০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

‘প্রতাপ ডুবিল, শৈবালিনী ডুবিল না’—বঙ্কিমচন্দ্রের সেই পঙ্‌ক্তির যেন বাস্তব প্রতিধ্বনি যমুনা সেতুতে

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসের সেই মর্মস্পর্শী পঙ্‌ক্তি—‘প্রতাপ ডুবিল, শৈবালিনী ডুবিল না’—দেড় শতাব্দী পেরিয়েও যেন নতুন অর্থ নিয়ে ফিরে এলো ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে। তবে এটি সাহিত্য নয়, বাস্তবের এক বেদনাদায়ক ঘটনা।

একসঙ্গে জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েই নিউ যমুনা ব্রিজে পৌঁছেছিলেন এক তরুণ-তরুণী। হয়তো শেষবারের মতো কিছু কথা হয়েছিল, কিছু নীরবতা ভাগাভাগি হয়েছিল। তারপর পরিকল্পনা অনুযায়ী যমুনার জলে ঝাঁপ দেন যুবক আনু গুপ্তা। কিন্তু তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণী আর ঝাঁপ দেননি। তিনি নদীর দিকে তাকিয়ে থাকেন কিছুক্ষণ, এরপর নীরবে হেঁটে চলে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, দুজনের মধ্যে আগে থেকেই আত্মহত্যার পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেতুর ওপর শেষ কথোপকথনের পরই আনু গুপ্তা নদীতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তরুণীর সিদ্ধান্ত বদলে যায়।

যমুনার জলে যখন যুবকটি তলিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আশপাশের মানুষের চোখে ধরা পড়ে ঘটনাটি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ ও স্থানীয় ডুবুরি দল। শুরু হয় সময়ের সঙ্গে লড়াই।

দীর্ঘ চেষ্টার পর ডুবুরিরা আনু গুপ্তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তাকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে তিনি নিরাপদে রয়েছেন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন।

ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা? কী এমন ঘটেছিল, যা দুই তরুণ-তরুণীকে জীবনের শেষ প্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল? আর কেন শেষ মুহূর্তে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ালেন তরুণী?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। একই সঙ্গে, যুবকের সঙ্গে থাকা তরুণীর পরিচয় শনাক্ত এবং তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয়, সংকটের মুহূর্তে মানুষের একটি সিদ্ধান্ত জীবন ও মৃত্যুর ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। আর তাই মানসিক সংকট বা হতাশার সময় একা না থেকে পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা সংশ্লিষ্ট সহায়তা ব্যবস্থার কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

‘প্রতাপ ডুবিল, শৈবালিনী ডুবিল না’—বঙ্কিমচন্দ্রের সেই পঙ্‌ক্তির যেন বাস্তব প্রতিধ্বনি যমুনা সেতুতে

০৭:২৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসের সেই মর্মস্পর্শী পঙ্‌ক্তি—‘প্রতাপ ডুবিল, শৈবালিনী ডুবিল না’—দেড় শতাব্দী পেরিয়েও যেন নতুন অর্থ নিয়ে ফিরে এলো ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে। তবে এটি সাহিত্য নয়, বাস্তবের এক বেদনাদায়ক ঘটনা।

একসঙ্গে জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েই নিউ যমুনা ব্রিজে পৌঁছেছিলেন এক তরুণ-তরুণী। হয়তো শেষবারের মতো কিছু কথা হয়েছিল, কিছু নীরবতা ভাগাভাগি হয়েছিল। তারপর পরিকল্পনা অনুযায়ী যমুনার জলে ঝাঁপ দেন যুবক আনু গুপ্তা। কিন্তু তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণী আর ঝাঁপ দেননি। তিনি নদীর দিকে তাকিয়ে থাকেন কিছুক্ষণ, এরপর নীরবে হেঁটে চলে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, দুজনের মধ্যে আগে থেকেই আত্মহত্যার পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেতুর ওপর শেষ কথোপকথনের পরই আনু গুপ্তা নদীতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তরুণীর সিদ্ধান্ত বদলে যায়।

যমুনার জলে যখন যুবকটি তলিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আশপাশের মানুষের চোখে ধরা পড়ে ঘটনাটি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ ও স্থানীয় ডুবুরি দল। শুরু হয় সময়ের সঙ্গে লড়াই।

দীর্ঘ চেষ্টার পর ডুবুরিরা আনু গুপ্তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তাকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে তিনি নিরাপদে রয়েছেন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন।

ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা? কী এমন ঘটেছিল, যা দুই তরুণ-তরুণীকে জীবনের শেষ প্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল? আর কেন শেষ মুহূর্তে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ালেন তরুণী?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। একই সঙ্গে, যুবকের সঙ্গে থাকা তরুণীর পরিচয় শনাক্ত এবং তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয়, সংকটের মুহূর্তে মানুষের একটি সিদ্ধান্ত জীবন ও মৃত্যুর ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। আর তাই মানসিক সংকট বা হতাশার সময় একা না থেকে পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা সংশ্লিষ্ট সহায়তা ব্যবস্থার কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।