিল্পখাতে বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। নীতিগত ধারাবাহিকতা না থাকলে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও বাজার স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদার না হলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

Oil industry cries out over unilateral cut in fuel prices - Newspaper -  DAWN.COM