০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

বিচারপতির পদ ছাড়লেন পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের প্রধান সদস্য, রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা

পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া নিয়ে গঠিত আপিল ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার তিনি নিজের পদত্যাগপত্র পাঠান কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পলের কাছে। একই সঙ্গে বিষয়টি জানানো হয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তাকেও।

এই পদত্যাগ ঘিরে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া নিয়ে দায়ের হওয়া বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আপিল মামলার শুনানিতে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বিচারপতি শিবজ্ঞানম।

গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে ছিলেন সামনে

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কিছু বিশেষ মামলার দ্রুত শুনানি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল শিল্পী নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং কংগ্রেস নেতা মোতাব শেখের আবেদন। পরে মোতাব শেখ ফারাক্কা বিধানসভা আসন থেকে নির্বাচনে জয়ী হন।

সুপ্রিম কোর্ট কয়েকটি মামলার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারভিত্তিক শুনানির নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মামলাগুলো বিচারপতি শিবজ্ঞানমের ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয় এবং তিনি সেগুলোর শুনানি গ্রহণ করেন। ফলে তার পদত্যাগকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, এই সংবেদনশীল মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে।

দুই বছরের দায়িত্ব শেষে অবসর

টি এস শিবজ্ঞানম গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নেন। দুই বছরের দায়িত্ব পালন শেষে অবসরের পরও তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্টের সুপারিশে গঠিত ১৯ সদস্যের একক আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের মধ্যে তিনিও ছিলেন অন্যতম।

গত ২০ মার্চ ভারতের নির্বাচন কমিশন এই ট্রাইব্যুনালগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানির জন্যই এই বিশেষ কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল।

ব্যক্তিগত কারণের কথা জানালেন বিচারপতি

পদত্যাগ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে বিচারপতি শিবজ্ঞানম সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, তিনি ব্যক্তিগত কারণেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। তবে তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে যখন নানা বিতর্ক চলছে, তখন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতির সরে দাঁড়ানো নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।

ট্রাইব্যুনালের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

এই পদত্যাগের পর এখন প্রশ্ন উঠছে, বিচারপতি শিবজ্ঞানমের হাতে থাকা আপিলগুলোর শুনানি কীভাবে এগোবে। নতুন করে অন্য কোনো অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল। তাই এই পদত্যাগ নতুন করে পরিস্থিতিকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের পদত্যাগে পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

বিচারপতির পদ ছাড়লেন পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের প্রধান সদস্য, রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা

০৭:৩৮:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া নিয়ে গঠিত আপিল ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার তিনি নিজের পদত্যাগপত্র পাঠান কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পলের কাছে। একই সঙ্গে বিষয়টি জানানো হয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তাকেও।

এই পদত্যাগ ঘিরে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া নিয়ে দায়ের হওয়া বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আপিল মামলার শুনানিতে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বিচারপতি শিবজ্ঞানম।

গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে ছিলেন সামনে

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কিছু বিশেষ মামলার দ্রুত শুনানি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল শিল্পী নন্দলাল বসুর নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন এবং কংগ্রেস নেতা মোতাব শেখের আবেদন। পরে মোতাব শেখ ফারাক্কা বিধানসভা আসন থেকে নির্বাচনে জয়ী হন।

সুপ্রিম কোর্ট কয়েকটি মামলার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারভিত্তিক শুনানির নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মামলাগুলো বিচারপতি শিবজ্ঞানমের ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয় এবং তিনি সেগুলোর শুনানি গ্রহণ করেন। ফলে তার পদত্যাগকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, এই সংবেদনশীল মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে।

দুই বছরের দায়িত্ব শেষে অবসর

টি এস শিবজ্ঞানম গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নেন। দুই বছরের দায়িত্ব পালন শেষে অবসরের পরও তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্টের সুপারিশে গঠিত ১৯ সদস্যের একক আপিল ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের মধ্যে তিনিও ছিলেন অন্যতম।

গত ২০ মার্চ ভারতের নির্বাচন কমিশন এই ট্রাইব্যুনালগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানির জন্যই এই বিশেষ কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল।

ব্যক্তিগত কারণের কথা জানালেন বিচারপতি

পদত্যাগ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে বিচারপতি শিবজ্ঞানম সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, তিনি ব্যক্তিগত কারণেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। তবে তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে যখন নানা বিতর্ক চলছে, তখন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতির সরে দাঁড়ানো নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।

ট্রাইব্যুনালের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

এই পদত্যাগের পর এখন প্রশ্ন উঠছে, বিচারপতি শিবজ্ঞানমের হাতে থাকা আপিলগুলোর শুনানি কীভাবে এগোবে। নতুন করে অন্য কোনো অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল। তাই এই পদত্যাগ নতুন করে পরিস্থিতিকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের পদত্যাগে পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে।