০২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হস্তক্ষেপে ঘুরে দাঁড়াল ইয়েন, আরও পদক্ষেপের ইঙ্গিত সিন্ধু পানি চুক্তি: ছয় দশক পর বদলে যাওয়া বাস্তবতায় নতুন হিসাবের সময় ভাঁজযোগ্য আইফোনের উৎপাদন দিনে মাত্র কয়েকশ, বাজারে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৫১)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৫
  • 137

শ্রী নিখিলনাথ রায়

গুডল্যাড সাহেব হেষ্টিংসের আজ্ঞাপ্রতিপালনে ত্রুটি করেন নাই। আজিও তাঁহার নাম রঙ্গপুর অঞ্চলে প্রবাদবাক্যের ন্যায় প্রচলিত রহি- য়াছে। দেবীসিংহ এই গুডল্যাড সাহেবের সহায়ক হইয়া রঙ্গপুর অঞ্চলের হতভাগ্য প্রজাদিগের উপর লাঠিবাজী করিয়াছিলেন। হেষ্টিংসের আদেশে ও গুডল্যাড সাহেবের যত্নে, কান্তবাবু বাহারবন্দ হইতে রীতিমত রাজস্ব আদায় করিতে লাগিলেন।

রাণী ভবানীর নিকট হইতে বাহারবন্দ বিচ্যুত হওয়ায়, দেশের যাবতীয় লোক দুঃখিত হইয়াছিল। বিশেষতঃ একজন ব্রাহ্মণ-বিধবার সম্পত্তি বলপূর্ব্বক অন্য এক ব্যক্তিকে প্রদান করায়, সকলে মর্মাহত হইয়াছিল। তৎকালে রাণী ভবানীর আয় যেরূপ সৎ- কার্য্যে ব্যয়িত হইত, সেরূপ আর কখনও হয় নাই বলিয়া লোকের বিশ্বাস। লোকে তাঁহার সম্পত্তিকে সাধারণের সম্পত্তি মনে করিত; কারণ সকলে কোন না কোন প্রকারে তাহা হইতে উপকার প্রাপ্ত হইত।

বিশেষতঃ ব্রাহ্মণগণকে তিনি যেরূপ প্রতিপালন করিয়া গিয়াছেন, তাঁহাদিগকে ব্রহ্মোত্তরপ্রদান ও অন্যান্য অনেক প্রকারে যেরূপ সাহায্য করিয়াছেন, বাঙ্গলা দেশে সেরূপ আর কেহ কখন করিতে পারিবেন কিনা সন্দেহ। সেই জন্য হিন্দুমাত্রেই দুঃখিত হইয়াছিলেন। কান্ত বাবুর হস্তে উক্ত সম্পত্তি পতিত হওয়ায়, তাঁহারা সেরূপ আশা করেন নাই; বরং বিপরীতই মনে করিয়াছিলেন।

কিন্তু এক্ষণে বলিতে হইতেছে যে, মহারাণী স্বর্ণময়ী মহোদয়ার ও তাঁহার উপযুক্ত বংশধর মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্রের সময়ে সাধারণে সেই উপকার কিয়ৎ পরিমাণে প্রাপ্ত হইয়াছেন। বাস্তবিক বাহারবন্দ পরগণা বলপূর্ব্বক কান্তবাবুকে প্রদান করা হেষ্টিংস-চরিত্রের একটি প্রধান কলঙ্ক। মহারাজ নন্দকুমার ১৭৭৫ খৃঃ অব্দের ৮ই মার্চ হেষ্টিংসের নামে যে অভিযোগ-পত্র লিখিয়া কাউন্সিলে উপস্থাপিত করেন, তাহার এক স্থলে, তিনি ইহার উল্লেখ করিয়াছেন। একথা পূর্ব্বেও লিখিত হইয়াছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৫১)

১১:০০:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৫

শ্রী নিখিলনাথ রায়

গুডল্যাড সাহেব হেষ্টিংসের আজ্ঞাপ্রতিপালনে ত্রুটি করেন নাই। আজিও তাঁহার নাম রঙ্গপুর অঞ্চলে প্রবাদবাক্যের ন্যায় প্রচলিত রহি- য়াছে। দেবীসিংহ এই গুডল্যাড সাহেবের সহায়ক হইয়া রঙ্গপুর অঞ্চলের হতভাগ্য প্রজাদিগের উপর লাঠিবাজী করিয়াছিলেন। হেষ্টিংসের আদেশে ও গুডল্যাড সাহেবের যত্নে, কান্তবাবু বাহারবন্দ হইতে রীতিমত রাজস্ব আদায় করিতে লাগিলেন।

রাণী ভবানীর নিকট হইতে বাহারবন্দ বিচ্যুত হওয়ায়, দেশের যাবতীয় লোক দুঃখিত হইয়াছিল। বিশেষতঃ একজন ব্রাহ্মণ-বিধবার সম্পত্তি বলপূর্ব্বক অন্য এক ব্যক্তিকে প্রদান করায়, সকলে মর্মাহত হইয়াছিল। তৎকালে রাণী ভবানীর আয় যেরূপ সৎ- কার্য্যে ব্যয়িত হইত, সেরূপ আর কখনও হয় নাই বলিয়া লোকের বিশ্বাস। লোকে তাঁহার সম্পত্তিকে সাধারণের সম্পত্তি মনে করিত; কারণ সকলে কোন না কোন প্রকারে তাহা হইতে উপকার প্রাপ্ত হইত।

বিশেষতঃ ব্রাহ্মণগণকে তিনি যেরূপ প্রতিপালন করিয়া গিয়াছেন, তাঁহাদিগকে ব্রহ্মোত্তরপ্রদান ও অন্যান্য অনেক প্রকারে যেরূপ সাহায্য করিয়াছেন, বাঙ্গলা দেশে সেরূপ আর কেহ কখন করিতে পারিবেন কিনা সন্দেহ। সেই জন্য হিন্দুমাত্রেই দুঃখিত হইয়াছিলেন। কান্ত বাবুর হস্তে উক্ত সম্পত্তি পতিত হওয়ায়, তাঁহারা সেরূপ আশা করেন নাই; বরং বিপরীতই মনে করিয়াছিলেন।

কিন্তু এক্ষণে বলিতে হইতেছে যে, মহারাণী স্বর্ণময়ী মহোদয়ার ও তাঁহার উপযুক্ত বংশধর মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্রের সময়ে সাধারণে সেই উপকার কিয়ৎ পরিমাণে প্রাপ্ত হইয়াছেন। বাস্তবিক বাহারবন্দ পরগণা বলপূর্ব্বক কান্তবাবুকে প্রদান করা হেষ্টিংস-চরিত্রের একটি প্রধান কলঙ্ক। মহারাজ নন্দকুমার ১৭৭৫ খৃঃ অব্দের ৮ই মার্চ হেষ্টিংসের নামে যে অভিযোগ-পত্র লিখিয়া কাউন্সিলে উপস্থাপিত করেন, তাহার এক স্থলে, তিনি ইহার উল্লেখ করিয়াছেন। একথা পূর্ব্বেও লিখিত হইয়াছে।