০৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর

ভারতের শহরে সেন্ট্রাল পার্ক কেন জরুরি: সবুজ না থাকলে শহরের শ্বাস রুদ্ধ

নিউইয়র্কে নামার পর মাথার ভেতর যেন প্রশাসনিক ঝামেলার এক অদৃশ্য ঘূর্ণি। কাগজপত্র, ফোনকল, ভিড় আর কংক্রিটের জঙ্গল মিলিয়ে ক্লান্তি চেপে বসেছিল। এমন অবস্থায় শহরের মাঝখানে এক টুকরো সবুজের খোঁজে হাঁটতে বেরোনোই বদলে দিল অনুভূতি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই হাঁটা পৌঁছে দিল এমন এক জায়গায়, যেখানে শহরের শব্দ থেমে গিয়ে মনটা হালকা হয়ে আসে। এই অভিজ্ঞতাই নতুন করে প্রশ্ন তোলে, ভারতের শহরগুলোতে এমন বড় সবুজ পার্ক কেন নেই।

সবুজের শক্তি আর শহরের মনস্তত্ত্ব

শহরের মাঝখানে বড় সবুজ এলাকা কেবল বিনোদনের জায়গা নয়। গাছ, জলাশয় আর খোলা প্রান্তর মানুষের মানসিক চাপ কমায়, আশার অনুভূতি জাগায়। নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে হাঁটতে হাঁটতে দেখা যায় সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, পরিবার আর পর্যটকদের মেলবন্ধন। ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ভাষা, তবু সবাই সেখানে কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পায়। এই স্বস্তিই শহুরে জীবনের ভারসাম্য।

The Role of Urban Green Spaces in Combating Climate Change in India

শহর গরম হওয়া আর সবুজের ভূমিকা

কংক্রিট আর পিচ সূর্যের তাপ শুষে নিয়ে শহরকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এই তাপ দ্বীপ প্রভাবে গরম বেড়ে যায়, অসুস্থতা বাড়ে। সবুজ এলাকা এই চক্র ভাঙতে পারে। গাছের ছায়া আর পাতার ভেতরের জলীয় প্রক্রিয়ায় বাতাস ঠান্ডা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত সবুজ থাকলে শহরের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। অথচ ভারতের বহু শহরে মাথাপিছু সবুজ খোলা জায়গা অত্যন্ত কম ।

জল, বৃষ্টি আর হারিয়ে যাওয়া জলাধার

ভারতের বৃষ্টি মৌসুমি ও অল্প সময়ে প্রবল। প্রাচীন শহরগুলো এই বাস্তবতা মাথায় রেখে গড়ে উঠেছিল। চারদিকে ছিল পুকুর, দিঘি, জলাধার, যা বর্ষার জল ধরে রেখে শুকনো সময়ে ভূগর্ভস্থ জল বাঁচিয়ে রাখত। আধুনিক নগরায়নে সেই জলাধার ভরাট হয়ে গেছে। ফল হিসেবে কখনো বন্যা, কখনও তীব্র জলসংকট। গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের জলাধার ও তার চারপাশের সবুজ ভূগর্ভস্থ জল স্তর টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে ।

India's urban population to stand at 675 million in 2035, second highest behind China's 1 billion: UN – Firstpost

জনসংখ্যা বিস্ফোরণ আর ভবিষ্যৎ শহর

আগামী কয়েক দশকে ভারতের শহুরে জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার পথে। এই বিপুল মানুষের জন্য যে অবকাঠামো তৈরি হবে, তার বড় অংশ এখনও নির্মাণ বাকি। এখানেই সুযোগ। যদি সবুজ পার্ক, জলাধার আর খোলা জায়গাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা হয়, তবে ভবিষ্যতের শহর হবে বেশি বাসযোগ্য, বেশি সহনশীল।

সরকার, সমাজ আর অংশীদারত্ব

শহরের সবুজ রক্ষায় কেবল সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিক অংশগ্রহণ আর সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্ব বড় ভূমিকা নিতে পারে। সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা পার্ক বা জলাধার স্থানীয় কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে, সংস্কৃতি আর পর্যটনের কেন্দ্র হতে পারে। সংগীত, শিল্প আর প্রকৃতির মিলনে শহর নতুন প্রাণ পায়।

সবুজ মানেই আশার ঠিকানা

নিউইয়র্কের সেই পার্ক থেকে বেরিয়ে তুষার ঝেড়ে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়েছিল, প্রকৃতি যেন শহরের ভেতর বন্দি নয়, বরং শহরকে নতুনভাবে বাঁচতে শেখাচ্ছে। ভারতের শহর গুলোর জন্যও এই শিক্ষাই সবচেয়ে জরুরি। বড় সবুজ পার্ক বিলাস নয়, বরং সুস্থ ভবিষ্যতের শর্ত।

From the Archives: Winter in Central Park | Central Park Conservancy

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব

ভারতের শহরে সেন্ট্রাল পার্ক কেন জরুরি: সবুজ না থাকলে শহরের শ্বাস রুদ্ধ

০৪:৪৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

নিউইয়র্কে নামার পর মাথার ভেতর যেন প্রশাসনিক ঝামেলার এক অদৃশ্য ঘূর্ণি। কাগজপত্র, ফোনকল, ভিড় আর কংক্রিটের জঙ্গল মিলিয়ে ক্লান্তি চেপে বসেছিল। এমন অবস্থায় শহরের মাঝখানে এক টুকরো সবুজের খোঁজে হাঁটতে বেরোনোই বদলে দিল অনুভূতি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই হাঁটা পৌঁছে দিল এমন এক জায়গায়, যেখানে শহরের শব্দ থেমে গিয়ে মনটা হালকা হয়ে আসে। এই অভিজ্ঞতাই নতুন করে প্রশ্ন তোলে, ভারতের শহরগুলোতে এমন বড় সবুজ পার্ক কেন নেই।

সবুজের শক্তি আর শহরের মনস্তত্ত্ব

শহরের মাঝখানে বড় সবুজ এলাকা কেবল বিনোদনের জায়গা নয়। গাছ, জলাশয় আর খোলা প্রান্তর মানুষের মানসিক চাপ কমায়, আশার অনুভূতি জাগায়। নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে হাঁটতে হাঁটতে দেখা যায় সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, পরিবার আর পর্যটকদের মেলবন্ধন। ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ভাষা, তবু সবাই সেখানে কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পায়। এই স্বস্তিই শহুরে জীবনের ভারসাম্য।

The Role of Urban Green Spaces in Combating Climate Change in India

শহর গরম হওয়া আর সবুজের ভূমিকা

কংক্রিট আর পিচ সূর্যের তাপ শুষে নিয়ে শহরকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এই তাপ দ্বীপ প্রভাবে গরম বেড়ে যায়, অসুস্থতা বাড়ে। সবুজ এলাকা এই চক্র ভাঙতে পারে। গাছের ছায়া আর পাতার ভেতরের জলীয় প্রক্রিয়ায় বাতাস ঠান্ডা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত সবুজ থাকলে শহরের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। অথচ ভারতের বহু শহরে মাথাপিছু সবুজ খোলা জায়গা অত্যন্ত কম ।

জল, বৃষ্টি আর হারিয়ে যাওয়া জলাধার

ভারতের বৃষ্টি মৌসুমি ও অল্প সময়ে প্রবল। প্রাচীন শহরগুলো এই বাস্তবতা মাথায় রেখে গড়ে উঠেছিল। চারদিকে ছিল পুকুর, দিঘি, জলাধার, যা বর্ষার জল ধরে রেখে শুকনো সময়ে ভূগর্ভস্থ জল বাঁচিয়ে রাখত। আধুনিক নগরায়নে সেই জলাধার ভরাট হয়ে গেছে। ফল হিসেবে কখনো বন্যা, কখনও তীব্র জলসংকট। গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের জলাধার ও তার চারপাশের সবুজ ভূগর্ভস্থ জল স্তর টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে ।

India's urban population to stand at 675 million in 2035, second highest behind China's 1 billion: UN – Firstpost

জনসংখ্যা বিস্ফোরণ আর ভবিষ্যৎ শহর

আগামী কয়েক দশকে ভারতের শহুরে জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার পথে। এই বিপুল মানুষের জন্য যে অবকাঠামো তৈরি হবে, তার বড় অংশ এখনও নির্মাণ বাকি। এখানেই সুযোগ। যদি সবুজ পার্ক, জলাধার আর খোলা জায়গাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা হয়, তবে ভবিষ্যতের শহর হবে বেশি বাসযোগ্য, বেশি সহনশীল।

সরকার, সমাজ আর অংশীদারত্ব

শহরের সবুজ রক্ষায় কেবল সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিক অংশগ্রহণ আর সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্ব বড় ভূমিকা নিতে পারে। সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা পার্ক বা জলাধার স্থানীয় কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে, সংস্কৃতি আর পর্যটনের কেন্দ্র হতে পারে। সংগীত, শিল্প আর প্রকৃতির মিলনে শহর নতুন প্রাণ পায়।

সবুজ মানেই আশার ঠিকানা

নিউইয়র্কের সেই পার্ক থেকে বেরিয়ে তুষার ঝেড়ে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়েছিল, প্রকৃতি যেন শহরের ভেতর বন্দি নয়, বরং শহরকে নতুনভাবে বাঁচতে শেখাচ্ছে। ভারতের শহর গুলোর জন্যও এই শিক্ষাই সবচেয়ে জরুরি। বড় সবুজ পার্ক বিলাস নয়, বরং সুস্থ ভবিষ্যতের শর্ত।

From the Archives: Winter in Central Park | Central Park Conservancy