০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

ফ্রান্সে গণতন্ত্র রক্ষায় ম্যাক্রোঁর নীরব কৌশল, বাড়ছে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে উদ্বেগ

ফ্রান্সে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষিত রাখার একটি নীরব কিন্তু সুপরিকল্পিত উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা
সম্প্রতি ফ্রান্সে সেনাবাহিনীর প্রধান, রাষ্ট্রীয় নিরীক্ষা সংস্থার প্রধানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই বার্লিন, লন্ডন ও ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত বদলানোর কথাও রয়েছে। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও আগেভাগে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন, যাতে নতুন নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়। এসব পদক্ষেপকে অনেকেই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘নিরাপদ’ করার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

তবে এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ ডানপন্থী জনপ্রিয় দলগুলোর নেতারা। তাদের অভিযোগ, ম্যাক্রোঁ বিদায়ী সময়ের আগে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজের প্রভাব বজায় রাখতে চাইছেন। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনে তাদের জয়ের সম্ভাবনা বাড়ায় এই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্টের বিশাল ক্ষমতা
ফ্রান্সের রাজনৈতিক কাঠামো এমন যে, প্রেসিডেন্টের হাতে বিপুল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে। তিনি সেনাবাহিনী পরিচালনা থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া, জরুরি অবস্থা জারি—সবই করতে পারেন। এই ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণই এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ, আগামী নির্বাচনে যদি ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কেউ ক্ষমতায় আসেন, তাহলে এই শক্তিশালী ক্ষমতা ব্যবস্থার অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

সংবিধান ও আইনের ব্যবহারে শঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রান্সের সংবিধানের কিছু ধারা পরিস্থিতি অনুযায়ী বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। যেমন জরুরি অবস্থার ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ বা গণভোটের মাধ্যমে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান। এসব ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Populism is sweeping France whoever wins the elections

বিচারব্যবস্থা ও গণমাধ্যমে চাপের আশঙ্কা
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। যদিও বিচারকরা তুলনামূলকভাবে স্বাধীন, তবে প্রসিকিউটরদের নিয়োগে সরকারের প্রভাব থাকার কারণে সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রয়েছে। একইভাবে গণমাধ্যম নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ বা বেসরকারীকরণের পরিকল্পনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গণতন্ত্রের সামনে বড় প্রশ্ন
ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠানগুলো ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী হলেও, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—আইন ও কাঠামো কি একাই গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারবে? ইতিহাস বলছে, শুধু নিয়মকানুন নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং দেশটির গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্যও একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠছে।

ফ্রান্সে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ, ম্যাক্রোঁর পদক্ষেপে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে

ফ্রান্সের রাজনীতিতে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে উদ্বেগ ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ প্রশ্নে উত্তেজনা

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

ফ্রান্সে গণতন্ত্র রক্ষায় ম্যাক্রোঁর নীরব কৌশল, বাড়ছে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে উদ্বেগ

০৫:২৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

ফ্রান্সে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষিত রাখার একটি নীরব কিন্তু সুপরিকল্পিত উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা
সম্প্রতি ফ্রান্সে সেনাবাহিনীর প্রধান, রাষ্ট্রীয় নিরীক্ষা সংস্থার প্রধানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই বার্লিন, লন্ডন ও ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত বদলানোর কথাও রয়েছে। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও আগেভাগে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন, যাতে নতুন নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়। এসব পদক্ষেপকে অনেকেই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘নিরাপদ’ করার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

তবে এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ ডানপন্থী জনপ্রিয় দলগুলোর নেতারা। তাদের অভিযোগ, ম্যাক্রোঁ বিদায়ী সময়ের আগে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজের প্রভাব বজায় রাখতে চাইছেন। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনে তাদের জয়ের সম্ভাবনা বাড়ায় এই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।

ফ্রান্সে প্রেসিডেন্টের বিশাল ক্ষমতা
ফ্রান্সের রাজনৈতিক কাঠামো এমন যে, প্রেসিডেন্টের হাতে বিপুল ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে। তিনি সেনাবাহিনী পরিচালনা থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া, জরুরি অবস্থা জারি—সবই করতে পারেন। এই ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণই এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ, আগামী নির্বাচনে যদি ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কেউ ক্ষমতায় আসেন, তাহলে এই শক্তিশালী ক্ষমতা ব্যবস্থার অপব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

সংবিধান ও আইনের ব্যবহারে শঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রান্সের সংবিধানের কিছু ধারা পরিস্থিতি অনুযায়ী বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। যেমন জরুরি অবস্থার ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ বা গণভোটের মাধ্যমে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান। এসব ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Populism is sweeping France whoever wins the elections

বিচারব্যবস্থা ও গণমাধ্যমে চাপের আশঙ্কা
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। যদিও বিচারকরা তুলনামূলকভাবে স্বাধীন, তবে প্রসিকিউটরদের নিয়োগে সরকারের প্রভাব থাকার কারণে সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ রয়েছে। একইভাবে গণমাধ্যম নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ বা বেসরকারীকরণের পরিকল্পনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গণতন্ত্রের সামনে বড় প্রশ্ন
ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠানগুলো ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী হলেও, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—আইন ও কাঠামো কি একাই গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারবে? ইতিহাস বলছে, শুধু নিয়মকানুন নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং দেশটির গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্যও একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠছে।

ফ্রান্সে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ, ম্যাক্রোঁর পদক্ষেপে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে

ফ্রান্সের রাজনীতিতে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে উদ্বেগ ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ প্রশ্নে উত্তেজনা