০১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা যুদ্ধ থামছে না কেন? অপরাধ যখন ধর্মের পরিচয় পায় ঝলমলে শিল্পে আত্মভালোবাসার বার্তা দিচ্ছেন সারা শাকিল শতায়ু বাবা-মায়ের সন্তানদের আয়ু ও সুস্বাস্থ্যের সম্ভাবনা বেশি শিক্ষিত, দক্ষ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণদেরই ফাঁদে ফেলছে মানবপাচারকারীরা পাকিস্তান-রাশিয়া সম্পর্ক: অবহেলিত হলেও কেন বাড়ছে কৌশলগত গুরুত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ, সুযোগ নিয়ে থাকছে প্রশ্ন গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন তথ্য, জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে হচ্ছে না

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসায় বড় ধাক্কা, বাড়তি খরচে টিকে থাকাই এখন চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকলেও দেশটির অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসা এখন কঠিন সময় পার করছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, আমদানি শুল্কের চাপ, মূল্যস্ফীতির নতুন ঢেউ এবং ঋণের উচ্চ ব্যয় ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ স্থগিত করেছে, আবার কেউ কেউ সম্প্রসারণ পরিকল্পনাও বন্ধ রেখেছে।

আশা থেকে অনিশ্চয়তায়

বছরের শুরুতে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা মালিক আশাবাদী ছিলেন। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমছিল, ঋণের খরচও নেমে আসছিল এবং কর সুবিধার সুযোগ তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বাড়তে শুরু করে, যার প্রভাব পড়ে প্রায় সব খাতে।

অর্থনৈতিক প্রত্যাশা নিয়ে সাম্প্রতিক জরিপগুলো দেখিয়েছে, ক্ষুদ্র ব্যবসা মালিকদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। লাভের প্রবৃদ্ধিও গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতিতে নেমে এসেছে।

খরচ বাড়ছে, মুনাফা কমছে

নির্মাণ, খুচরা বিক্রি, খাদ্যসেবা ও ল্যান্ডস্কেপিংসহ বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, কাঁচামাল ও পরিবহন ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পণ্য পরিবহন, সরবরাহ এবং সেবা পরিচালনার খরচও বেড়েছে।

অনেক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা সচল রাখতে ব্যক্তিগত সঞ্চয় ব্যবহার করতে হয়েছে। কেউ কেউ কর্মীদের বেতন দিতে নিজের অর্থ খরচ করেছেন। ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

The U.S. Economy Is Leaving Small Businesses Behind - The New York Times

কর্মসংস্থানেও প্রভাব

ক্ষুদ্র ব্যবসা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের একটি বড় উৎস। দেশটির মোট কর্মসংস্থানের প্রায় অর্ধেকই আসে এ খাত থেকে। কিন্তু বাড়তি ব্যয়ের চাপে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। কিছু ক্ষেত্রে কর্মী ছাঁটাইও করতে হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান ব্যয় কাঠামো দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাজারে টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে

অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ তাদের হাতে অতিরিক্ত মজুত বা বড় আর্থিক সুরক্ষা থাকে না। নতুন শুল্ক, সরবরাহ ব্যয় এবং জ্বালানি খরচের চাপ সরাসরি তাদের ওপর পড়ে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছোট ব্যবসার দেউলিয়া হওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়তি শুল্ক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এ প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

তবু আশার আলো

সব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও কিছু ব্যবসা এখনো টিকে আছে স্থিতিশীল চাহিদার কারণে। শ্রমবাজারে ধীরে ধীরে গতি ফিরছে এবং কিছু খাতে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, জ্বালানির দাম কমতে শুরু করলে এবং অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা হ্রাস পেলে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে পারে।

তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য ছোট উদ্যোক্তার জন্য সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো ব্যবসার দরজা খোলা রাখা এবং ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তি খরচ ও মূল্যস্ফীতির চাপে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছে। কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধিতেও পড়ছে প্রভাব।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদেও এবার চালু হচ্ছে ‘আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ’ ব্যবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ব্যবসায় বড় ধাক্কা, বাড়তি খরচে টিকে থাকাই এখন চ্যালেঞ্জ

০৭:৪০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকলেও দেশটির অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসা এখন কঠিন সময় পার করছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, আমদানি শুল্কের চাপ, মূল্যস্ফীতির নতুন ঢেউ এবং ঋণের উচ্চ ব্যয় ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ স্থগিত করেছে, আবার কেউ কেউ সম্প্রসারণ পরিকল্পনাও বন্ধ রেখেছে।

আশা থেকে অনিশ্চয়তায়

বছরের শুরুতে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা মালিক আশাবাদী ছিলেন। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমছিল, ঋণের খরচও নেমে আসছিল এবং কর সুবিধার সুযোগ তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বাড়তে শুরু করে, যার প্রভাব পড়ে প্রায় সব খাতে।

অর্থনৈতিক প্রত্যাশা নিয়ে সাম্প্রতিক জরিপগুলো দেখিয়েছে, ক্ষুদ্র ব্যবসা মালিকদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। লাভের প্রবৃদ্ধিও গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতিতে নেমে এসেছে।

খরচ বাড়ছে, মুনাফা কমছে

নির্মাণ, খুচরা বিক্রি, খাদ্যসেবা ও ল্যান্ডস্কেপিংসহ বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, কাঁচামাল ও পরিবহন ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পণ্য পরিবহন, সরবরাহ এবং সেবা পরিচালনার খরচও বেড়েছে।

অনেক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা সচল রাখতে ব্যক্তিগত সঞ্চয় ব্যবহার করতে হয়েছে। কেউ কেউ কর্মীদের বেতন দিতে নিজের অর্থ খরচ করেছেন। ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

The U.S. Economy Is Leaving Small Businesses Behind - The New York Times

কর্মসংস্থানেও প্রভাব

ক্ষুদ্র ব্যবসা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের একটি বড় উৎস। দেশটির মোট কর্মসংস্থানের প্রায় অর্ধেকই আসে এ খাত থেকে। কিন্তু বাড়তি ব্যয়ের চাপে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। কিছু ক্ষেত্রে কর্মী ছাঁটাইও করতে হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান ব্যয় কাঠামো দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাজারে টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে

অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ তাদের হাতে অতিরিক্ত মজুত বা বড় আর্থিক সুরক্ষা থাকে না। নতুন শুল্ক, সরবরাহ ব্যয় এবং জ্বালানি খরচের চাপ সরাসরি তাদের ওপর পড়ে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছোট ব্যবসার দেউলিয়া হওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়তি শুল্ক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এ প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

তবু আশার আলো

সব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও কিছু ব্যবসা এখনো টিকে আছে স্থিতিশীল চাহিদার কারণে। শ্রমবাজারে ধীরে ধীরে গতি ফিরছে এবং কিছু খাতে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, জ্বালানির দাম কমতে শুরু করলে এবং অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা হ্রাস পেলে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে পারে।

তবে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য ছোট উদ্যোক্তার জন্য সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো ব্যবসার দরজা খোলা রাখা এবং ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তি খরচ ও মূল্যস্ফীতির চাপে ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছে। কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধিতেও পড়ছে প্রভাব।