০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

মানবস্পর্শে বদলে যাচ্ছে ভবিষ্যতের ট্যাক্সি বহর: ওয়েমোর গাড়িতে শিল্পীদের রঙিন ছোঁয়া

ওয়েমোর স্বচালিত ট্যাক্সি বহরকে আরও মানবিক, সহজবোধ্য ও কাছের করে তুলতে স্থানীয় শিল্পীদের দিয়ে গাড়ির গায়ে তৈরি করানো হচ্ছে রঙিন শিল্পকর্ম। প্রযুক্তিনির্ভর এই রোবো-ট্যাক্সিগুলোকে যেন মানুষ “ঠান্ডা মেশিন” নয়, বরং এক বন্ধুত্বপূর্ণ সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করে—এটাই কোম্পানির লক্ষ্য।

স্বচালিত গাড়িতে ‘রঙিন প্রাণ’ যোগ করলেন শিল্পীরা
লস অ্যাঞ্জেলেসের স্ট্রিট আর্টিস্ট টমি লিম এক শুয়ে থাকা আরামপ্রিয় বিড়ালের ছবি এঁকেছেন ওয়েমোর স্বচালিত গাড়ির শরীরে। তাঁর মতে, স্বচালিত ট্যাক্সিতে চড়া মানে চিন্তাহীন, আরামদায়ক এক যাত্রা। ২ হাজার ৫০০টির বেশি গাড়ির এই বহরকে মানবিক চরিত্র দেওয়ার জন্য এবার ছয়জন শিল্পীকে যুক্ত করেছে ওয়েমো। সান ফ্রান্সিসকো, ফিনিক্স ও লস অ্যাঞ্জেলেসের এই শিল্পীরা তৈরি করেছেন রঙিন র‍্যাপ, যার মধ্যে দুই শ’র বেশি এখন রাস্তায় চলছে।

বিতর্কের মাঝেও এগোচ্ছে ওয়েমো
সম্প্রতি সান ফ্রান্সিসকোতে ওয়েমোর একটি গাড়ি এক প্রিয় বডেগা বিড়ালকে চাপা দিলে ক্ষোভ তৈরি হয়। তবে কোম্পানির দাবি, তাদের লক্ষ্য যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্পীদের ডিজাইন যাত্রীদের মুখে হাসি এনে দেয়।

How Art Is Driving Waymo's Feel-Good Branding - The New York Times

শিল্পের মাধ্যমে ভয়–অনাস্থা কমানোর চেষ্টা
ফিনিক্সের নিকোল পপেল মরুভূমির পাখি, প্রাণী আর উদ্ভিদের অনুপ্রেরণায় রঙিন ডিজাইন তৈরি করেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের অ্যাশলি ড্রেফুস করেছেন সাইকেডেলিক রঙের কল্পদৃশ্য। স্টর্মি মে নেসবিট তুলে ধরেছেন শক্তিশালী আফ্রিকান-আমেরিকান নারীর প্রতিকৃতি।
ওয়েমোর লক্ষ্য প্রযুক্তির শীতল, নজরদারি-ভিত্তিক ভাবমূর্তিকে নরম করে মানুষকে আশ্বস্ত করা। অনেক সমালোচক যে গাড়িগুলোকে “চলমান নজরদারি ক্যামেরা” বলেন, সেই আতঙ্ক কমাতে শিল্প হয়ে উঠেছে কোম্পানির প্রধান কৌশল।

অমানবিক প্রযুক্তিকে মানবিক রূপ দিচ্ছে শিল্প
গবেষকরা বলছেন, যেমন অতীতে যুদ্ধবিমানগুলোতে কার্টুন আঁকা হত ভয় কমাতে, ঠিক তেমনভাবেই ওয়েমো শিল্পের আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ তুলনা করছেন গুগল ডুডলসের সঙ্গে—জটিল প্রযুক্তিকে সহজ ও বন্ধুত্বপূর্ণ করে তোলার এক প্রচেষ্টা।

যাত্রীদের প্রতিক্রিয়াও ইতিবাচক
দীর্ঘদিন ধরে ওয়েমো ব্যবহাকারীদের একজন জানান, শিল্পে সাজানো গাড়ি এসে থামলে মনটাই ভালো হয়ে যায়। রঙিন ডিজাইন যেন তীব্র প্রযুক্তির ভেতরও মানবীয় উষ্ণতার বার্তা বহন করে।

নতুন ভিজ্যুয়াল পরিচয়ে ওয়েমোর ভবিষ্যৎ
স্বচালিত গাড়ির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ওয়েমো তাদের বহরকে আরও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন করে তুলতে চাইছে, যাতে মানুষ প্রযুক্তির ভয় ভুলে সৃজনশীলতার সৌন্দর্যটুকু আগে দেখতে পায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

মানবস্পর্শে বদলে যাচ্ছে ভবিষ্যতের ট্যাক্সি বহর: ওয়েমোর গাড়িতে শিল্পীদের রঙিন ছোঁয়া

০৩:০০:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

ওয়েমোর স্বচালিত ট্যাক্সি বহরকে আরও মানবিক, সহজবোধ্য ও কাছের করে তুলতে স্থানীয় শিল্পীদের দিয়ে গাড়ির গায়ে তৈরি করানো হচ্ছে রঙিন শিল্পকর্ম। প্রযুক্তিনির্ভর এই রোবো-ট্যাক্সিগুলোকে যেন মানুষ “ঠান্ডা মেশিন” নয়, বরং এক বন্ধুত্বপূর্ণ সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করে—এটাই কোম্পানির লক্ষ্য।

স্বচালিত গাড়িতে ‘রঙিন প্রাণ’ যোগ করলেন শিল্পীরা
লস অ্যাঞ্জেলেসের স্ট্রিট আর্টিস্ট টমি লিম এক শুয়ে থাকা আরামপ্রিয় বিড়ালের ছবি এঁকেছেন ওয়েমোর স্বচালিত গাড়ির শরীরে। তাঁর মতে, স্বচালিত ট্যাক্সিতে চড়া মানে চিন্তাহীন, আরামদায়ক এক যাত্রা। ২ হাজার ৫০০টির বেশি গাড়ির এই বহরকে মানবিক চরিত্র দেওয়ার জন্য এবার ছয়জন শিল্পীকে যুক্ত করেছে ওয়েমো। সান ফ্রান্সিসকো, ফিনিক্স ও লস অ্যাঞ্জেলেসের এই শিল্পীরা তৈরি করেছেন রঙিন র‍্যাপ, যার মধ্যে দুই শ’র বেশি এখন রাস্তায় চলছে।

বিতর্কের মাঝেও এগোচ্ছে ওয়েমো
সম্প্রতি সান ফ্রান্সিসকোতে ওয়েমোর একটি গাড়ি এক প্রিয় বডেগা বিড়ালকে চাপা দিলে ক্ষোভ তৈরি হয়। তবে কোম্পানির দাবি, তাদের লক্ষ্য যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্পীদের ডিজাইন যাত্রীদের মুখে হাসি এনে দেয়।

How Art Is Driving Waymo's Feel-Good Branding - The New York Times

শিল্পের মাধ্যমে ভয়–অনাস্থা কমানোর চেষ্টা
ফিনিক্সের নিকোল পপেল মরুভূমির পাখি, প্রাণী আর উদ্ভিদের অনুপ্রেরণায় রঙিন ডিজাইন তৈরি করেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের অ্যাশলি ড্রেফুস করেছেন সাইকেডেলিক রঙের কল্পদৃশ্য। স্টর্মি মে নেসবিট তুলে ধরেছেন শক্তিশালী আফ্রিকান-আমেরিকান নারীর প্রতিকৃতি।
ওয়েমোর লক্ষ্য প্রযুক্তির শীতল, নজরদারি-ভিত্তিক ভাবমূর্তিকে নরম করে মানুষকে আশ্বস্ত করা। অনেক সমালোচক যে গাড়িগুলোকে “চলমান নজরদারি ক্যামেরা” বলেন, সেই আতঙ্ক কমাতে শিল্প হয়ে উঠেছে কোম্পানির প্রধান কৌশল।

অমানবিক প্রযুক্তিকে মানবিক রূপ দিচ্ছে শিল্প
গবেষকরা বলছেন, যেমন অতীতে যুদ্ধবিমানগুলোতে কার্টুন আঁকা হত ভয় কমাতে, ঠিক তেমনভাবেই ওয়েমো শিল্পের আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ তুলনা করছেন গুগল ডুডলসের সঙ্গে—জটিল প্রযুক্তিকে সহজ ও বন্ধুত্বপূর্ণ করে তোলার এক প্রচেষ্টা।

যাত্রীদের প্রতিক্রিয়াও ইতিবাচক
দীর্ঘদিন ধরে ওয়েমো ব্যবহাকারীদের একজন জানান, শিল্পে সাজানো গাড়ি এসে থামলে মনটাই ভালো হয়ে যায়। রঙিন ডিজাইন যেন তীব্র প্রযুক্তির ভেতরও মানবীয় উষ্ণতার বার্তা বহন করে।

নতুন ভিজ্যুয়াল পরিচয়ে ওয়েমোর ভবিষ্যৎ
স্বচালিত গাড়ির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ওয়েমো তাদের বহরকে আরও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন করে তুলতে চাইছে, যাতে মানুষ প্রযুক্তির ভয় ভুলে সৃজনশীলতার সৌন্দর্যটুকু আগে দেখতে পায়।