০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

প্রকাশ্যেই থামিয়ে দিল উইম্বলডন: ‘যথেষ্ট সাদা নয়’ বলে মাত্তেও বেরেত্তিনির পোশাক বাতিল

উইম্বলডনের ঘাসের কোর্টে এ বছর টেনিসের পাশাপাশি ফ্যাশনও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ নকশার জ্যাকেট, কিমোনো-অনুপ্রাণিত পোশাক কিংবা ঐতিহ্যবাহী ব্লেজার—বিভিন্ন খেলোয়াড়ের কোর্টে প্রবেশের সাজ দর্শকদের নজর কেড়েছে। তবে সেই ফ্যাশনের মাঝেই কঠোর ‘অল-হোয়াইট’ নিয়মের কারণে ইতালির তারকা মাত্তেও বেরেত্তিনির একটি পোশাক অনুমোদন পায়নি।

২০২১ সালে উইম্বলডনের রানার-আপ হওয়া ৩০ বছর বয়সী বেরেত্তিনি দ্বিতীয় রাউন্ডে জয়ের পর জানান, তাঁর জন্য তৈরি হুগো বসের একটি ক্রিম রঙের কলারযুক্ত জ্যাকেট উইম্বলডন কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেনি।

‘যথেষ্ট সাদা নয়’

বেরেত্তিনির ভাষ্য, পোশাকটি ‘যথেষ্ট সাদা’ ছিল না। তিনি বলেন, এটি কিছুটা অফ-হোয়াইট এবং হালকা বাদামি আভাযুক্ত হওয়ায় তা উইম্বলডনের পোশাকবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়নি।

Matteo Berrettini's designer outfit banned by Wimbledon for 'not being white  enough' | LBC

তিনি জানান, পোশাকটি পরার একটি পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি। তবে বিষয়টি তিনি স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেছেন বলে মন্তব্য করেন।

যদিও কোর্টে সেই জ্যাকেট দেখা যায়নি, হুগো বস সামাজিক মাধ্যমে বেরেত্তিনিকে সেই পোশাকে মডেলিং করতে দেখা যায় এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করে।

উইম্বলডনের কঠোর পোশাকবিধি

উইম্বলডনের নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের কোর্টে প্রবেশের মুহূর্ত থেকেই প্রায় সম্পূর্ণ সাদা টেনিস পোশাক পরতে হয়। পোশাকে অন্য কোনো রঙের অলংকরণ থাকলে তার প্রস্থ এক সেন্টিমিটারের বেশি হতে পারে না। নারী খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একরঙা আন্ডারশর্ট ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে।

এই নিয়মই বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই গ্র্যান্ড স্ল্যামকে অন্য টুর্নামেন্ট থেকে আলাদা করে।

অন্যদের পোশাক নিয়ে আলোচনা

তবে একই টুর্নামেন্টে কয়েকজন খেলোয়াড়ের অফ-হোয়াইট বা ক্রিম রঙের কোর্টে প্রবেশের পোশাক নজর কেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেলর ফ্রিটজ প্রথম রাউন্ডে অফ-হোয়াইট রঙের দুই খণ্ডের একটি হুগো বস স্যুট পরে কোর্টে আসেন। ভেলক্রোযুক্ত বিশেষ ট্রাউজার, স্কার্ফ ও হেডব্যান্ডসহ তাঁর পোশাককে অনেকেই ২০০৭ সালে রজার ফেদেরারের বিখ্যাত ব্লেজারের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে দেখেছেন।

Matteo Berrettini's outfit banned by Wimbledon for not being white enough -  AOL

অন্যদিকে নাওমি ওসাকা দ্বিতীয় রাউন্ডে ক্রিম রঙের ওবি বেল্ট এবং রাফলযুক্ত নকশার পোশাক পরে আলোচনায় আসেন। তৃতীয় রাউন্ডে তিনি সূচিকর্ম করা কিমোনো-ধাঁচের একটি সাদা জ্যাকেট পরেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়।

ব্রিটিশ ভোগকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওসাকা বলেন, উইম্বলডনের পোশাকবিধি তাঁর সৃজনশীলতাকে সীমাবদ্ধ করেনি। ম্যাচ জয়ের পরও তিনি বলেন, টেনিসের চেয়ে নিজের পোশাক নিয়ে কথা বলতে তাঁর আরও বেশি ভালো লাগে, কারণ মানুষ পোশাকের নকশা, কাপড় এবং তৈরির গল্প জানতে আগ্রহ দেখায়।

আগেই হয় পোশাকের অনুমোদন

সাতবারের উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচও প্রথম রাউন্ডে সবুজ পাইপিংযুক্ত বিশেষ লাকোস্তে ব্লেজার পরে কোর্টে প্রবেশ করেন।

বেরেত্তিনির মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই খেলোয়াড়দের দল ও আয়োজকদের মধ্যে কোর্টে প্রবেশের পোশাক নিয়ে আলোচনা হয়। টেনিসবিষয়ক ফ্যাশন বিশেষজ্ঞ সুনীতা কুমার নায়ারের মতে, খেলোয়াড়দের কোর্টে পরার বিশেষ পোশাক আগে থেকেই কর্তৃপক্ষকে দেখাতে হয় এবং এর নকশা তৈরির প্রক্রিয়া প্রায় এক বছর আগেই শুরু হয়।

উইম্বলডন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

উইম্বলডনের অল-হোয়াইট পোশাকবিধিতে মাত্তেও বেরেত্তিনির অফ-হোয়াইট জ্যাকেট বাতিল হওয়ার ঘটনা টুর্নামেন্টের কঠোর নিয়মকে আবারও আলোচনায় এনেছে।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

প্রকাশ্যেই থামিয়ে দিল উইম্বলডন: ‘যথেষ্ট সাদা নয়’ বলে মাত্তেও বেরেত্তিনির পোশাক বাতিল

০২:১৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

উইম্বলডনের ঘাসের কোর্টে এ বছর টেনিসের পাশাপাশি ফ্যাশনও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ নকশার জ্যাকেট, কিমোনো-অনুপ্রাণিত পোশাক কিংবা ঐতিহ্যবাহী ব্লেজার—বিভিন্ন খেলোয়াড়ের কোর্টে প্রবেশের সাজ দর্শকদের নজর কেড়েছে। তবে সেই ফ্যাশনের মাঝেই কঠোর ‘অল-হোয়াইট’ নিয়মের কারণে ইতালির তারকা মাত্তেও বেরেত্তিনির একটি পোশাক অনুমোদন পায়নি।

২০২১ সালে উইম্বলডনের রানার-আপ হওয়া ৩০ বছর বয়সী বেরেত্তিনি দ্বিতীয় রাউন্ডে জয়ের পর জানান, তাঁর জন্য তৈরি হুগো বসের একটি ক্রিম রঙের কলারযুক্ত জ্যাকেট উইম্বলডন কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেনি।

‘যথেষ্ট সাদা নয়’

বেরেত্তিনির ভাষ্য, পোশাকটি ‘যথেষ্ট সাদা’ ছিল না। তিনি বলেন, এটি কিছুটা অফ-হোয়াইট এবং হালকা বাদামি আভাযুক্ত হওয়ায় তা উইম্বলডনের পোশাকবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়নি।

Matteo Berrettini's designer outfit banned by Wimbledon for 'not being white  enough' | LBC

তিনি জানান, পোশাকটি পরার একটি পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি। তবে বিষয়টি তিনি স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেছেন বলে মন্তব্য করেন।

যদিও কোর্টে সেই জ্যাকেট দেখা যায়নি, হুগো বস সামাজিক মাধ্যমে বেরেত্তিনিকে সেই পোশাকে মডেলিং করতে দেখা যায় এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করে।

উইম্বলডনের কঠোর পোশাকবিধি

উইম্বলডনের নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের কোর্টে প্রবেশের মুহূর্ত থেকেই প্রায় সম্পূর্ণ সাদা টেনিস পোশাক পরতে হয়। পোশাকে অন্য কোনো রঙের অলংকরণ থাকলে তার প্রস্থ এক সেন্টিমিটারের বেশি হতে পারে না। নারী খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একরঙা আন্ডারশর্ট ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে।

এই নিয়মই বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই গ্র্যান্ড স্ল্যামকে অন্য টুর্নামেন্ট থেকে আলাদা করে।

অন্যদের পোশাক নিয়ে আলোচনা

তবে একই টুর্নামেন্টে কয়েকজন খেলোয়াড়ের অফ-হোয়াইট বা ক্রিম রঙের কোর্টে প্রবেশের পোশাক নজর কেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেলর ফ্রিটজ প্রথম রাউন্ডে অফ-হোয়াইট রঙের দুই খণ্ডের একটি হুগো বস স্যুট পরে কোর্টে আসেন। ভেলক্রোযুক্ত বিশেষ ট্রাউজার, স্কার্ফ ও হেডব্যান্ডসহ তাঁর পোশাককে অনেকেই ২০০৭ সালে রজার ফেদেরারের বিখ্যাত ব্লেজারের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে দেখেছেন।

Matteo Berrettini's outfit banned by Wimbledon for not being white enough -  AOL

অন্যদিকে নাওমি ওসাকা দ্বিতীয় রাউন্ডে ক্রিম রঙের ওবি বেল্ট এবং রাফলযুক্ত নকশার পোশাক পরে আলোচনায় আসেন। তৃতীয় রাউন্ডে তিনি সূচিকর্ম করা কিমোনো-ধাঁচের একটি সাদা জ্যাকেট পরেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়।

ব্রিটিশ ভোগকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওসাকা বলেন, উইম্বলডনের পোশাকবিধি তাঁর সৃজনশীলতাকে সীমাবদ্ধ করেনি। ম্যাচ জয়ের পরও তিনি বলেন, টেনিসের চেয়ে নিজের পোশাক নিয়ে কথা বলতে তাঁর আরও বেশি ভালো লাগে, কারণ মানুষ পোশাকের নকশা, কাপড় এবং তৈরির গল্প জানতে আগ্রহ দেখায়।

আগেই হয় পোশাকের অনুমোদন

সাতবারের উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচও প্রথম রাউন্ডে সবুজ পাইপিংযুক্ত বিশেষ লাকোস্তে ব্লেজার পরে কোর্টে প্রবেশ করেন।

বেরেত্তিনির মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই খেলোয়াড়দের দল ও আয়োজকদের মধ্যে কোর্টে প্রবেশের পোশাক নিয়ে আলোচনা হয়। টেনিসবিষয়ক ফ্যাশন বিশেষজ্ঞ সুনীতা কুমার নায়ারের মতে, খেলোয়াড়দের কোর্টে পরার বিশেষ পোশাক আগে থেকেই কর্তৃপক্ষকে দেখাতে হয় এবং এর নকশা তৈরির প্রক্রিয়া প্রায় এক বছর আগেই শুরু হয়।

উইম্বলডন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

উইম্বলডনের অল-হোয়াইট পোশাকবিধিতে মাত্তেও বেরেত্তিনির অফ-হোয়াইট জ্যাকেট বাতিল হওয়ার ঘটনা টুর্নামেন্টের কঠোর নিয়মকে আবারও আলোচনায় এনেছে।