১১:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়ার দিকে কানাডার নতুন বাণিজ্যযাত্রা তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের হিসাব জটিল করতে প্রতিরক্ষা জোট বাড়াচ্ছে জাপান দুর্নীতির অভিযোগে ইউক্রেনের প্রধান কৌঁসুলির পদত্যাগ মেক্সিকোয় অস্ট্রেলীয় দুই সার্ফার ভাই হত্যার বিচার শুরু পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য পরোক্ষ ধূমপানে বছরে প্রাণ হারাচ্ছেন প্রায় ১৭ লাখ মানুষ ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে কূটনৈতিক তৎপরতায় বিশ্বমঞ্চে প্রভাব বাড়াচ্ছেন শি জিনপিং চীনের স্কুলে ইংরেজির গুরুত্ব কমানো হবে? নতুন করে বিতর্ক তুঙ্গে ক্যানসারের চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তবে চিপ সংকটে ধীর হচ্ছে অগ্রগতি

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি আসলে অ্যান্টার্কটিকা, বালির কারণে নয় ঠান্ডা ও পানির অভাবে

মরুভূমি বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে উত্তপ্ত বালিয়াড়ি, তীব্র রোদ আর পানিশূন্য বিস্তীর্ণ ভূমি। কিন্তু মরুভূমির সংজ্ঞা আসলে বালি কিংবা প্রচণ্ড গরমের ওপর নির্ভর করে না। কোনো অঞ্চলে বছরে খুব অল্প পরিমাণ বৃষ্টিপাত বা তুষারপাত হলে সেটিই মরুভূমি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সাধারণভাবে বছরে ২৫০ মিলিমিটারের কম বৃষ্টিপাত হলে একটি অঞ্চলকে মরুভূমি ধরা হয়। এই সংজ্ঞার কারণেই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমির তকমা পেয়েছে বরফে ঢাকা অ্যান্টার্কটিকা।

মরুভূমি তৈরির পেছনে চারটি বড় কারণ

পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে শুষ্ক পরিবেশ তৈরির পেছনে কয়েকটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া কাজ করে। এর মধ্যে প্রধান হলো বায়ুর নিম্নগমন, পর্বতমালার কারণে জলীয়বাষ্প আটকে যাওয়া, ঠান্ডা সমুদ্রস্রোত এবং সমুদ্র থেকে অনেক দূরের অবস্থান।

বিষুবীয় অঞ্চলের উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস ওপরে উঠে ঠান্ডা হয়। তখন বাতাসের জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে প্রচুর বৃষ্টি নামে। এরপর অপেক্ষাকৃত শুষ্ক বাতাস উচ্চ আকাশ দিয়ে মেরু ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যায়। প্রায় ৩০ ডিগ্রি উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের কাছে এসে সেই বাতাস আবার নিচে নামতে থাকে।

নিচে নামার সময় বাতাস চাপের কারণে উষ্ণ হয়। উষ্ণ বাতাস বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে। ফলে মেঘ তৈরি হওয়ার বদলে অনেক সময় মেঘের জলীয় অংশ বাষ্পীভূত হয়ে যায়। এভাবেই দীর্ঘ সময় ধরে ওই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে যায়। এই বিশাল বায়ু চলাচলের ব্যবস্থাকে হ্যাডলি সঞ্চালন বলা হয়।

বিশ্বের বড় মরুভূমিগুলো কোথায়

সাহারা, আরব মরুভূমি, কালাহারি, থর এবং অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ শুষ্ক অঞ্চল—এসবই মূলত পৃথিবীর দুই উপক্রান্তীয় শুষ্ক বলয়ের মধ্যে অবস্থিত। শুধু সাহারা মরুভূমির আয়তনই প্রায় ৩৬ লাখ বর্গমাইল বা ৯২ লাখ বর্গকিলোমিটার।

তবে শুধু বায়ুর চলাচলই মরুভূমি সৃষ্টি করে না। পর্বতমালাও একটি অঞ্চলকে অত্যন্ত শুষ্ক করে তুলতে পারে।

কোনো আর্দ্র বায়ু পর্বতের ঢালে উঠে গেলে তা ঠান্ডা হয়ে জলীয়বাষ্প হারায়। ফলে পর্বতের এক পাশে বৃষ্টি বা তুষারপাত হয়। এরপর শুষ্ক বাতাস যখন পর্বতের অন্য পাশে নেমে আসে, তখন সেখানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।

পর্বতের আড়ালেও তৈরি হয় মরুভূমি

যুক্তরাষ্ট্রের ডেথ ভ্যালি এমন একটি উদাহরণ। প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আসা আর্দ্র বাতাসকে সেখানে পৌঁছানোর আগে একাধিক পর্বতমালা অতিক্রম করতে হয়। ফলে বাতাস তার বেশির ভাগ আর্দ্রতা পথেই হারিয়ে ফেলে। ডেথ ভ্যালির ব্যাডওয়াটার অববাহিকার ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৮৬ মিটার নিচে অবস্থিত।

মধ্য এশিয়ার গোবি মরুভূমিও আংশিকভাবে হিমালয় পর্বতমালার প্রভাবে শুষ্ক হয়েছে। হিমালয় মৌসুমি বায়ুর আর্দ্রতা আটকে দেয়, ফলে এর উত্তরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থেকে যায়।

সমুদ্রের পাশেও কেন এত শুষ্ক মরুভূমি

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক কিছু অঞ্চল সমুদ্রের খুব কাছেই অবস্থিত। এর অন্যতম কারণ ঠান্ডা সমুদ্রস্রোত।

চিলি ও পেরুর উপকূল বরাবর হুমবোল্ট স্রোত ঠান্ডা জল বয়ে আনে। একইভাবে নামিবিয়ার উপকূলের কাছে বেঙ্গুয়েলা স্রোতও ঠান্ডা জল বহন করে।

ঠান্ডা সমুদ্রের জল ধীরে বাষ্পীভূত হয়। একই সঙ্গে সমুদ্রের ওপরের বাতাসও ঠান্ডা হয়ে যায়। এতে একটি উষ্ণতা-বিপরীত স্তর তৈরি হয়, যা জলীয়বাষ্পকে নিচু স্তরে আটকে রাখে। ফলে উপকূলে কুয়াশা তৈরি হলেও বৃষ্টি খুব কম হয়।The world's largest desert that's also one of the coldest places on earth |  World | News | Express.co.uk

আতাকামা মরুভূমির চরম শুষ্কতা

চিলির আতাকামা মরুভূমি এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বিস্ময়কর উদাহরণগুলোর একটি। মরুভূমিটির কিছু এলাকায় বছরে মাত্র প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড রয়েছে।

তারপরও এই ভূমি পুরোপুরি প্রাণহীন নয়। গবেষকেরা মাটির গভীরে অণুবীক্ষণিক জীবনের সন্ধান পেয়েছেন। অর্থাৎ চরম শুষ্ক পরিবেশেও জীবন টিকে থাকার উপায় খুঁজে নিতে পারে।

সমুদ্র থেকে দূরত্বও বড় কারণ

মরুভূমি তৈরির আরেকটি কারণ হলো সমুদ্র থেকে অতিরিক্ত দূরত্ব। কোনো বায়ুরাশি স্থলভাগের ওপর দিয়ে যত দূর এগোয়, ততই তার আর্দ্রতা কমতে থাকে। ফলে মহাদেশের ভেতরের দিকে থাকা অঞ্চলগুলোতে পৌঁছানোর সময় ঝড় ও বৃষ্টিবাহী বায়ু অনেকটাই শুষ্ক হয়ে যায়।

তাকলামাকান এবং কাজাখস্তান ও পশ্চিম চীনের বিস্তীর্ণ শুষ্ক অঞ্চল এ ধরনের মহাদেশীয় শুষ্কতার উদাহরণ। এগুলো সমুদ্র থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত। এসব অঞ্চলে শীত অত্যন্ত তীব্র হলেও গ্রীষ্মকাল আবার অল্প সময়ের জন্য প্রচণ্ড গরম হতে পারে।

অর্থাৎ মরুভূমি হওয়ার সঙ্গে তাপমাত্রার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। মূল বিষয় হলো পানির স্বল্পতা।

অ্যান্টার্কটিকা কেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি

অ্যান্টার্কটিকা এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে। মহাদেশটির আয়তন প্রায় ৫৫ লাখ বর্গমাইল বা ১ কোটি ৪২ লাখ বর্গকিলোমিটার। এর বিশাল অভ্যন্তরীণ অংশে বছরে অত্যন্ত সামান্য তুষারপাত হয়। তাই বরফে ঢাকা হলেও অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি।

অত্যন্ত ঠান্ডা বাতাসে জলীয়বাষ্প ধারণের ক্ষমতা খুব কম। ফলে বৃষ্টিপাত বা তুষারপাতের জন্য প্রয়োজনীয় জলীয়বাষ্পও সেখানে অপ্রতুল।

অ্যান্টার্কটিকার ম্যাকমার্ডো শুষ্ক উপত্যকাগুলোতে পরিস্থিতি আরও কঠিন। মেরু মালভূমি থেকে নেমে আসা প্রচণ্ড শীতল ও শুষ্ক বায়ুপ্রবাহ সেখানে থাকা সামান্য বরফও সরিয়ে নেয়। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় উন্মুক্ত পাথর ও নুড়ি পড়ে থাকে।

বরফে ঢাকা একটি মহাদেশ কীভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি হতে পারে—অ্যান্টার্কটিকা তারই অনন্য উদাহরণ। মরুভূমির আসল পরিচয় বালির সমুদ্র নয়; বরং পানির দীর্ঘস্থায়ী অনুপস্থিতি।

পৃথিবীর জলবায়ু বুঝতে তাই মরুভূমিকে শুধু উত্তপ্ত বালুকাময় অঞ্চল হিসেবে দেখলে চলবে না। শীতলতা, বায়ুপ্রবাহ, পর্বত, সমুদ্রস্রোত এবং সমুদ্র থেকে দূরত্ব—সবকিছু মিলেই নির্ধারণ করে কোনো অঞ্চল কতটা শুষ্ক হবে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি অ্যান্টার্কটিকা—এই তথ্য তাই আমাদের মরুভূমি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২৫ বছরেই শেষ ৫ লাখ ডলারের ক্যারিয়ার, ই-স্পোর্টসে বাড়ছে চোটের ভয়াবহতা

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি আসলে অ্যান্টার্কটিকা, বালির কারণে নয় ঠান্ডা ও পানির অভাবে

০৮:১১:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

মরুভূমি বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে উত্তপ্ত বালিয়াড়ি, তীব্র রোদ আর পানিশূন্য বিস্তীর্ণ ভূমি। কিন্তু মরুভূমির সংজ্ঞা আসলে বালি কিংবা প্রচণ্ড গরমের ওপর নির্ভর করে না। কোনো অঞ্চলে বছরে খুব অল্প পরিমাণ বৃষ্টিপাত বা তুষারপাত হলে সেটিই মরুভূমি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সাধারণভাবে বছরে ২৫০ মিলিমিটারের কম বৃষ্টিপাত হলে একটি অঞ্চলকে মরুভূমি ধরা হয়। এই সংজ্ঞার কারণেই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমির তকমা পেয়েছে বরফে ঢাকা অ্যান্টার্কটিকা।

মরুভূমি তৈরির পেছনে চারটি বড় কারণ

পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে শুষ্ক পরিবেশ তৈরির পেছনে কয়েকটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া কাজ করে। এর মধ্যে প্রধান হলো বায়ুর নিম্নগমন, পর্বতমালার কারণে জলীয়বাষ্প আটকে যাওয়া, ঠান্ডা সমুদ্রস্রোত এবং সমুদ্র থেকে অনেক দূরের অবস্থান।

বিষুবীয় অঞ্চলের উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস ওপরে উঠে ঠান্ডা হয়। তখন বাতাসের জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে প্রচুর বৃষ্টি নামে। এরপর অপেক্ষাকৃত শুষ্ক বাতাস উচ্চ আকাশ দিয়ে মেরু ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যায়। প্রায় ৩০ ডিগ্রি উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের কাছে এসে সেই বাতাস আবার নিচে নামতে থাকে।

নিচে নামার সময় বাতাস চাপের কারণে উষ্ণ হয়। উষ্ণ বাতাস বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে। ফলে মেঘ তৈরি হওয়ার বদলে অনেক সময় মেঘের জলীয় অংশ বাষ্পীভূত হয়ে যায়। এভাবেই দীর্ঘ সময় ধরে ওই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে যায়। এই বিশাল বায়ু চলাচলের ব্যবস্থাকে হ্যাডলি সঞ্চালন বলা হয়।

বিশ্বের বড় মরুভূমিগুলো কোথায়

সাহারা, আরব মরুভূমি, কালাহারি, থর এবং অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ শুষ্ক অঞ্চল—এসবই মূলত পৃথিবীর দুই উপক্রান্তীয় শুষ্ক বলয়ের মধ্যে অবস্থিত। শুধু সাহারা মরুভূমির আয়তনই প্রায় ৩৬ লাখ বর্গমাইল বা ৯২ লাখ বর্গকিলোমিটার।

তবে শুধু বায়ুর চলাচলই মরুভূমি সৃষ্টি করে না। পর্বতমালাও একটি অঞ্চলকে অত্যন্ত শুষ্ক করে তুলতে পারে।

কোনো আর্দ্র বায়ু পর্বতের ঢালে উঠে গেলে তা ঠান্ডা হয়ে জলীয়বাষ্প হারায়। ফলে পর্বতের এক পাশে বৃষ্টি বা তুষারপাত হয়। এরপর শুষ্ক বাতাস যখন পর্বতের অন্য পাশে নেমে আসে, তখন সেখানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।

পর্বতের আড়ালেও তৈরি হয় মরুভূমি

যুক্তরাষ্ট্রের ডেথ ভ্যালি এমন একটি উদাহরণ। প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আসা আর্দ্র বাতাসকে সেখানে পৌঁছানোর আগে একাধিক পর্বতমালা অতিক্রম করতে হয়। ফলে বাতাস তার বেশির ভাগ আর্দ্রতা পথেই হারিয়ে ফেলে। ডেথ ভ্যালির ব্যাডওয়াটার অববাহিকার ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৮৬ মিটার নিচে অবস্থিত।

মধ্য এশিয়ার গোবি মরুভূমিও আংশিকভাবে হিমালয় পর্বতমালার প্রভাবে শুষ্ক হয়েছে। হিমালয় মৌসুমি বায়ুর আর্দ্রতা আটকে দেয়, ফলে এর উত্তরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থেকে যায়।

সমুদ্রের পাশেও কেন এত শুষ্ক মরুভূমি

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক কিছু অঞ্চল সমুদ্রের খুব কাছেই অবস্থিত। এর অন্যতম কারণ ঠান্ডা সমুদ্রস্রোত।

চিলি ও পেরুর উপকূল বরাবর হুমবোল্ট স্রোত ঠান্ডা জল বয়ে আনে। একইভাবে নামিবিয়ার উপকূলের কাছে বেঙ্গুয়েলা স্রোতও ঠান্ডা জল বহন করে।

ঠান্ডা সমুদ্রের জল ধীরে বাষ্পীভূত হয়। একই সঙ্গে সমুদ্রের ওপরের বাতাসও ঠান্ডা হয়ে যায়। এতে একটি উষ্ণতা-বিপরীত স্তর তৈরি হয়, যা জলীয়বাষ্পকে নিচু স্তরে আটকে রাখে। ফলে উপকূলে কুয়াশা তৈরি হলেও বৃষ্টি খুব কম হয়।The world's largest desert that's also one of the coldest places on earth |  World | News | Express.co.uk

আতাকামা মরুভূমির চরম শুষ্কতা

চিলির আতাকামা মরুভূমি এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বিস্ময়কর উদাহরণগুলোর একটি। মরুভূমিটির কিছু এলাকায় বছরে মাত্র প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড রয়েছে।

তারপরও এই ভূমি পুরোপুরি প্রাণহীন নয়। গবেষকেরা মাটির গভীরে অণুবীক্ষণিক জীবনের সন্ধান পেয়েছেন। অর্থাৎ চরম শুষ্ক পরিবেশেও জীবন টিকে থাকার উপায় খুঁজে নিতে পারে।

সমুদ্র থেকে দূরত্বও বড় কারণ

মরুভূমি তৈরির আরেকটি কারণ হলো সমুদ্র থেকে অতিরিক্ত দূরত্ব। কোনো বায়ুরাশি স্থলভাগের ওপর দিয়ে যত দূর এগোয়, ততই তার আর্দ্রতা কমতে থাকে। ফলে মহাদেশের ভেতরের দিকে থাকা অঞ্চলগুলোতে পৌঁছানোর সময় ঝড় ও বৃষ্টিবাহী বায়ু অনেকটাই শুষ্ক হয়ে যায়।

তাকলামাকান এবং কাজাখস্তান ও পশ্চিম চীনের বিস্তীর্ণ শুষ্ক অঞ্চল এ ধরনের মহাদেশীয় শুষ্কতার উদাহরণ। এগুলো সমুদ্র থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত। এসব অঞ্চলে শীত অত্যন্ত তীব্র হলেও গ্রীষ্মকাল আবার অল্প সময়ের জন্য প্রচণ্ড গরম হতে পারে।

অর্থাৎ মরুভূমি হওয়ার সঙ্গে তাপমাত্রার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। মূল বিষয় হলো পানির স্বল্পতা।

অ্যান্টার্কটিকা কেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি

অ্যান্টার্কটিকা এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে। মহাদেশটির আয়তন প্রায় ৫৫ লাখ বর্গমাইল বা ১ কোটি ৪২ লাখ বর্গকিলোমিটার। এর বিশাল অভ্যন্তরীণ অংশে বছরে অত্যন্ত সামান্য তুষারপাত হয়। তাই বরফে ঢাকা হলেও অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি।

অত্যন্ত ঠান্ডা বাতাসে জলীয়বাষ্প ধারণের ক্ষমতা খুব কম। ফলে বৃষ্টিপাত বা তুষারপাতের জন্য প্রয়োজনীয় জলীয়বাষ্পও সেখানে অপ্রতুল।

অ্যান্টার্কটিকার ম্যাকমার্ডো শুষ্ক উপত্যকাগুলোতে পরিস্থিতি আরও কঠিন। মেরু মালভূমি থেকে নেমে আসা প্রচণ্ড শীতল ও শুষ্ক বায়ুপ্রবাহ সেখানে থাকা সামান্য বরফও সরিয়ে নেয়। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় উন্মুক্ত পাথর ও নুড়ি পড়ে থাকে।

বরফে ঢাকা একটি মহাদেশ কীভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি হতে পারে—অ্যান্টার্কটিকা তারই অনন্য উদাহরণ। মরুভূমির আসল পরিচয় বালির সমুদ্র নয়; বরং পানির দীর্ঘস্থায়ী অনুপস্থিতি।

পৃথিবীর জলবায়ু বুঝতে তাই মরুভূমিকে শুধু উত্তপ্ত বালুকাময় অঞ্চল হিসেবে দেখলে চলবে না। শীতলতা, বায়ুপ্রবাহ, পর্বত, সমুদ্রস্রোত এবং সমুদ্র থেকে দূরত্ব—সবকিছু মিলেই নির্ধারণ করে কোনো অঞ্চল কতটা শুষ্ক হবে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি অ্যান্টার্কটিকা—এই তথ্য তাই আমাদের মরুভূমি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।