১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য পরোক্ষ ধূমপানে বছরে প্রাণ হারাচ্ছেন প্রায় ১৭ লাখ মানুষ ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে কূটনৈতিক তৎপরতায় বিশ্বমঞ্চে প্রভাব বাড়াচ্ছেন শি জিনপিং চীনের স্কুলে ইংরেজির গুরুত্ব কমানো হবে? নতুন করে বিতর্ক তুঙ্গে ক্যানসারের চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তবে চিপ সংকটে ধীর হচ্ছে অগ্রগতি চাকরি পেতে এখন মঞ্চে উঠেও লড়তে হচ্ছে, নিয়োগে জনপ্রিয় হচ্ছে প্রতিযোগিতার নতুন কৌশল রঙিন ডোরা আর রাবারের মুরগি—যেভাবে ফ্যাশন দুনিয়া জয় করলেন পল স্মিথ জার্মানির রাজনীতিতে বড় ধাক্কা, ক্ষমতার পথে উগ্র ডানপন্থী এএফডি তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৬)

জেমস ওয়াইজ লিখেছেন, ১৮৫০-৫১ সালের দিকে এ ধরনের রোগীদের হাতেপায়ে বেড়ি বা কড়া পরানো হতো।

২৪ পরগনার সার্জন ঢাকা অ্যাসাইলামের যে নকশা প্রস্তাব করেছিলেন ছবি: ৩

১৮৭১ সালের এক হিসাবে জানা যায়, যাদের আনা হয়েছে বা রাখা হয়েছে গারদে তাদের মধ্যে মাত্র ২০.৬ ভাগের রোগের কারণ নির্ণয় করা হয়েছে। এর বড় কারণ, যারা এদের অ্যাসাইলামে নিয়ে আসতেন প্রায় ক্ষেত্রে তারা রোগীর ইতিহাস বলতে পারতেন না। মানসিক ভারসাম্যহীনতার বড় কারণ হিসেবে জেমস ওয়াইজ জীবনর্চাকে চিহ্নিত করেছেন, যেমন, “Occupation, diet, mode of residensce and life, habit, indulgence and vices”, ফলে রোগীর হিস্ট্রি শিটে যা লেখা থাকত তা নির্ভরযোগ্য ছিল না।

১৮৯৮ সালে, সিভিল হাসপাতাল সমূহের মহাপরিদর্শক ঢাকা লুনাটিক অ্যাসাইলাম পরিদর্শনে এসে লেখেন, এখনকার হিস্ট্রিশিটগুলি সঠিক নয়। ঢাকার পাগলা গারদে যাদের নিয়ন্ত্রণে আনা যেত না তাদের মাঝে মধ্যে একলা রাখা হতো, আগাপাশতলা বেঁধে রাখা হতো। জেমস ওয়াইজ লিখেছেন, ১৮৫০-৫১ সালের দিকে এ ধরনের রোগীদের হাতেপায়ে বেড়ি বা কড়া পরানো হতো। তবে, ১৮৫৩ সালের পর থেকে এ ধরনের পদ্ধতি বাদ দিয়ে দেয়া হয়। এর বদলে নির্জন সেলে রাখা হতো যতক্ষণ না রোগী শান্ত হয়।

ঐ আমলে মানসিক রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি তো আর এত উন্নত হয়নি। তারপর জানা যেত না কেন তার মানসিক ভারসাম্যতা হারিয়েছে। ১৮৬২ সালের দিকে পাগলা গারদের তত্ত্বাবধায়ক জানিয়েছিলেন, মানসিক ভারসাম্যহীনরা শারিরিক কসরত ও মানসিক নৈরাজ্যের জন্য শিঘ্রই ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তারা খাবার খেতে চায় না। তখন তাদের ঘুমের ওষুধ ও টনিক দেয়া হয়। মাঝে মাঝে চিকিৎসার জন্য ভারতীয় ভেষজ পদ্ধতি ও ইউরোপিয়ান পদ্ধতির মিশ্রন ঘটানো হতো। যেমন, ঢাকা গারদে রক্তশূন্যতার জন্য কুইনাইনকে পোর্টের মদ সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হতো। পানি, রাম মদ চিরতার রস সমপরিমাণে মিশিয়ে খাওয়ানো হতো, তবে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় পদ্ধতিই ব্যবহার হতো।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৫)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৫)

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৬)

০৯:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

জেমস ওয়াইজ লিখেছেন, ১৮৫০-৫১ সালের দিকে এ ধরনের রোগীদের হাতেপায়ে বেড়ি বা কড়া পরানো হতো।

২৪ পরগনার সার্জন ঢাকা অ্যাসাইলামের যে নকশা প্রস্তাব করেছিলেন ছবি: ৩

১৮৭১ সালের এক হিসাবে জানা যায়, যাদের আনা হয়েছে বা রাখা হয়েছে গারদে তাদের মধ্যে মাত্র ২০.৬ ভাগের রোগের কারণ নির্ণয় করা হয়েছে। এর বড় কারণ, যারা এদের অ্যাসাইলামে নিয়ে আসতেন প্রায় ক্ষেত্রে তারা রোগীর ইতিহাস বলতে পারতেন না। মানসিক ভারসাম্যহীনতার বড় কারণ হিসেবে জেমস ওয়াইজ জীবনর্চাকে চিহ্নিত করেছেন, যেমন, “Occupation, diet, mode of residensce and life, habit, indulgence and vices”, ফলে রোগীর হিস্ট্রি শিটে যা লেখা থাকত তা নির্ভরযোগ্য ছিল না।

১৮৯৮ সালে, সিভিল হাসপাতাল সমূহের মহাপরিদর্শক ঢাকা লুনাটিক অ্যাসাইলাম পরিদর্শনে এসে লেখেন, এখনকার হিস্ট্রিশিটগুলি সঠিক নয়। ঢাকার পাগলা গারদে যাদের নিয়ন্ত্রণে আনা যেত না তাদের মাঝে মধ্যে একলা রাখা হতো, আগাপাশতলা বেঁধে রাখা হতো। জেমস ওয়াইজ লিখেছেন, ১৮৫০-৫১ সালের দিকে এ ধরনের রোগীদের হাতেপায়ে বেড়ি বা কড়া পরানো হতো। তবে, ১৮৫৩ সালের পর থেকে এ ধরনের পদ্ধতি বাদ দিয়ে দেয়া হয়। এর বদলে নির্জন সেলে রাখা হতো যতক্ষণ না রোগী শান্ত হয়।

ঐ আমলে মানসিক রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি তো আর এত উন্নত হয়নি। তারপর জানা যেত না কেন তার মানসিক ভারসাম্যতা হারিয়েছে। ১৮৬২ সালের দিকে পাগলা গারদের তত্ত্বাবধায়ক জানিয়েছিলেন, মানসিক ভারসাম্যহীনরা শারিরিক কসরত ও মানসিক নৈরাজ্যের জন্য শিঘ্রই ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তারা খাবার খেতে চায় না। তখন তাদের ঘুমের ওষুধ ও টনিক দেয়া হয়। মাঝে মাঝে চিকিৎসার জন্য ভারতীয় ভেষজ পদ্ধতি ও ইউরোপিয়ান পদ্ধতির মিশ্রন ঘটানো হতো। যেমন, ঢাকা গারদে রক্তশূন্যতার জন্য কুইনাইনকে পোর্টের মদ সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হতো। পানি, রাম মদ চিরতার রস সমপরিমাণে মিশিয়ে খাওয়ানো হতো, তবে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় পদ্ধতিই ব্যবহার হতো।

(চলবে)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৫)

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি-১২৫)