০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

ভারতের জ্বালানি রূপান্তরের বড় ভরসা পরিচ্ছন্ন শক্তি, বলছে রাষ্ট্রসংঘ

ভারতের জ্বালানি খাতের রূপান্তরে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক—দুই ধরনের বড় চ্যালেঞ্জ থাকলেও এর কার্যকর সমাধান হতে পারে পরিচ্ছন্ন শক্তির বিস্তার, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং বিদ্যুতায়নের গতি বাড়ানো। রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তার সাম্প্রতিক মন্তব্যে উঠে এসেছে, এই পদক্ষেপ শুধু জলবায়ু সুরক্ষার জন্য নয়, ভারতের নিজের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযুক্তি ও অর্থ—দুই দিকেই চ্যালেঞ্জ

রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু বিষয়ক নির্বাহী সচিব সাইমন স্টিয়েল ভারতের মন্ত্রী ও শিল্পপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, দেশের জ্বালানি রূপান্তরের পথে নানা ধরনের বাধা রয়েছে। একদিকে রয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংরক্ষণের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, অন্যদিকে রয়েছে পর্যাপ্ত অর্থায়নের প্রয়োজন।

তার মতে, এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি বিশ্বের অধিকাংশ বড় অর্থনীতিই হচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব।

বিদ্যুতায়নেই ভবিষ্যতের পথ

UN Climate Chief Praises India's Clean Energy Push as Model for Global Energy  Transition

বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতায়নের ওপর জোর বাড়ছে। লক্ষ্য হলো আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট শক্তির অন্তত ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ থেকে আসা নিশ্চিত করা।

ভারতের ক্ষেত্রে সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও এই দুই উৎসের উৎপাদন সব সময় সমান থাকে না। ফলে রাতের সময় কিংবা কম উৎপাদনের সময় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা এখনো পুরোপুরি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। আবার দিনের বেলায় অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখতে অনেক বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেই ছেড়ে দিতে হয়। এই বাস্তবতায় উন্নত বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।

অর্থায়ন বাড়ানোই বড় লক্ষ্য

সাইমন স্টিয়েলের মতে, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং বিদ্যুতায়নের মতো উদ্যোগ ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাত থেকেই অর্থায়ন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

UN climate chief Simon Stiell praises India's clean energy transition and  solar growth - The HinduBusinessLine

তিনি বলেন, ভারতের মতো অনেক উন্নয়নশীল দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং অভিযোজনমূলক কর্মসূচির জন্য পর্যাপ্ত অর্থের সংকটে রয়েছে। তাই জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়টি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার একটি হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়াতে শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করলেই হবে না। এর পাশাপাশি আধুনিক বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা, শক্তি সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অর্থায়ন বাড়াতে পারলে ভারতের জ্বালানি রূপান্তর আরও দ্রুত এবং টেকসই হতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

ভারতের জ্বালানি রূপান্তরের বড় ভরসা পরিচ্ছন্ন শক্তি, বলছে রাষ্ট্রসংঘ

০২:২১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ভারতের জ্বালানি খাতের রূপান্তরে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক—দুই ধরনের বড় চ্যালেঞ্জ থাকলেও এর কার্যকর সমাধান হতে পারে পরিচ্ছন্ন শক্তির বিস্তার, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং বিদ্যুতায়নের গতি বাড়ানো। রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তার সাম্প্রতিক মন্তব্যে উঠে এসেছে, এই পদক্ষেপ শুধু জলবায়ু সুরক্ষার জন্য নয়, ভারতের নিজের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযুক্তি ও অর্থ—দুই দিকেই চ্যালেঞ্জ

রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু বিষয়ক নির্বাহী সচিব সাইমন স্টিয়েল ভারতের মন্ত্রী ও শিল্পপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, দেশের জ্বালানি রূপান্তরের পথে নানা ধরনের বাধা রয়েছে। একদিকে রয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংরক্ষণের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, অন্যদিকে রয়েছে পর্যাপ্ত অর্থায়নের প্রয়োজন।

তার মতে, এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি বিশ্বের অধিকাংশ বড় অর্থনীতিই হচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব।

বিদ্যুতায়নেই ভবিষ্যতের পথ

UN Climate Chief Praises India's Clean Energy Push as Model for Global Energy  Transition

বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতায়নের ওপর জোর বাড়ছে। লক্ষ্য হলো আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট শক্তির অন্তত ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ থেকে আসা নিশ্চিত করা।

ভারতের ক্ষেত্রে সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও এই দুই উৎসের উৎপাদন সব সময় সমান থাকে না। ফলে রাতের সময় কিংবা কম উৎপাদনের সময় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা এখনো পুরোপুরি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। আবার দিনের বেলায় অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখতে অনেক বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেই ছেড়ে দিতে হয়। এই বাস্তবতায় উন্নত বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।

অর্থায়ন বাড়ানোই বড় লক্ষ্য

সাইমন স্টিয়েলের মতে, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং বিদ্যুতায়নের মতো উদ্যোগ ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাত থেকেই অর্থায়ন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

UN climate chief Simon Stiell praises India's clean energy transition and  solar growth - The HinduBusinessLine

তিনি বলেন, ভারতের মতো অনেক উন্নয়নশীল দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং অভিযোজনমূলক কর্মসূচির জন্য পর্যাপ্ত অর্থের সংকটে রয়েছে। তাই জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়টি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার একটি হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়াতে শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করলেই হবে না। এর পাশাপাশি আধুনিক বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা, শক্তি সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অর্থায়ন বাড়াতে পারলে ভারতের জ্বালানি রূপান্তর আরও দ্রুত এবং টেকসই হতে পারে।