০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৮ শতাংশে, নতুন হিসাবপদ্ধতিতে বাড়ল বার্ষিক পূর্বাভাস

চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশে। নতুন ভিত্তিবর্ষে প্রণীত জিডিপি সিরিজ প্রকাশের পর সরকার বার্ষিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও বাড়িয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতার মধ্যেও বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশ হিসেবে ভারতের অর্থনীতি যে স্থিতিশীল রয়েছে, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই বার্তাই দিচ্ছে।

তৃতীয় প্রান্তিকে জোরালো প্রবৃদ্ধি

পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.৮ শতাংশ। এক বছর আগে একই সময়ে এই হার ছিল ৬.২ শতাংশ। আগের প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৮.২ শতাংশ। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে ভারত।

নতুন জিডিপি সিরিজ অনুযায়ী হিসাব করতে গিয়ে ভিত্তিবর্ষ ২০১১-১২ থেকে সরিয়ে ২০২২-২৩ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতির গত এক দশকের পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করতেই এই সংশোধন।

India's GDP Growth Expected To Cross 8% In Q3 FY26: Report

বার্ষিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ল

নতুন সিরিজের ভিত্তিতে সরকার এখন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৬ শতাংশ হবে বলে অনুমান করছে। জানুয়ারিতে পুরোনো সিরিজ অনুযায়ী প্রথম অগ্রিম অনুমানে এই হার ছিল ৭.৪ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের সঙ্গেও এই নতুন হিসাব মিলছে।

রাজস্ব ও ব্যয়ের চিত্র

চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আর্থিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯.৮১ লাখ কোটি রুপি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে মোট সরকারি ব্যয় হয়েছে ৩৬.৯ লাখ কোটি রুপি। একই সময়ে সরকারের মোট প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ২৭.১ লাখ কোটি রুপি। রাজস্ব ও ব্যয়ের এই ব্যবধানই ঘাটতির প্রধান কারণ।

নতুন সিরিজে কী পরিবর্তন

নতুন জিডিপি সিরিজে বিভিন্ন খাতের ওজন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে অর্থনীতির বর্তমান কাঠামো সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়। ২০১৫ সালেও একই ধরনের সংশোধনের ফলে ভারতের জিডিপি প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ৪.৭ শতাংশ থেকে সংশোধিত হয়ে ৬.৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল।

১০০ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণ, বাংলাদেশের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে - BBC  News বাংলা

অর্থনীতিবিদদের মতে, সংশোধিত সিরিজ খাতভিত্তিক উপস্থাপনাকে আরও উন্নত করেছে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃতভাবে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

বৃহত্তর সংস্কারের অংশ

জিডিপি পরিমাপের এই পরিবর্তন বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান সংস্কারের অংশ। সম্প্রতি সরকার মূল্যস্ফীতি নির্ণয়ের পদ্ধতিও সংশোধন করেছে, যাতে ব্যয়ের ধরনে পরিবর্তনগুলো আরও সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়।

বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থান

বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে ভারতের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। এখন নজর রয়েছে, নতুন হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী কবে ভারত জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হবে। জাপানের অর্থনীতির আকার প্রায় ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার। গত বছরে রুপির অবমূল্যায়নের কারণে ভারত এখনো সেই অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৮ শতাংশে, নতুন হিসাবপদ্ধতিতে বাড়ল বার্ষিক পূর্বাভাস

০৬:২২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশে। নতুন ভিত্তিবর্ষে প্রণীত জিডিপি সিরিজ প্রকাশের পর সরকার বার্ষিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও বাড়িয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতার মধ্যেও বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশ হিসেবে ভারতের অর্থনীতি যে স্থিতিশীল রয়েছে, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই বার্তাই দিচ্ছে।

তৃতীয় প্রান্তিকে জোরালো প্রবৃদ্ধি

পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.৮ শতাংশ। এক বছর আগে একই সময়ে এই হার ছিল ৬.২ শতাংশ। আগের প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৮.২ শতাংশ। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছে ভারত।

নতুন জিডিপি সিরিজ অনুযায়ী হিসাব করতে গিয়ে ভিত্তিবর্ষ ২০১১-১২ থেকে সরিয়ে ২০২২-২৩ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতির গত এক দশকের পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করতেই এই সংশোধন।

India's GDP Growth Expected To Cross 8% In Q3 FY26: Report

বার্ষিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ল

নতুন সিরিজের ভিত্তিতে সরকার এখন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৬ শতাংশ হবে বলে অনুমান করছে। জানুয়ারিতে পুরোনো সিরিজ অনুযায়ী প্রথম অগ্রিম অনুমানে এই হার ছিল ৭.৪ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের সঙ্গেও এই নতুন হিসাব মিলছে।

রাজস্ব ও ব্যয়ের চিত্র

চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আর্থিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯.৮১ লাখ কোটি রুপি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে মোট সরকারি ব্যয় হয়েছে ৩৬.৯ লাখ কোটি রুপি। একই সময়ে সরকারের মোট প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ২৭.১ লাখ কোটি রুপি। রাজস্ব ও ব্যয়ের এই ব্যবধানই ঘাটতির প্রধান কারণ।

নতুন সিরিজে কী পরিবর্তন

নতুন জিডিপি সিরিজে বিভিন্ন খাতের ওজন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে অর্থনীতির বর্তমান কাঠামো সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়। ২০১৫ সালেও একই ধরনের সংশোধনের ফলে ভারতের জিডিপি প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ৪.৭ শতাংশ থেকে সংশোধিত হয়ে ৬.৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল।

১০০ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণ, বাংলাদেশের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে - BBC  News বাংলা

অর্থনীতিবিদদের মতে, সংশোধিত সিরিজ খাতভিত্তিক উপস্থাপনাকে আরও উন্নত করেছে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃতভাবে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

বৃহত্তর সংস্কারের অংশ

জিডিপি পরিমাপের এই পরিবর্তন বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান সংস্কারের অংশ। সম্প্রতি সরকার মূল্যস্ফীতি নির্ণয়ের পদ্ধতিও সংশোধন করেছে, যাতে ব্যয়ের ধরনে পরিবর্তনগুলো আরও সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়।

বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থান

বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে ভারতের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। এখন নজর রয়েছে, নতুন হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী কবে ভারত জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হবে। জাপানের অর্থনীতির আকার প্রায় ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার। গত বছরে রুপির অবমূল্যায়নের কারণে ভারত এখনো সেই অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।