০৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা যুদ্ধ থামছে না কেন? অপরাধ যখন ধর্মের পরিচয় পায় ঝলমলে শিল্পে আত্মভালোবাসার বার্তা দিচ্ছেন সারা শাকিল শতায়ু বাবা-মায়ের সন্তানদের আয়ু ও সুস্বাস্থ্যের সম্ভাবনা বেশি শিক্ষিত, দক্ষ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণদেরই ফাঁদে ফেলছে মানবপাচারকারীরা পাকিস্তান-রাশিয়া সম্পর্ক: অবহেলিত হলেও কেন বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ, সুযোগ নিয়ে থাকছে প্রশ্ন গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য, জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে হচ্ছে না

বেইজিংয়ের এআই বারে পিন্টের সঙ্গে মিলছে ডিপসিকের টোকেন

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের প্রযুক্তিপাড়া ঝোংগুয়ানছুনে এমন এক বার এখন প্রযুক্তিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে, যেখানে পানীয়ের পাশাপাশি মিলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করার সুযোগ। বারের নাম এজিআই বার। এখানে পানীয়ের সঙ্গে গ্রাহকদের জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে ডিপসিকের টোকেন, যা ব্যবহার করা যায় কোড লেখাসহ নানা কাজে।

কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তার ধারণা থেকে বারের নাম রাখা হয়েছে এজিআই। এর উদ্যোক্তা ত্রিশের কোঠার স্বতন্ত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নকারী সং দে। অবসর সময়ে তিনি বারটি পরিচালনা করেন। গত বছর চালুর পর এটি বেইজিংয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নকারী, বিনিয়োগকারী ও শিক্ষার্থীদের মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে।

প্রযুক্তির প্রাণকেন্দ্রে প্রযুক্তিপ্রেমীদের আড্ডা

বারটি ঝোংগুয়ানছুনের ইনো ওয়ে নামের উদ্যোগপতি এলাকার একটি সড়কে অবস্থিত। কাছেই রয়েছে চীনের শীর্ষস্থানীয় সিংহুয়া ও পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়। একই এলাকায় ডিপসিক ও মাইক্রোসফটসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ও রয়েছে।

ফলে বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মানুষ নিয়মিত এখানে একত্র হন। বারটিতে চীনের বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান, উন্নয়নকারী সম্মেলন, উন্মুক্ত প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা সভাও আয়োজন করা হয়।

বারটির দেয়ালে চীনের বড় বড় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের প্রতীক, নানা রঙের মূর্তি ও প্রযুক্তিপণ্য সাজানো রয়েছে। একটি বড় পিতলের ঘণ্টাও রাখা হয়েছে, যা চীনের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সময় ব্যবহার করা হয়েছিল।

At Beijing AI-themed bar, DeepSeek tokens come with the pints | Reuters

পানীয়ের সঙ্গে ডিপসিকের বিনামূল্যের সুবিধা

বারটির সবচেয়ে আলোচিত পানীয়ের নামও এজিআই। মাত্র ৯ দশমিক ৯ ইউয়ানে পাওয়া যায় এক গ্লাস ফেনাযুক্ত পানীয়। তবে এই পানীয়ের চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে বারটির বিনামূল্যের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সুবিধা।

বারের নিজস্ব তারহীন ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গ্রাহকেরা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহকারীর মাধ্যমে ডিপসিকের টোকেন বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে কোড লেখার কাজে এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য বারে দুটি উচ্চক্ষমতার এনভিডিয়া কম্পিউটারও রাখা হয়েছে।

বারটির উদ্যোক্তার মতে, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পানি, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের মতোই সাধারণ মানুষের জন্য একটি মৌলিক সেবা হয়ে উঠবে। তাই তিনি চান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সুযোগও যেন তারহীন ইন্টারনেটের মতো সহজলভ্য হয়।

## মানুষের কাজ কমিয়ে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

শুধু গ্রাহকদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সুবিধা দেওয়াই নয়, বারটির দৈনন্দিন পরিচালনাতেও প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। পণ্য মজুত, আসন সংরক্ষণ, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবা এবং সদস্য ব্যবস্থাপনার বড় একটি অংশ স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে।

উদ্যোক্তার পরিকল্পনা, ভবিষ্যতে বারে মানবাকৃতির রোবটও যুক্ত করা হবে। এসব রোবট গ্রাহকদের পানীয় পরিবেশন করবে। চলতি বছর বেইজিংয়ের বারটির পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এরই মধ্যে জুন মাসে সাংহাইয়ে এর একটি শাখা চালু করা হয়েছে।

তিনি জানান, বারের আলো, বিভিন্ন যন্ত্র ও সফটওয়্যারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরিচালনার জন্য সংযুক্ত করা হয়েছে। লক্ষ্য হলো অপ্রয়োজনীয় ও একঘেয়ে কাজে মানুষের শ্রম নষ্ট না করা।

At Beijing AI-themed bar, DeepSeek tokens come with the pints | Reuters

জনপ্রিয়তা বাড়লেও এখনো লোকসানে

প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে বারটি জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও ব্যবসায়িকভাবে এখনো লাভের মুখ দেখেনি। বরং উদ্যোক্তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে পুরোপুরি লোকসানে চলছে।

তার ভাষায়, যতসংখ্যক পানীয় বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে, বিক্রি হচ্ছে তার তুলনায় প্রায় দশ গুণ কম। তবুও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারকে কাজে লাগিয়ে বারটিকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর সামাজিক মিলনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার যে এখন শুধু গবেষণাগার বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বেইজিংয়ের এই বার তারই এক অভিনব উদাহরণ। পানীয়, আড্ডা ও প্রযুক্তিকে এক জায়গায় এনে নতুন ধরনের সামাজিক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা

বেইজিংয়ের এআই বারে পিন্টের সঙ্গে মিলছে ডিপসিকের টোকেন

০৭:৫৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের প্রযুক্তিপাড়া ঝোংগুয়ানছুনে এমন এক বার এখন প্রযুক্তিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে, যেখানে পানীয়ের পাশাপাশি মিলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করার সুযোগ। বারের নাম এজিআই বার। এখানে পানীয়ের সঙ্গে গ্রাহকদের জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে ডিপসিকের টোকেন, যা ব্যবহার করা যায় কোড লেখাসহ নানা কাজে।

কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তার ধারণা থেকে বারের নাম রাখা হয়েছে এজিআই। এর উদ্যোক্তা ত্রিশের কোঠার স্বতন্ত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নকারী সং দে। অবসর সময়ে তিনি বারটি পরিচালনা করেন। গত বছর চালুর পর এটি বেইজিংয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নকারী, বিনিয়োগকারী ও শিক্ষার্থীদের মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে।

প্রযুক্তির প্রাণকেন্দ্রে প্রযুক্তিপ্রেমীদের আড্ডা

বারটি ঝোংগুয়ানছুনের ইনো ওয়ে নামের উদ্যোগপতি এলাকার একটি সড়কে অবস্থিত। কাছেই রয়েছে চীনের শীর্ষস্থানীয় সিংহুয়া ও পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়। একই এলাকায় ডিপসিক ও মাইক্রোসফটসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ও রয়েছে।

ফলে বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মানুষ নিয়মিত এখানে একত্র হন। বারটিতে চীনের বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান, উন্নয়নকারী সম্মেলন, উন্মুক্ত প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা সভাও আয়োজন করা হয়।

বারটির দেয়ালে চীনের বড় বড় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের প্রতীক, নানা রঙের মূর্তি ও প্রযুক্তিপণ্য সাজানো রয়েছে। একটি বড় পিতলের ঘণ্টাও রাখা হয়েছে, যা চীনের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সময় ব্যবহার করা হয়েছিল।

At Beijing AI-themed bar, DeepSeek tokens come with the pints | Reuters

পানীয়ের সঙ্গে ডিপসিকের বিনামূল্যের সুবিধা

বারটির সবচেয়ে আলোচিত পানীয়ের নামও এজিআই। মাত্র ৯ দশমিক ৯ ইউয়ানে পাওয়া যায় এক গ্লাস ফেনাযুক্ত পানীয়। তবে এই পানীয়ের চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে বারটির বিনামূল্যের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সুবিধা।

বারের নিজস্ব তারহীন ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গ্রাহকেরা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহকারীর মাধ্যমে ডিপসিকের টোকেন বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে কোড লেখার কাজে এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য বারে দুটি উচ্চক্ষমতার এনভিডিয়া কম্পিউটারও রাখা হয়েছে।

বারটির উদ্যোক্তার মতে, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পানি, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের মতোই সাধারণ মানুষের জন্য একটি মৌলিক সেবা হয়ে উঠবে। তাই তিনি চান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের সুযোগও যেন তারহীন ইন্টারনেটের মতো সহজলভ্য হয়।

## মানুষের কাজ কমিয়ে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

শুধু গ্রাহকদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সুবিধা দেওয়াই নয়, বারটির দৈনন্দিন পরিচালনাতেও প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। পণ্য মজুত, আসন সংরক্ষণ, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবা এবং সদস্য ব্যবস্থাপনার বড় একটি অংশ স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে।

উদ্যোক্তার পরিকল্পনা, ভবিষ্যতে বারে মানবাকৃতির রোবটও যুক্ত করা হবে। এসব রোবট গ্রাহকদের পানীয় পরিবেশন করবে। চলতি বছর বেইজিংয়ের বারটির পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এরই মধ্যে জুন মাসে সাংহাইয়ে এর একটি শাখা চালু করা হয়েছে।

তিনি জানান, বারের আলো, বিভিন্ন যন্ত্র ও সফটওয়্যারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরিচালনার জন্য সংযুক্ত করা হয়েছে। লক্ষ্য হলো অপ্রয়োজনীয় ও একঘেয়ে কাজে মানুষের শ্রম নষ্ট না করা।

At Beijing AI-themed bar, DeepSeek tokens come with the pints | Reuters

জনপ্রিয়তা বাড়লেও এখনো লোকসানে

প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে বারটি জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও ব্যবসায়িকভাবে এখনো লাভের মুখ দেখেনি। বরং উদ্যোক্তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে পুরোপুরি লোকসানে চলছে।

তার ভাষায়, যতসংখ্যক পানীয় বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে, বিক্রি হচ্ছে তার তুলনায় প্রায় দশ গুণ কম। তবুও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারকে কাজে লাগিয়ে বারটিকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর সামাজিক মিলনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার যে এখন শুধু গবেষণাগার বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বেইজিংয়ের এই বার তারই এক অভিনব উদাহরণ। পানীয়, আড্ডা ও প্রযুক্তিকে এক জায়গায় এনে নতুন ধরনের সামাজিক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।