০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি, দ্রুত সমঝোতার নির্দেশ

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বৈঠকে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা উঠে এসেছে এবং দ্রুত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতায় পৌঁছাতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে এই বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গত বছরের শুরুর দিকে ওয়াশিংটনে সাক্ষাতের পর এটি ছিল দুই নেতার প্রথম সরাসরি বৈঠক।

বাণিজ্য আলোচনায় নতুন গতি

দুই দেশের চলমান আলোচনায় বাজারে প্রবেশাধিকার, শুল্কবিষয়ক বিরোধ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে গত কয়েক মাসে একাধিক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির ভারত সফরকে নতুন অগ্রগতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আলোচনার পরবর্তী ধাপে চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে।

চুক্তি নিয়ে আশাবাদ

দুই দেশের নেতারা যত দ্রুত সম্ভব অর্থবহ ও বাস্তবসম্মত একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আলোচনার গতি কিছুটা কমে গেলেও এখন আবার ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলছে।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে প্রযুক্তি, উৎপাদন, কৃষি এবং সেবা খাতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়েও আলোচনা

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি, সার ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে সমুদ্রপথে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি সরবরাহে চাপের মুখে পড়েছে।

মোদি সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব দ্রুত শেষ হবে না। জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আরও কিছু সময় বহন করতে হতে পারে।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় নতুন গতি এবং দুই দেশের নেতাদের ইতিবাচক অবস্থান আগামী মাসগুলোতে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে দ্রুত সমঝোতার নির্দেশ, আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য সংকটও।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি, দ্রুত সমঝোতার নির্দেশ

০৭:৫৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক বৈঠকে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা উঠে এসেছে এবং দ্রুত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতায় পৌঁছাতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে এই বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গত বছরের শুরুর দিকে ওয়াশিংটনে সাক্ষাতের পর এটি ছিল দুই নেতার প্রথম সরাসরি বৈঠক।

বাণিজ্য আলোচনায় নতুন গতি

দুই দেশের চলমান আলোচনায় বাজারে প্রবেশাধিকার, শুল্কবিষয়ক বিরোধ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে গত কয়েক মাসে একাধিক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির ভারত সফরকে নতুন অগ্রগতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আলোচনার পরবর্তী ধাপে চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে।

চুক্তি নিয়ে আশাবাদ

দুই দেশের নেতারা যত দ্রুত সম্ভব অর্থবহ ও বাস্তবসম্মত একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আলোচনার গতি কিছুটা কমে গেলেও এখন আবার ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলছে।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে প্রযুক্তি, উৎপাদন, কৃষি এবং সেবা খাতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়েও আলোচনা

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি, সার ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে সমুদ্রপথে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি সরবরাহে চাপের মুখে পড়েছে।

মোদি সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব দ্রুত শেষ হবে না। জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আরও কিছু সময় বহন করতে হতে পারে।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় নতুন গতি এবং দুই দেশের নেতাদের ইতিবাচক অবস্থান আগামী মাসগুলোতে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে দ্রুত সমঝোতার নির্দেশ, আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য সংকটও।