০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬৩)

  • Sarakhon Report
  • ০৬:০২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪
  • 147

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

মায়াদের মধ্যে ছেলেরা মধু দিয়ে একটি বিশেষ ধরনের পানীয় তৈরি করত। এই পানীয় তৈরির কৌশলটি হল এরকম: প্রথমে বালচে গাছের ছাল ছেঁটে বার করা হয়, এই চালচেকে নরম করে টাটকা মধু এর সঙ্গে যত্ন করে মিশিয়ে দেওয়া হয়। তবে এই মধু মেশানোর সময় আর টাটকা থাকে না। কেননা মধুকে দু’একদিন মোটামুটি গরম আবহাওয়ায় রেখে কিছুটা মজিয়ে বা পচিয়ে নেওয়া হয়।

এই পচা মধু বালচের (Balche) সঙ্গে মেশানোর পর অনেকটা এখনকার বাংলা মদ বা আদিবাসীদের হাড়িয়ার মত খেতে লাগে। এই বিশেষ ধরনের পানীয় প্রস্তুত করার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপে পুরুষদের অংশগ্রহণ এক ধরনের সমবেত আনন্দের পরিবেশ তৈরি করে। এই ধরনের কাজে অনেক সময় যেমন পরিবারের সদস্য/ সদস্যরা নিযুক্ত হয়। আবার অন্যদিকে পেশা বা টাকার বিনিময়ে কাজ করে দেবার প্রথাও ছিল।

অর্থাৎ আর্থ-বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থার ধরন দেখে আমরা বুঝতে পারি মায়া জনসমাজে পেশা বা জীবিকার গোটা আদলটাই ছিল এই কৃষিকাজ বা গবাদি পশু বা ভুট্টা উৎপাদনকে কেন্দ্র করে। পেশা বলতে বা জীবিকা অর্থে আমরা আধুনিককালের চাকরি বা শিল্পকেন্দ্রিক নগরাঞ্চলের রুটি-রোজগারের পথ বুঝি তা মায়াযুগে একদম ছিল না বললেই চলে।

একথার যাথার্থ্যতা আমরা অনুভব করতে পারব গ্রামাঞ্চলে মায়াদের ইঁদুর, হরিণ এবং অন্যান্য প্রাণী শিকার করে খাওয়ার মধ্য দিয়ে। অবশ্য অনেক সময় হাঁস, বড় আকারের পাখি, কুকুর এদের গৃহপালিত পশু হিসেবেও রাখা হয়।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬২)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬২)

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬৩)

০৬:০২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৪

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

মায়াদের মধ্যে ছেলেরা মধু দিয়ে একটি বিশেষ ধরনের পানীয় তৈরি করত। এই পানীয় তৈরির কৌশলটি হল এরকম: প্রথমে বালচে গাছের ছাল ছেঁটে বার করা হয়, এই চালচেকে নরম করে টাটকা মধু এর সঙ্গে যত্ন করে মিশিয়ে দেওয়া হয়। তবে এই মধু মেশানোর সময় আর টাটকা থাকে না। কেননা মধুকে দু’একদিন মোটামুটি গরম আবহাওয়ায় রেখে কিছুটা মজিয়ে বা পচিয়ে নেওয়া হয়।

এই পচা মধু বালচের (Balche) সঙ্গে মেশানোর পর অনেকটা এখনকার বাংলা মদ বা আদিবাসীদের হাড়িয়ার মত খেতে লাগে। এই বিশেষ ধরনের পানীয় প্রস্তুত করার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপে পুরুষদের অংশগ্রহণ এক ধরনের সমবেত আনন্দের পরিবেশ তৈরি করে। এই ধরনের কাজে অনেক সময় যেমন পরিবারের সদস্য/ সদস্যরা নিযুক্ত হয়। আবার অন্যদিকে পেশা বা টাকার বিনিময়ে কাজ করে দেবার প্রথাও ছিল।

অর্থাৎ আর্থ-বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া বা ব্যবস্থার ধরন দেখে আমরা বুঝতে পারি মায়া জনসমাজে পেশা বা জীবিকার গোটা আদলটাই ছিল এই কৃষিকাজ বা গবাদি পশু বা ভুট্টা উৎপাদনকে কেন্দ্র করে। পেশা বলতে বা জীবিকা অর্থে আমরা আধুনিককালের চাকরি বা শিল্পকেন্দ্রিক নগরাঞ্চলের রুটি-রোজগারের পথ বুঝি তা মায়াযুগে একদম ছিল না বললেই চলে।

একথার যাথার্থ্যতা আমরা অনুভব করতে পারব গ্রামাঞ্চলে মায়াদের ইঁদুর, হরিণ এবং অন্যান্য প্রাণী শিকার করে খাওয়ার মধ্য দিয়ে। অবশ্য অনেক সময় হাঁস, বড় আকারের পাখি, কুকুর এদের গৃহপালিত পশু হিসেবেও রাখা হয়।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬২)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৬২)