০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

মার্কিন গির্জা বিক্ষোভে গ্রেপ্তার সাংবাদিক ডন লেমন, আদালতেই লড়াইয়ের ঘোষণা

মিনেসোটার সেন্ট পল শহরের একটি গির্জায় বিক্ষোভের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর ফেডারেল মামলার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিক ডন লেমন। মুক্তি পেয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতের বাইরে তিনি বলেন, সারা জীবন তিনি সংবাদই কভার করেছেন এবং সত্য তুলে ধরার দায়িত্ব থেকে সরে আসবেন না।

লেমন জানান, এই সময়টাই স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির আওতায় আনাই সাংবাদিকতার মূল কাজ, আর সেই দায়িত্ব তিনি চালিয়ে যাবেন বলেও স্পষ্ট করেন।

ঘটনার পটভূমি ও অভিযোগ
চলতি মাসের আঠারো তারিখ মিনেসোটার সেন্ট পলের একটি গির্জায় অভিবাসন সংক্রান্ত বিক্ষোভের সময় লেমন ও আরেক স্বাধীন সাংবাদিক জর্জিয়া ফোর্ট লাইভ সম্প্রচার করছিলেন। সেই সময় কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী গির্জার ভেতরে ঢুকে প্রার্থনা চলাকালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। ফেডারেল কৌঁসুলিদের দাবি, এটি ছিল পরিকল্পিতভাবে গির্জা দখলের মতো আক্রমণ, যেখানে উপাসকদের ভয় দেখানো হয়েছে।

তবে লেমন বারবার বলেন, তিনি সেখানে ছিলেন একজন সাংবাদিক হিসেবে, কোনো আন্দোলনকারী হিসেবে নন। ঘটনাস্থলে তার ভিডিওতেও তাকে বলতে শোনা যায় যে তিনি শুধু ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করছেন।

আদালতের অবস্থান ও জামিন
লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে শুনানিতে কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেন, লেমন জেনে শুনে ভিড়ের সঙ্গে গির্জায় ঢুকেছিলেন। তারা এটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে উচ্চ অঙ্কের জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা পক্ষ জানায়, লেমনের দীর্ঘ কর্মজীবনে সহিংসতার কোনো ইতিহাস নেই এবং তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত আদালত লেমনকে ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্তি দেয়। শর্ত হিসেবে তাকে সাক্ষী ও সহঅভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিতে বলা হয়। আগামী ফেব্রুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে তার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ
এই গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নাগরিক অধিকার সংগঠন ও প্রথম সংশোধনীপন্থীরা অভিযোগ করেছেন, বর্তমান প্রশাসন সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন বলেন, মিনেসোটায় সাংবাদিকদের কাজের জন্য অপরাধীর মতো扱া করা হয় না।

প্রেস স্বাধীনতা সংগঠনগুলোর ভাষ্য, ক্যামেরা হাতে সত্য তুলে ধরা কোনো অপরাধ নয়। তাদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।

সহকর্মী সাংবাদিকের প্রতিক্রিয়া
জর্জিয়া ফোর্টের পরিবারও তার গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। মুক্তির পর ফোর্ট বলেন, সম্প্রদায়ের ভেতরে কী ঘটছে তা নথিভুক্ত করাই ছিল তার কাজ, এবং সাংবাদিকদের সেই অধিকার সংবিধানই দিয়েছে।

রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার পর রক্ষণশীল গোষ্ঠী ও প্রশাসন ঘনিষ্ঠ মহল থেকে চাপ বাড়তে থাকে। ফেডারেল তদন্ত সংস্থার পরিচালক কাশ প্যাটেল ঘটনাটিকে গির্জার বিরুদ্ধে সমন্বিত লক্ষ্যবস্তু আখ্যা দেন। তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলায় সরকারের অবস্থান দুর্বল এবং শেষ পর্যন্ত লেমনই জয়ী হতে পারেন।

সাংবাদিক ডন লেমন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বারবার চেষ্টা করলেও তাকে থামানো যাবে না। তার কণ্ঠ নীরব হবে না, সত্য বলাই তার কাজ।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

মার্কিন গির্জা বিক্ষোভে গ্রেপ্তার সাংবাদিক ডন লেমন, আদালতেই লড়াইয়ের ঘোষণা

০৫:০৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

মিনেসোটার সেন্ট পল শহরের একটি গির্জায় বিক্ষোভের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর ফেডারেল মামলার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিক ডন লেমন। মুক্তি পেয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতের বাইরে তিনি বলেন, সারা জীবন তিনি সংবাদই কভার করেছেন এবং সত্য তুলে ধরার দায়িত্ব থেকে সরে আসবেন না।

লেমন জানান, এই সময়টাই স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির আওতায় আনাই সাংবাদিকতার মূল কাজ, আর সেই দায়িত্ব তিনি চালিয়ে যাবেন বলেও স্পষ্ট করেন।

ঘটনার পটভূমি ও অভিযোগ
চলতি মাসের আঠারো তারিখ মিনেসোটার সেন্ট পলের একটি গির্জায় অভিবাসন সংক্রান্ত বিক্ষোভের সময় লেমন ও আরেক স্বাধীন সাংবাদিক জর্জিয়া ফোর্ট লাইভ সম্প্রচার করছিলেন। সেই সময় কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী গির্জার ভেতরে ঢুকে প্রার্থনা চলাকালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। ফেডারেল কৌঁসুলিদের দাবি, এটি ছিল পরিকল্পিতভাবে গির্জা দখলের মতো আক্রমণ, যেখানে উপাসকদের ভয় দেখানো হয়েছে।

তবে লেমন বারবার বলেন, তিনি সেখানে ছিলেন একজন সাংবাদিক হিসেবে, কোনো আন্দোলনকারী হিসেবে নন। ঘটনাস্থলে তার ভিডিওতেও তাকে বলতে শোনা যায় যে তিনি শুধু ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করছেন।

আদালতের অবস্থান ও জামিন
লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে শুনানিতে কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেন, লেমন জেনে শুনে ভিড়ের সঙ্গে গির্জায় ঢুকেছিলেন। তারা এটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে উচ্চ অঙ্কের জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা পক্ষ জানায়, লেমনের দীর্ঘ কর্মজীবনে সহিংসতার কোনো ইতিহাস নেই এবং তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত আদালত লেমনকে ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্তি দেয়। শর্ত হিসেবে তাকে সাক্ষী ও সহঅভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিতে বলা হয়। আগামী ফেব্রুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে তার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ
এই গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নাগরিক অধিকার সংগঠন ও প্রথম সংশোধনীপন্থীরা অভিযোগ করেছেন, বর্তমান প্রশাসন সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন বলেন, মিনেসোটায় সাংবাদিকদের কাজের জন্য অপরাধীর মতো扱া করা হয় না।

প্রেস স্বাধীনতা সংগঠনগুলোর ভাষ্য, ক্যামেরা হাতে সত্য তুলে ধরা কোনো অপরাধ নয়। তাদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।

সহকর্মী সাংবাদিকের প্রতিক্রিয়া
জর্জিয়া ফোর্টের পরিবারও তার গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। মুক্তির পর ফোর্ট বলেন, সম্প্রদায়ের ভেতরে কী ঘটছে তা নথিভুক্ত করাই ছিল তার কাজ, এবং সাংবাদিকদের সেই অধিকার সংবিধানই দিয়েছে।

রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার পর রক্ষণশীল গোষ্ঠী ও প্রশাসন ঘনিষ্ঠ মহল থেকে চাপ বাড়তে থাকে। ফেডারেল তদন্ত সংস্থার পরিচালক কাশ প্যাটেল ঘটনাটিকে গির্জার বিরুদ্ধে সমন্বিত লক্ষ্যবস্তু আখ্যা দেন। তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলায় সরকারের অবস্থান দুর্বল এবং শেষ পর্যন্ত লেমনই জয়ী হতে পারেন।

সাংবাদিক ডন লেমন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বারবার চেষ্টা করলেও তাকে থামানো যাবে না। তার কণ্ঠ নীরব হবে না, সত্য বলাই তার কাজ।