০৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

মারিয়া গ্রাজিয়া কিউরির হাতে ফেন্ডির নতুন অধ্যায়, সরলতা ও কারুশিল্পে ফিরছে ইতালীয় ঐতিহ্য

ইতালির বিলাসবহুল ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান ফেন্ডিতে নতুন সৃজনশীল পরিচালক হিসেবে মারিয়া গ্রাজিয়া কিউরির যাত্রা শুরু হয়েছে এক ভিন্ন বার্তা নিয়ে। রঙের চাকচিক্য বা অতিরিক্ত অলংকরণের বদলে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন পরিমিত নকশা, নিখুঁত কাট, উন্নত কারুশিল্প এবং এমন পোশাকে, যা সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকবে। তাঁর লক্ষ্য, ফেন্ডির দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ভবিষ্যতের চাহিদার সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত করা।

নতুন সূচনা, তবে ঐতিহ্যের ভিত্তিতেই

মারিয়া গ্রাজিয়া কিউরি মনে করেন, ফেন্ডিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার অর্থ তার অতীতকে ভেঙে ফেলা নয়। বরং বহু দশকের ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে সময়োপযোগী রূপ দেওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এখন বৈশ্বিক পর্যায়ে বিস্তৃত হলেও এর পারিবারিক ঐতিহ্য এবং মূল্যবোধ এখনও অটুট রয়েছে।

ফেন্ডির প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যরা এখনও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত আছেন। এই ধারাবাহিকতাকেই তিনি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন।

কালো রঙে আত্মবিশ্বাসী প্রত্যাবর্তন

ফেন্ডির নতুন সংগ্রহে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে কালো রঙের আধিপত্য এবং সরল নকশা। অনেকেই এই সংগ্রহকে সংযত বা গম্ভীর বলে মনে করলেও কিউরির ভাষায় এটি একটি সুস্পষ্ট অবস্থান প্রকাশের প্রচেষ্টা।

তাঁর মতে, অতিরিক্ত রঙ অনেক সময় পোশাকের প্রকৃত নকশাকে আড়াল করে দেয়। তাই তিনি এমন একটি সংগ্রহ উপস্থাপন করেছেন, যেখানে পোশাকের গঠন, কাট এবং সিলুয়েটই মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ফেন্ডির ইতিহাসে কালো, সাদা এবং গাঢ় বাদামি রঙের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই ঐতিহ্যকেই আধুনিকভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন তিনি।

ব্যাগের বাইরে পোশাকেও নতুন পরিচয়

ফেন্ডির নাম উচ্চারণ করলেই অনেকের মনে প্রথমেই আসে বিখ্যাত ব্যাগের কথা। বিশেষ করে এক সময়ের জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকে ব্যবহারের পর সেই ব্যাগ বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়। কিন্তু কিউরির মতে, ফেন্ডির পরিচয় শুধু একটি ব্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

তিনি চান, প্রতিষ্ঠানের পোশাক বিভাগও সমানভাবে নিজস্ব শক্তিশালী পরিচয় তৈরি করুক। এজন্য তিনি প্রতিটি পোশাকে সূক্ষ্ম কারুশিল্প, উন্নত উপকরণ এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন।

টেকসই ফ্যাশনের পথে নতুন উদ্যোগ

বর্তমান সময়ে পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের গুরুত্ব বিবেচনায় কিউরি একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন। নতুন পশম ব্যবহারের পরিবর্তে পুরোনো পশমের পোশাক নতুনভাবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে, যাতে পুরোনো সংগ্রহ নতুন রূপে ফিরে আসে।

একই সঙ্গে তিনি এমন সব কাপড় ব্যবহার করছেন, যেগুলো পশম বা চামড়ার কোমল অনুভূতি দেয়, কিন্তু পোশাক থাকে হালকা, আরামদায়ক এবং ব্যবহার উপযোগী।

কিউরির ভাষায়, নারীত্ব মানে অতিরিক্ত সাজসজ্জা নয়; বরং এমন পোশাক, যা পরিধানকারীকে স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস দেয়। তাঁর কাছে পোশাকের কোমলতা, হালকাতা এবং আরামই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কারুশিল্পই ফেন্ডির প্রাণ

ফেন্ডির ইতিহাসে হাতে তৈরি সূক্ষ্ম কাজের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কিউরি বলেন, প্রতিষ্ঠানের পাঁচ বোন প্রতিষ্ঠাতা প্রতিটি নকশা এবং কারুশিল্পের প্রতি অসাধারণ নিষ্ঠাবান ছিলেন। তাঁদের সেই উত্তরাধিকারই তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চান।

নতুন সংগ্রহে হাতে সূচিকর্ম, সূক্ষ্ম অলংকরণ এবং ঐতিহ্যবাহী কারিগরি দক্ষতার ব্যবহার সেই প্রচেষ্টারই অংশ।

সবার জন্য একই পোশাকের ভাবনা

নতুন সংগ্রহে নারী-পুরুষের প্রচলিত বিভাজন ভেঙে একই ধরনের পোশাক বিভিন্ন লিঙ্গের মডেলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। লম্বা কোট, ভেলভেট জ্যাকেট, বিশেষ নকশার শার্ট এবং ডেনিম—সবকিছুতেই ছিল সমতার বার্তা।

কিউরি বিশ্বাস করেন, ফ্যাশন মানুষের মধ্যে বিভাজন নয়, বরং সংযোগ তৈরি করবে। তাই তাঁর কাজের মূল ভিত্তি দলগত সহযোগিতা, পারস্পরিক সম্মান এবং সৃজনশীল অংশীদারিত্ব।

শিল্পকলার সঙ্গে ফ্যাশনের সংলাপ

কিউরির কাজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিল্পকলার সঙ্গে ফ্যাশনের সম্পর্ক গড়ে তোলা। তিনি বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন, যাতে পোশাক শুধু ব্যবহারযোগ্য বস্তু না হয়ে একটি শিল্পমাধ্যম হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

আগামী দিনে নৃত্যশিল্পী, অভিনেতা এবং বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের সৃষ্টিশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

ভারতের মুম্বাইয়ে সুবিধাবঞ্চিত তরুণীদের জন্য কারুশিল্প ও সূচিকর্মের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসা দীর্ঘদিনের সহযোগিতাও তিনি আরও শক্তিশালী করতে চান।

আগামী প্রজন্মের জন্য উত্তরাধিকার

মারিয়া গ্রাজিয়া কিউরির বিশ্বাস, একটি সফল ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সম্পদ শুধু তার পোশাক নয়, বরং তার জ্ঞান, দক্ষতা এবং মূল্যবোধ। তাই তিনি নিজের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চান।

তাঁর আশা, ফেন্ডির ঐতিহ্য, কারুশিল্প এবং সৃজনশীলতার উত্তরাধিকার ভবিষ্যতেও একইভাবে সমৃদ্ধ থাকবে এবং নতুন প্রজন্ম সেই ধারা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

মারিয়া গ্রাজিয়া কিউরির নেতৃত্বে ফেন্ডি সরল নকশা, উন্নত কারুশিল্প, টেকসই উদ্যোগ ও ঐতিহ্যনির্ভর ফ্যাশনের মাধ্যমে নতুন পরিচয় গড়ে তুলছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

মারিয়া গ্রাজিয়া কিউরির হাতে ফেন্ডির নতুন অধ্যায়, সরলতা ও কারুশিল্পে ফিরছে ইতালীয় ঐতিহ্য

১০:৪৯:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ইতালির বিলাসবহুল ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান ফেন্ডিতে নতুন সৃজনশীল পরিচালক হিসেবে মারিয়া গ্রাজিয়া কিউরির যাত্রা শুরু হয়েছে এক ভিন্ন বার্তা নিয়ে। রঙের চাকচিক্য বা অতিরিক্ত অলংকরণের বদলে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন পরিমিত নকশা, নিখুঁত কাট, উন্নত কারুশিল্প এবং এমন পোশাকে, যা সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকবে। তাঁর লক্ষ্য, ফেন্ডির দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ভবিষ্যতের চাহিদার সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত করা।

নতুন সূচনা, তবে ঐতিহ্যের ভিত্তিতেই

মারিয়া গ্রাজিয়া কিউরি মনে করেন, ফেন্ডিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার অর্থ তার অতীতকে ভেঙে ফেলা নয়। বরং বহু দশকের ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে সময়োপযোগী রূপ দেওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এখন বৈশ্বিক পর্যায়ে বিস্তৃত হলেও এর পারিবারিক ঐতিহ্য এবং মূল্যবোধ এখনও অটুট রয়েছে।

ফেন্ডির প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যরা এখনও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত আছেন। এই ধারাবাহিকতাকেই তিনি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন।

কালো রঙে আত্মবিশ্বাসী প্রত্যাবর্তন

ফেন্ডির নতুন সংগ্রহে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে কালো রঙের আধিপত্য এবং সরল নকশা। অনেকেই এই সংগ্রহকে সংযত বা গম্ভীর বলে মনে করলেও কিউরির ভাষায় এটি একটি সুস্পষ্ট অবস্থান প্রকাশের প্রচেষ্টা।

তাঁর মতে, অতিরিক্ত রঙ অনেক সময় পোশাকের প্রকৃত নকশাকে আড়াল করে দেয়। তাই তিনি এমন একটি সংগ্রহ উপস্থাপন করেছেন, যেখানে পোশাকের গঠন, কাট এবং সিলুয়েটই মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ফেন্ডির ইতিহাসে কালো, সাদা এবং গাঢ় বাদামি রঙের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই ঐতিহ্যকেই আধুনিকভাবে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন তিনি।

ব্যাগের বাইরে পোশাকেও নতুন পরিচয়

ফেন্ডির নাম উচ্চারণ করলেই অনেকের মনে প্রথমেই আসে বিখ্যাত ব্যাগের কথা। বিশেষ করে এক সময়ের জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকে ব্যবহারের পর সেই ব্যাগ বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়। কিন্তু কিউরির মতে, ফেন্ডির পরিচয় শুধু একটি ব্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

তিনি চান, প্রতিষ্ঠানের পোশাক বিভাগও সমানভাবে নিজস্ব শক্তিশালী পরিচয় তৈরি করুক। এজন্য তিনি প্রতিটি পোশাকে সূক্ষ্ম কারুশিল্প, উন্নত উপকরণ এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন।

টেকসই ফ্যাশনের পথে নতুন উদ্যোগ

বর্তমান সময়ে পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের গুরুত্ব বিবেচনায় কিউরি একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন। নতুন পশম ব্যবহারের পরিবর্তে পুরোনো পশমের পোশাক নতুনভাবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে, যাতে পুরোনো সংগ্রহ নতুন রূপে ফিরে আসে।

একই সঙ্গে তিনি এমন সব কাপড় ব্যবহার করছেন, যেগুলো পশম বা চামড়ার কোমল অনুভূতি দেয়, কিন্তু পোশাক থাকে হালকা, আরামদায়ক এবং ব্যবহার উপযোগী।

কিউরির ভাষায়, নারীত্ব মানে অতিরিক্ত সাজসজ্জা নয়; বরং এমন পোশাক, যা পরিধানকারীকে স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস দেয়। তাঁর কাছে পোশাকের কোমলতা, হালকাতা এবং আরামই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কারুশিল্পই ফেন্ডির প্রাণ

ফেন্ডির ইতিহাসে হাতে তৈরি সূক্ষ্ম কাজের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কিউরি বলেন, প্রতিষ্ঠানের পাঁচ বোন প্রতিষ্ঠাতা প্রতিটি নকশা এবং কারুশিল্পের প্রতি অসাধারণ নিষ্ঠাবান ছিলেন। তাঁদের সেই উত্তরাধিকারই তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চান।

নতুন সংগ্রহে হাতে সূচিকর্ম, সূক্ষ্ম অলংকরণ এবং ঐতিহ্যবাহী কারিগরি দক্ষতার ব্যবহার সেই প্রচেষ্টারই অংশ।

সবার জন্য একই পোশাকের ভাবনা

নতুন সংগ্রহে নারী-পুরুষের প্রচলিত বিভাজন ভেঙে একই ধরনের পোশাক বিভিন্ন লিঙ্গের মডেলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। লম্বা কোট, ভেলভেট জ্যাকেট, বিশেষ নকশার শার্ট এবং ডেনিম—সবকিছুতেই ছিল সমতার বার্তা।

কিউরি বিশ্বাস করেন, ফ্যাশন মানুষের মধ্যে বিভাজন নয়, বরং সংযোগ তৈরি করবে। তাই তাঁর কাজের মূল ভিত্তি দলগত সহযোগিতা, পারস্পরিক সম্মান এবং সৃজনশীল অংশীদারিত্ব।

শিল্পকলার সঙ্গে ফ্যাশনের সংলাপ

কিউরির কাজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিল্পকলার সঙ্গে ফ্যাশনের সম্পর্ক গড়ে তোলা। তিনি বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন, যাতে পোশাক শুধু ব্যবহারযোগ্য বস্তু না হয়ে একটি শিল্পমাধ্যম হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

আগামী দিনে নৃত্যশিল্পী, অভিনেতা এবং বিভিন্ন শিল্পমাধ্যমের সৃষ্টিশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

ভারতের মুম্বাইয়ে সুবিধাবঞ্চিত তরুণীদের জন্য কারুশিল্প ও সূচিকর্মের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসা দীর্ঘদিনের সহযোগিতাও তিনি আরও শক্তিশালী করতে চান।

আগামী প্রজন্মের জন্য উত্তরাধিকার

মারিয়া গ্রাজিয়া কিউরির বিশ্বাস, একটি সফল ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সম্পদ শুধু তার পোশাক নয়, বরং তার জ্ঞান, দক্ষতা এবং মূল্যবোধ। তাই তিনি নিজের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চান।

তাঁর আশা, ফেন্ডির ঐতিহ্য, কারুশিল্প এবং সৃজনশীলতার উত্তরাধিকার ভবিষ্যতেও একইভাবে সমৃদ্ধ থাকবে এবং নতুন প্রজন্ম সেই ধারা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

মারিয়া গ্রাজিয়া কিউরির নেতৃত্বে ফেন্ডি সরল নকশা, উন্নত কারুশিল্প, টেকসই উদ্যোগ ও ঐতিহ্যনির্ভর ফ্যাশনের মাধ্যমে নতুন পরিচয় গড়ে তুলছে।