০৯:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

মালদ্বীপে ঋণঝড়: ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সুকুক পরিশোধে চাপে অর্থনীতি

মালদ্বীপ এখন এক বড় আর্থিক পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে। আগামী এপ্রিলের শুরুতেই ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সুকুক বন্ড পরিশোধ করতে হবে দেশটিকে। সরকার আশ্বস্ত করলেও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকলেও তার টেকসইতা ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

রিজার্ভ আছে, কিন্তু চাপও কম নয়

সরকার জানিয়েছে, সুকুক পরিশোধের জন্য প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ডলার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.২৭ বিলিয়ন ডলারে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই রিজার্ভের বড় অংশ সরাসরি ব্যবহারযোগ্য নয়, যা সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

President Muizzu Announces MVR 13 Billion Debt Paid Without Printing Money  | Corporate Maldives

গোপন ঋণচুক্তির আলোচনা

অভ্যন্তরীণভাবে সরকার একটি মার্কিন বেসরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার আলোচনা করছে বলে জানা গেছে। যদিও সরকার প্রকাশ্যে বিষয়টি স্বীকার করেনি, তবুও এই আলোচনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শুধুমাত্র রিজার্ভ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে মিশ্র সংকেত

একদিকে সরকার বলছে অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল, অন্যদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই বার্তায় দ্বিধায় পড়ছেন। যদি পর্যাপ্ত অর্থ থাকে, তবে নতুন ঋণের প্রয়োজন কেন—এমন প্রশ্ন উঠছে বাজারে। এই অনিশ্চয়তা মালদ্বীপের আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

Sukuk payment of $500m due in April reveals Maldives' debt woes - Nikkei  Asia

ঋণের বোঝা বাড়ছে দ্রুত

বিশ্বব্যাংক আগেই সতর্ক করেছিল, ২০২৬ সালে মালদ্বীপের ঋণ পরিশোধের চাপ এক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। ইতিমধ্যে দেশটির মোট সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ১২৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি ও বৈদেশিক লেনদেন ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা মালদ্বীপের অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে। জ্বালানির দাম বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের দাম, আরও বা...

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুকুক পরিশোধ মালদ্বীপের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। যদি সরকার সফলভাবে অর্থ জোগাড় করতে পারে, তবে বাজারে আস্থা ফিরবে। অন্যথায় দেশটি শ্রীলঙ্কার মতো ঋণখেলাপির ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

মালদ্বীপে ঋণঝড়: ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সুকুক পরিশোধে চাপে অর্থনীতি

০৩:১৮:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

মালদ্বীপ এখন এক বড় আর্থিক পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে। আগামী এপ্রিলের শুরুতেই ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সুকুক বন্ড পরিশোধ করতে হবে দেশটিকে। সরকার আশ্বস্ত করলেও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকলেও তার টেকসইতা ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

রিজার্ভ আছে, কিন্তু চাপও কম নয়

সরকার জানিয়েছে, সুকুক পরিশোধের জন্য প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ডলার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.২৭ বিলিয়ন ডলারে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই রিজার্ভের বড় অংশ সরাসরি ব্যবহারযোগ্য নয়, যা সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

President Muizzu Announces MVR 13 Billion Debt Paid Without Printing Money  | Corporate Maldives

গোপন ঋণচুক্তির আলোচনা

অভ্যন্তরীণভাবে সরকার একটি মার্কিন বেসরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার আলোচনা করছে বলে জানা গেছে। যদিও সরকার প্রকাশ্যে বিষয়টি স্বীকার করেনি, তবুও এই আলোচনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শুধুমাত্র রিজার্ভ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে মিশ্র সংকেত

একদিকে সরকার বলছে অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল, অন্যদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই বার্তায় দ্বিধায় পড়ছেন। যদি পর্যাপ্ত অর্থ থাকে, তবে নতুন ঋণের প্রয়োজন কেন—এমন প্রশ্ন উঠছে বাজারে। এই অনিশ্চয়তা মালদ্বীপের আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

Sukuk payment of $500m due in April reveals Maldives' debt woes - Nikkei  Asia

ঋণের বোঝা বাড়ছে দ্রুত

বিশ্বব্যাংক আগেই সতর্ক করেছিল, ২০২৬ সালে মালদ্বীপের ঋণ পরিশোধের চাপ এক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। ইতিমধ্যে দেশটির মোট সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ১২৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি ও বৈদেশিক লেনদেন ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা মালদ্বীপের অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে। জ্বালানির দাম বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি তেলের দাম, আরও বা...

সামনে কী অপেক্ষা করছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুকুক পরিশোধ মালদ্বীপের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। যদি সরকার সফলভাবে অর্থ জোগাড় করতে পারে, তবে বাজারে আস্থা ফিরবে। অন্যথায় দেশটি শ্রীলঙ্কার মতো ঋণখেলাপির ঝুঁকিতে পড়তে পারে।